বৃহস্পতিবার   ০১ জানুয়ারি ২০২৬   পৌষ ১৮ ১৪৩২   ১২ রজব ১৪৪৭

তরুণ কণ্ঠ|Torunkantho
১৫

রাজনৈতিক সঙ্কটের মাঝেও লিবিয়ায় তরুণদের ডিজিটাল বিপ্লব

রাফিউল ইসলাম তালুকদার

প্রকাশিত: ১ জানুয়ারি ২০২৬  

রাজনৈতিক অচলাবস্থার মাঝেও লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলি ডিজিটাল উদ্যোগের কেন্দ্র হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে। ধ্বংসপ্রাপ্ত অফিসের জায়গায় কো-ওয়ার্কিং স্পেস তৈরি হয়েছে, স্টার্টআপগুলো নগদ ফিনটেক সেবা দিচ্ছে, যার ফলশ্রুতিতে সোশ্যাল মিডিয়ায় “লিবিয়ার টেক মোমেন্ট” নিয়ে আলোচনা ছড়াচ্ছে। মিলিশিয়া শাসন, বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং প্রশাসনিক জটিলতার প্রায় ধ্বংসপ্রাপ্ত এই শহরে, নতুন প্রযুক্তি উদ্যোগ দেশটির ভবিষ্যত অগ্রগতিতে আশা সঞ্চার করছে।

 

লিবিয়ার জনসংখ্যার বড় একটি অংশ ৩৫ বছরের কম বয়সী। এই প্রজন্ম বিপর্যয়, অনিয়ম এবং দ্রুত পরিবর্তনের মধ্যে বড় হয়েছে। তাদের জন্য প্রযুক্তি কেবল প্রতিশ্রুতি নয়, বরং আয়, যোগাযোগ এবং দৃশ্যমানতার কার্যকর হাতিয়ার। ত্রিপোলির ডিজিটাল উদ্যোগগুলো এই বাস্তববাদকে প্রতিফলিত করছে, যেখানে মোবাইল ভিত্তিক সেবা, সোশ্যাল কমার্স, রাইড শেয়ারিং অ্যাপস এবং ফ্রিল্যান্স কাজ একত্রিত হয়ে শহরটিতেএকটি ইকোসিস্টেম তৈরি করেছে।

 

ফিনটেক বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, নগদ অর্থের অভাব এবং ভঙ্গুর ব্যাংকিং ব্যবস্থার কারণে ডিজিটাল পেমেন্টের চাহিদা বেড়েছে। ২০২৫ সালে লিবিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, ইলেকট্রনিক লেনদেন প্রায় ৭৫% বৃদ্ধি পেয়েছে এবং পয়েন্ট-অফ-সেল টার্মিনাল প্রায় ৯২% বাড়েছে। একই সময়ে, টার্বো-এর মতো রাইড শেয়ারিং  সেবা শহরে চলাচল সহজ করছে। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে বিক্রয় করছেন, অনানুষ্ঠানিক কুরিয়ার ব্যবস্থার মাধ্যমে ডেলিভারি দিচ্ছেন। নারীরাও এই উদ্যোগে সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন।

 

তবে ত্রিপোলির ডিজিটাল ইকোসিস্টেম এখনও ভঙ্গুর। অনেক উদ্যোগ অনানুষ্ঠানিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে, কোনও পূর্ণাঙ্গ ই-কমার্স আইন নেই, এবং অবকাঠামোগত দিক থেকেও অনেকদূর এগুতে হবে শহরটিকে। ভেঞ্চার ফান্ডিং সীমিত থাকলেও প্রাথমিক সাফল্য যেমন মাটা-এর  ১০০,০০০ ডলার তহবিল সংগ্রহ এই খাতের সম্ভাবনাকেই নির্দেশ করছে। ইউরোপীয়ান ইউনিয়নের ফান্ডিং প্রাপ্ত ইনকিউবেটর প্রোগ্রামগুলোও স্টার্টআপগুলোকে সহায়তা করছে।

 

চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও, ডিজিটালভাবে দক্ষ, উদ্যমী এবং পরীক্ষামূলক মানসিকতার এই প্রজন্ম ভবিষ্যতের সম্ভাবনা তৈরি করছে। ফিনটেক, লজিস্টিক, রাইড শেয়ারিং  এবং সোশ্যাল কমার্সের মতো খাতগুলো নিকট ভবিষ্যতে আরও সম্প্রসারিত হতে পারে। নীতিগত সমর্থন, বিনিয়োগ এবং অবকাঠামোগত উন্নতি থাকলে, ত্রিপোলির এই উদ্ভাবনী উদ্যোগগুলো কেবল শহরকে সংকট থেকে বের করে আনবে না, বরং লিবিয়ায় একটি স্থায়ী ডিজিটাল অর্থনীতি গড়ে তুলতে বড় ভূমিকা রাখবে।

এই বিভাগের আরো খবর