শনিবার   ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   ফাল্গুন ২ ১৪৩২   ২৬ শা'বান ১৪৪৭

তরুণ কণ্ঠ|Torunkantho
২৮২

তবে কি বিনাচিকিৎসায় অন্ধ হবে চক্ষু ক্যান্সারে আক্রান্ত কুমিল্লার

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯  

মহান আল্লাহর অফুরন্ত নেয়ামতের আরো একটি হলো দৃষ্টিশক্তি। যার চোখের আলো নেই সে কেবল জানে অন্ধত্বের অভিশাপ নিয়ে সারাটা জীবন কাটাতে কতটা কষ্টে হয় । বেঁচে থাকা যেন এক নরক যন্ত্রণা। কেউ জন্ম থেকে অন্ধত্বের অভিশাপে ভোগে আবার কেউ বা বিভিন্ন অসুখ বিসুখ কিংবা বড় ধরনে কোন দুর্ঘটনায় চোখের আলোকে চিরতরে  হারায়। 

এমনই একজন বুড়িচংয়ের ৩ বছরের ফুটফুটে শিশু মোঃ আরিফ। জন্মের ১বছর পর থেকে তার চোখ দুটি বাঁকা হয়ে যায়। দরিদ্র কৃষক পিতা বিভিন্ন ডাক্তারের নিকট চিকিৎসা করাতে থাকেন। কিন্ত তার অবস্থা দিনে দিনে খারাপ হতে থাকে ক্রমেই। তার সাথে ছেলে চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে গিয়ে বাবার আর্থিক অবস্থাও খারাপ হয়ে যায়। এমনিতে হতদরিদ্র কৃষক। তার উপরে শিশু ছেলের এমন অসুখ। কি করবে এখন?

জেলার বুড়িচং উপজেলার ষোলনল ইউনিয়ননের গাজীপুর পূর্ব পাড়া গ্রামের হতদরিদ্র কৃষক মোঃ সাইফুল ইসলাম খোকন। তার অবুঝ নিষ্পাপ ছেলের চোখের আলো ধরে রাখতে পাগলের মতো ডাক্তারদের নিকট ছুটাছুটি করেন। তবুও একটি চোখের আলো চিরতরে নিভে যায় কিছুদিন আগে। বাকি চোখের আলো ধরে টাকার মতো টাকা-পয়সা তার নেই। তাই দুই চোখে অন্ধকার দেখছেন। ছেলের বাকি চোখটিও কি কেটে ফেলে দিয়ে চির অন্ধত্বের কবলে রেখে দিবে না কি শেষ চেষ্টা করে দেখবে? কিন্ত কি করবে। চিকিৎসার করার মতো টাকা নেই তার। অভাবের সংসার। ডাল-ভাত জোগাড় করবে না ছেলের চিকিৎসার টাকা  জোগাবেন?

ছেলেকে প্রথমে কুমিল্লা চক্ষু হসপিটালে চিকিৎসা করেন। কোন ভালো ফলাফল না পাওয়ায় পরবর্তীতে চক্ষু বিশেষজ্ঞ ও সার্জন ডাঃ এ.এস.এম জিয়া উদ্দিন সিকাদার এর নিকট অনেক দিন চিকিৎসা করেন। কিন্ত তার অধীনে চিকিৎসা রোগীর উন্নত না হওয়ায় তিনি ঢাকার জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে তাকে প্রেরণ করলে এ হাসপাতালের চক্ষু বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ডাক্তার শওকত আরা শাকুর'র অধীনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার পরামর্শে ক্যান্সারে আক্রান্ত ডান চোখটি অপারেশন করে ফেলে দেওয়া হয়।
এখন আবার বাম চোখটিও আক্রান্ত হওয়ার উপক্রম হয়েছে। বাকি চোখ রক্ষা করার জন্য অনেক টাকার প্রয়োজন। এই ব্যয় ভার নির্বাহ করা গরীব কৃষকের পক্ষে সম্ভব নয়। 

ডাক্তাররা জানিয়েছ উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতে নিতে হবে আরিফ কে। দ্রুত সুচিকিৎসা না পেলে হয়তো চোখের ক্যান্সারে আক্রান্ত আরিফ চিরতরে অন্ধ হয়ে যেতে পারেন। চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন ৭/৮লক্ষ টাকা। কোথায় পাবে এতো টাকা গরিব কৃষক খোকন মিয়া.?  সন্তানের অন্ধত্ব হওয়ার কথা বলে হু হু করে ফুপিয়ে কেঁদে ওঠেন মা। প্রতিবেদকের সামনেই বোবা দৃষ্টিতে অসহায়ের মত সন্তানের মুখেট দিকে চেয়ে থাকেন নির্বাক নিরুপায় পিতা।

আর তাই দেশের বিত্তবানদের সহযোগীতা প্রয়োজন।

সাহায্যে পাঠানোর ঠিকানা
মোঃ সাইফুল ইসলাম খোকন
(আরিফুলের বাবা) 
গ্রাম: গাজীপুর পূর্বপাড়া,
ডাকঘর: খাড়াতাইয়া গাজীপুর
উপজেলা-বুড়িচং, 
জেলা-কুমিল্লা।
সোনালী ব্যাংক, বুড়িচং শাখা 
সঞ্চয়ী হিসাব নং-২০৯০
বিকাশ নম্বর: ০১৬৪৬-২৫১৯৫৭

এই বিভাগের আরো খবর