শুক্রবার   ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   ফাল্গুন ৭ ১৪৩২   ০৩ রমজান ১৪৪৭

তরুণ কণ্ঠ|Torunkantho
২৫৫

মান্দায় গভীর নলকূপের পরিচালনা কমিটি বিলুপ্তি ঘোষনা

মাহবুবুজ্জামান সেতু

প্রকাশিত: ২৫ জানুয়ারি ২০২৩  

 নওগাঁর মান্দায় গোবিন্দপুর (শাহানাপাড়া) গ্রামের গভীর নলকূপের পরিচালনা কমিটি বিলুপ্তি ঘোষনা করা হয়েছে। গোবিন্দপুর গ্রামের চয়েন উদ্দিন মন্ডলের ছেলে সাইদুর রহমান ওই গভীর নলকূপের পরিচালনা কমিটির সভাপতি পদ থেকে অব্যাহতি প্রদান ও কমিটি  বিলুপ্তি ঘোষনা করেছেন।

তিনি জানান, বিগত ২০২১ সালে ওই নলকূপের অধিনস্থ কৃষকদের সর্ব সম্মতিক্রমে সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে স্থানীয় কৃষকদের নিয়ে সুষ্ঠভাবে নলকূপটি পরিচালনা করে আসছিলেন। ২০২১ সালে বোরো মৌসুমে প্রতি বিঘা জমিতে ১২০০/- (এক হাজার দুইশত) টাকা হিসেবে সেচ প্রদান করার কারণে সুষ্ঠভাবে ফসল উৎপন্ন হয়। তদুপরি উক্ত বছরে সকল কৃষকদের সম্মুখে হিসাব নিকাশ উপস্থাপন করা হয়। এতে কৃষকগণ সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন এবং অবশিষ্ট টাকা দিয়ে সকল কৃষকদের নিয়ে মধ্যাহ্নভোগের আয়োজন করা হয়। কিন্তু ২০২২ বোরো মৌসুমে অত্র গভীর নলকূপের অপারেটর এবং তার ছেলে পারভেজ, স্বামী রেজাউল ইসলাম উক্ত পরিচালনা কমিটিকে কোন তোয়াক্কা না করে কৃষকদের অনিচ্ছা স্বত্ত্বেও পেশি শক্তির জোরে প্রতি বিঘা জমিতে ১৪০০/- (এক হাজার চারশত) টাকা সেচ ভাড়া আদায় করে। এছাড়াও আমন মৌসুমে প্রতি ঘন্টা ২০০-২৫০ টাকা করে আদায় করে। উক্ত বছরে অপারেটর, ক্যাশিয়ার পরিচালনা কমিটিকে কোন হিসাব নিকাশ প্রদান করে নাই। এতে কৃষক অসন্তুষ্টি প্রদান করে এবং টিক অপারেটরকে পরিবর্তনের প্রতিবাদ করতে থাকে। ২০২৩ বোরো মৌসুমে পূর্বের হিসাব নিকাশ প্রদান এবং আন্ডারগ্রাউন্ড ড্রেনের জন্য ৩২০০ ফিট পাইপ পাওয়ার কথা বলে আমার কাছ থেকে স্বাক্ষর গ্রহণ করে। কিন্তু পরবর্তীতে অপারেটর ও তার ছেলে পারভেজ একচ্ছত্রভাবে বর্তমান বোরো মৌসুমের সেচ ভাড়া প্রতি বিঘা ১৬০০/- টাকা আদায়ের কথা বলেন। এতে আমি আপত্তি এবং দ্বিমত পোষণ করি। এছাড়া ২০২৩ বোরো মৌসুম আসার পূর্বেই কৃষকগণ উক্ত অপারেটরকে পরিবর্তনের জন্য বিএমডিএ মান্দা জোন, নওগা বরাবর লিখিত আবেদন করেন এমতবস্থায় উক্ত কমিটির কার্যক্রম চলমান রাখলে কৃষকাণ ক্ষতিগ্রস্থ হবে এবং আমার মান সম্মান ক্ষুন্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে সকল সদস্যগনের সম্মুখে গত ১৯/০১/২০১৩ ইং তারিখে আমি উক্ত গভীর নলকূপের পরিচালনা কমিটির সভাপতি পদ থেকে অব্যাহতিসহ ওই কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেছি। বিষয়টি মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষসহ (বিএমডিএ) বিভিন্ন অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদেরকেও পর্যায়ক্রমে লিখিতভাবে  জানানো হবে বলেও জানান তিনি।

গোবিন্দপুর গ্রামের ভূক্তভোগী কৃষক রহমতুল্লাহ,রিয়াজ উদ্দীন,আলহাজ্ব আব্দুল জব্বার, মাওঃ দারাজ উদ্দীন,সাইফুল ইসলাম বাবু,ইদ্রিস আলীসহ অনেক কৃষক অভিযোগ করে বলেন, গভীর নলকূপটি ১৯৮৫ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয়। এ নলকূপের অধীনে গোবিন্দপুর এবং বাঙ্গালপাড়া গ্রামের প্রায় ১২০/১৩০জন  কৃষকের ১৮০ বিঘা জমিতে সেচ দেওয়া হয়। ১৯৮৫ সালে গভীর নলকূপটি স্থাপনের পর থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত রিয়াজ উদ্দীন শাহানা নলকূপ পরিচালনাকারী (অপারেটর) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু ২০১৯ সালে বোরো মৌসুমে ধান লাগানোর পর মাঝামাঝি সময়ে ওই গ্রামেরই পারুল আক্তার নামে এক ভূমিহীন নারীর ছেলে পারভেজ সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে এবং দলীয় প্রভাব খাটিয়ে মান্দা উপজেলা বিএমডিএ অফিসের কর্মকর্তাদের যোগসাজশে এবং অত্র স্কীমের কৃষকদের না জানিয়ে তার মায়ের নামে অপারেটরী নিয়ে নেয়। এরপর থেকে অদ্যবধি জোরপূর্বকভাবে সেটি তাদের দখলে নিয়ে রেখেছেন। বর্তমানে ওই গভীর নলকূপ সংক্রান্ত যাবতীয় কাগজপত্র এবং হিসাব-নিকাশ ভূমিহীন নারী অপারেটর পারুলের ছেলে পারভেজ এবং তার স্বামী রেজাউল ইসলামের কাছে রয়েছে বলেও জানান তারা। এতে অত্র এলাকাজুড়ে স্থানীয় কৃষকদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।  

অপারেটর পারুলের ছেলে পারভেজ এবং তার স্বামী রেজাউল ইসলাম তাদের বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন যে, জমি সংক্রান্ত বিরোধের কারণে তাদের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ করা  হচ্ছে।

মান্দা  উপজেলা বিএমডিএ কর্মকর্তা সহকারী  প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন বলেন, বিষয়টি অবগত নয়। কমিটির ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহণ করবেন বলেও জানান তিনি।

এই বিভাগের আরো খবর