মঙ্গলবার   ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   মাঘ ২১ ১৪৩২   ১৫ শা'বান ১৪৪৭

তরুণ কণ্ঠ|Torunkantho
১৩

রাশিয়ায় ইউরেনিয়াম পাঠাতে আগ্রহী ইরান, আলোচনার ইঙ্গিত

তরুণকণ্ঠ অনলাইন

প্রকাশিত: ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬  

 

ইরান তার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের একটি অংশ রাশিয়ায় পাঠানোর সম্ভাবনা উন্মুক্ত করেছে। জর্ডানভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম রোয়া নিউজের তথ্য অনুযায়ী, এই বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়েছেন দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তারা, যা ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি জেসিপিওএ-এর ধারার সঙ্গে মিলে যাচ্ছে।

 

সম্প্রতি মস্কো সফরে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে বিষয়টি উত্থাপন করেন ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব আলী লারিজানি। এই বৈঠকে তিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ব্যক্তিগত বার্তা পুতিনের কাছে পৌঁছে দেন। সূত্রের বরাতে জানা গেছে, আলোচনায় ইরানের পক্ষ থেকে ইউরেনিয়াম পাঠানোর আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে।

 

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, কেবল পারমাণবিক কর্মসূচিকেন্দ্রিক আলোচনায় সমাধানের বিষয়ে তেহরান আশাবাদী। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আস্থাহীনতার কথাও তিনি তুলে ধরেছেন, বিশেষ করে অতীতে চুক্তি থেকে ওয়াশিংটনের একতরফা সরে যাওয়ার অভিজ্ঞতার কারণে।

 

তেহরান স্পষ্ট করেছে, তারা পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করতে চায় না। বরং বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য একটি আঞ্চলিক পারমাণবিক কনসোর্টিয়াম গঠনের প্রস্তাব দিচ্ছে, যেখানে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম ইরানের বাইরে পরিচালিত হবে। রাশিয়া এই প্রক্রিয়ায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নিতে আগ্রহী। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, “যুক্তরাষ্ট্রসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের উদ্বেগ বিবেচনায় নিয়ে উত্তেজনা কমাতে ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত মস্কো।”

 

জেসিপিওএ চুক্তির আওতায় অতীতে ইরানের অতিরিক্ত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রাশিয়ার কাছে পাঠানো হয়েছিল।

 

আয়াতুল্লাহ খামেনি সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক আগ্রাসন হলে তা পুরো অঞ্চলজুড়ে বড় ধরনের সংঘাতের জন্ম দিতে পারে। ইতোমধ্যেই আরব সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি জোরদার করা হয়েছে, যেখানে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন রণতরী মোতায়েন করা হয়েছে।

 

ইরান স্পষ্ট করেছে, আলোচনায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বা আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থনের বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হবে না। আলোচনা সীমিত থাকবে কেবল পারমাণবিক ইস্যুতেই।

 

অন্যদিকে, ইসরায়েল ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সংক্রান্ত বিধিনিষেধ ছাড়া কোনো চুক্তি হলে তা তাদের নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি হিসেবে দেখছে। বিশেষ করে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রকে অস্তিত্বগত ঝুঁকি হিসেবে তারা বিবেচনা করছে।

 

কূটনৈতিক সূত্র জানায়, মিসর, কাতার, তুরস্ক ও ওমানের মধ্যস্থতায় শুক্রবার তুরস্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হতে পারে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে বৈঠকে বসতে পারেন, যেখানে পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে সম্ভাব্য সমঝোতা আলোচনা হবে।

এই বিভাগের আরো খবর