শনিবার   ০৩ জানুয়ারি ২০২৬   পৌষ ১৯ ১৪৩২   ১৪ রজব ১৪৪৭

তরুণ কণ্ঠ|Torunkantho
২১৫

নড়িয়ায় স্বামী ও শাশুড়ির নির্যাতনের শিকার হয়ে হাসপাতালে ভর্তি

নুরুজ্জামান শেখ, শরীয়তপুর

প্রকাশিত: ১ সেপ্টেম্বর ২০২১  

শরীয়তপুর নড়িয়া উপজেলার ভোজেশ্বর ইউনিয়নের উপোসী গ্রামে স্বামী ও শাশুড়ি নির্যাতনের শিকার হয়ে তামান্না আক্তার (২৬) শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভর্তি রয়েছে। তামান্নার এখন একটাই চাওয়া স্বামী হুমায়ুন কবির সরদার ওরফে জুয়েল (৩২) এবং শাশুড়ি ফরিদা পারভীন(৬৫) এদের অমানবিক নির্যাতনের হাত থেকে সে এখন বাঁচতে চায়। গত ২৭ই আগস্ট ২০২১ সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে ভোজেশ্বর ইউনিয়নের উপসি গ্রামের  তামান্নার স্বামীর বাড়িতে স্বামী হুমায়ুন কবির এবং শাশুড়ি ফরিদা পারভীন এরা তামান্না আক্তার কে যৌতুকের জন্য অমানবিক নির্যাতন করে এমন অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে।

যৌতুকের জন্য নির্যাতনের শিকার হয়ে তামান্না আক্তার গণমাধ্যমকে বলেন গত সাত বছর আগে ২০১৪ সালে পারিবারিক ভাবে হুমায়ুন কবির সরদার ওরফে জুয়েল এর সাথে আমার বিবাহ হয়। আমার সংসারের সুখের কথা ভাবিয়া আমার পরিবার বিবাহের সময় স্বর্ণ অলংকার ও ঘর সাজানো আসবাবপত্র আমাকে দেয়। বিবাহের কিছুদিন যেতে না যেতেই যৌতুকের দাবিতে বিভিন্ন সময়ে আমার উপরে আসে অমানুষিক নির্যাতন। আমি আমার পরিবারের কথা ভেবে আমার এই নির্যাতনের কথা আমি পরিবারকে বলতে পারিনি। আমার স্বামী হুমায়ুন কবির ঢাকা  সিআইডি কেন্দ্রীয় অফিসে কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে চাকরি করে। সেই সুবাদে আমি ঢাকায় স্বামীর বাড়িতে থাকি।আমি ঢাকা স্বামী সাথে থাকা অবস্থায় আমি প্রথম বাচ্চা কনসিভ করি। কিন্তু তার ২লক্ষ টাকার যৌতুকের দাবিতে আমাকে মারপিট ও অমানবিক নির্যাতনের কারণে আমার প্রথম বাচ্চাটি নষ্ট হয়ে যায়। এর কারণে ঢাকা শান্তিনগর ইসলামিয়া হাসপাতাল এ দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন ছিলাম। আমার সাত বছর সংসার জীবনে যৌতুকের দাবিতে বিভিন্ন সময়ে অমানবিক নির্যাতন ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়ে আসছি। আমার পরিবারের কথা ভেবে নিরবে সহ্য করে আসছি। আমি আর পারছিনা।  ২০১৫ সালে আমার একটি কন্যাসন্তান জন্মগ্রহণ করে। তাহার বর্তমান বয়স ৫ বছর নাম আয়েশা সিদ্দিকা। আমার কন্যাসন্তান হওয়ার কারণে আমার উপর আরো বেশি নির্যাতন চালায়। আমার স্বামী কন্যা সন্তানকে আজ মেনে নিতে পারেনি। তার একটাই কথা আমি কেন ছেলে সন্তান জন্ম দিলাম না। আমি দীর্ঘদিন ভোজেশ্বর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের পাচক গ্রামের বাবার বাড়িতে থাকি। আমার স্বামী দেশের বাড়িতে আসলে আমাকে খবর দিলে আমি স্বামীর বাড়িতে চলে আসি। কিছুদিন যাওয়ার পর আমার স্বামী জমি ক্রয়ের কথা বলে দুই লাখ টাকা বাপের বাড়ি থেকে আনতে বলে।আমি টাকা আনতে অস্বীকার করিলে আমার শাশুড়ির কুপরামর্শে আমার স্বামী আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে মারপিট করে। আমি ওই মুহূর্তে বাঁচার জন্য চিৎকার করিলে স্থানীয় লোকজন এসে আমাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে প্রেরণ করে। আমার স্বামী হুমায়ূন কবির এবং শাশুড়ি ফরিদা পারভীন এদের বিচারের দাবীতে এদের বিরুদ্ধে নড়িয়া থানায় আমি বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করি।

নড়িয়া থানার অফিসার ইনচার্জ অবনী শংকর কর এর সাথে মুঠোফোনে আলাপকালে তিনি গণমাধ্যমকে জানান এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হয়েছে। মামলাটি তদন্তাধীন।

এই বিভাগের আরো খবর