শুক্রবার   ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   ফাল্গুন ৭ ১৪৩২   ০৩ রমজান ১৪৪৭

তরুণ কণ্ঠ|Torunkantho
২৯৭

সিইউজে অফিসে গিয়ে ক্ষমা চাইলেন আবু আজাদের হামলাকারীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৯ জানুয়ারি ২০২৩  

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় অবৈধ ইট ভাটার সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হন সাংবাদিক আবু আজাদ। এ ঘটনায় অভিযুক্ত হামলাকারীরা চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন (সিইউজে) অফিসে গিয়ে ক্ষমা চেয়েছেন। শনিবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে সিইউজে কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে ভুক্তভোগী সাংবাদিক আবু আজাদ ও সিইউজে নেতাদের কাছে দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা প্রার্থনা করেন তারা।
রাঙ্গুনিয়ার ইসলামপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী ও সদস্য মহিউদ্দিন তালুকদার মোহন ভুক্তভোগীর কাছে ক্ষমা চান। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না বলেও অঙ্গীকার করেন তারা।

আবু আজাদের ওপর হামলার ঘটনা, মামলা দায়েরসহ সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে শনিবার দুপুরে সিইউজে কার্যালয়ে সাংবাদিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন রাঙ্গুনিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার সামশুল আলম তালুকদার। তিনি এসময় আবু আজাদের ওপর হামলার ঘটনাকে ন্যাক্কারজনক ও নিন্দনীয় আখ্যা দিয়ে বলেন, এ ঘটনায় আমরা লজ্জিত।

ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না উল্লেখ করে তিনি বিষয়টিতে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখার আহ্বান জানান। এছাড়াও আলাপ আলোচনার মাধ্যমে একটি সমাধানে উপনীত হতে সাংবাদিক নেতাদের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।

সিইউজে সভাপতি তপন চক্রবর্তী বলেন, সাংবাদিকরা কাউকে প্রতিপক্ষ মনে করে না। অন্যায়-অনিয়মের বিরুদ্ধে কলম চালানো সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব। এ দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে একজন সাংবাদিক হামলা ও নির্যাতনের শিকার হওয়া সম্পূর্ণ অনাকাঙ্ক্ষিত। এটা পক্ষান্তরে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর হামলার শামিল। তিনি ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনা আর না ঘটে সে ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক ও সজাগ থাকার অনুরোধ জানান।

এসময় সিইউজে সাধারণ সম্পাদক ম. শামসুল ইসলাম, সিনিয়র সহ-সভাপতি মোহাম্মদ রুবেল খান, সহ-সভাপতি অনিন্দ্য টিটো, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মহরম হোসাইন, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক সরওয়ার কামাল, নির্বাহী সদস্য আলাউদ্দিন হোসেন দুলাল, বিএফইউজের নির্বাহী সদস্য আজহার মাহমুদ, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড ব্যুরো প্রধান সামছুদ্দিন ইলিয়াস এবং ভুক্তভোগী সাংবাদিক আবু আজাদ উপস্থিত ছিলেন।

গত ২৫ ডিসেম্বর সকালে রাঙ্গুনিয়ায় অবৈধ ইট ভাটার ছবি তোলায় স্থানীয় ইউপি সদস্য মহিউদ্দীন তালুকদার মোহনসহ ৫-৬ জন পিস্তল ঠেকিয়ে সাংবাদিক আবু আজাদকে মারধর করেন। অস্ত্রের মুখে মোহন ওই সাংবাদিককে গাড়িতে তুলে স্থানীয় মঘাছড়ি বাজারে নিয়েও কয়েক দফা পেটানো হয়। এরপর ইউপি সদস্য মোহন তার কার্যালয়ে সাংবাদিক আবু আজাদকে বেঁধে রেখে নির্যাতন করেন। এ ঘটনায় ২৬ ডিসেম্বর রাঙ্গুনিয়া থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক আবু আজাদ। ওই মামলায় উচ্চ আদালত থেকে অন্তবর্তীকালীন জামিন নেন সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী ও মহিউদ্দিন তালুকদার মোহন। তাছাড়া এ ঘটনায় ইটভাটা ম্যানেজার কাঞ্চল তুরি গ্রেফতার হন। এরপর ২২ দিন কারাভোগ শেষে ১৮ জানুয়ারি জামিন পান তিনি।

এই বিভাগের আরো খবর