বিনোদন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩ ঘন্টা আগে, ০২:৫৬ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

নিজেকে বড় পর্দার জন্য অপ্রস্তুত মনে করছেন আইশা খান

ছবি: সংগৃহীত

বর্তমান প্রজন্মের দর্শকপ্রিয় অভিনেত্রী আইশা খান সমসাময়িক অন্যদের চেয়ে কিছুটা আলাদা পথেই হাঁটছেন। জনপ্রিয়তার সস্তা জোয়ারে গা না ভাসিয়ে ধীরস্থিরভাবে নিজের ক্যারিয়ার সাজাতে পছন্দ করেন তিনি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের অভিনয় জীবন, ক্যারিয়ারের সীমাবদ্ধতা এবং ভবিষ্যৎ ভাবনা নিয়ে অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে আত্মোপলব্ধি শেয়ার করেছেন এই অভিনেত্রী।

গ্ল্যামার জগতের গড্ডালিকা প্রবাহে গা না ভাসিয়ে আইশা খান বরাবরই বেছে বেছে কাজ করার পক্ষপাতি। নিজের কাজের মূল্যায়ন করতে গিয়ে তিনি অকপটে নিজের ঘাটতিগুলো স্বীকার করেছেন। আইশা বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমার মনে হয়, সবার সবকিছু করার দরকার নেই। হয়তো আমি এখনও বড় পর্দার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত নই। আমি যে কাজগুলো করেছি, সেগুলো হয়তো সবার কাছে প্রত্যাশামতো ভালো লাগেনি। সেখানে আমারও কিছু সীমাবদ্ধতা ছিল।’

প্রথাগত থিয়েটার বা নাট্যচর্চার ব্যাকগ্রাউন্ড না থাকাকে নিজের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে মনে করেন তিনি। তবে এই খামতিকে তিনি দেখছেন ইতিবাচক শেখার সুযোগ হিসেবে। তাঁর ভাষায়, ‘আমি থিয়েট্রিক্যাল ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে আসিনি, তাই শেখার অনেক জায়গা আছে। যদি আমি আগে থেকেই অনেক কিছু জানতাম, তাহলে হয়তো এই দ্বিধা তৈরি হতো না। কিন্তু এখন এ শেখার প্রক্রিয়াটাই আমাকে এগিয়ে নিচ্ছে।’

সম্প্রতি আইশা অভিনীত ‘শেকড়’ সিনেমাটি দেশ ও বিদেশের চলচ্চিত্র উৎসবে বেশ প্রশংসিত হয়েছে। বিশেষ করে এতে ‘ফাল্গুনী’ চরিত্রে তাঁর পরিমিত অভিনয় সমালোচকদের নজর কেড়েছে। তবে এই সাফল্য তাঁকে নতুন কোনো কাজে ঝাঁপিয়ে পড়তে প্ররোচিত করছে না। বরং তিনি আরও পরিণত হওয়ার অপেক্ষায় আছেন। আইশা বলেন, ‘শেকড়ের পর আপাতত নতুন কোনো কাজে যুক্ত হওয়ার পরিকল্পনা নেই। আমি এখনও প্রতিদিন শিখছি, ভুল করছি এবং সেই ভুল থেকে নিজেকে গড়ে তুলছি। আমি চাই যখন পর্দায় ফিরব, তখন আরও পরিণত একজন অভিনেত্রী হিসেবে ফিরতে।’

চলচ্চিত্রের সাম্প্রতিক সুবাতাস নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আইশা খান ‘পরাণ’ ও ‘হাওয়া’র সাফল্যের উদাহরণ টানেন। বর্তমানে আলোচনার তুঙ্গে থাকা ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ নিয়েও তিনি উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। আইশা বলেন, ‘এটা আমার প্রিয় এক নির্মাতার কাজ। তাঁর সঙ্গে আমার আগে কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে। ছবিতে আমার পছন্দের অনেক শিল্পী আছেন। তাদের সাফল্য দেখে ভালো লাগছে।’

ভবিষ্যত প্রত্যাশা প্রসঙ্গে আইশা আসন্ন ‘রইদ’ সিনেমাটি নিয়ে বেশ আশাবাদী। বিজ্ঞাপনে নিজের প্রথম কাজের নির্মাতার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এই নির্মাতার সঙ্গেই আমার বিজ্ঞাপনে প্রথম কাজ করা হয়েছিল। তাই তাঁর নতুন সিনেমা নিয়ে আমি আশাবাদী। ‘হাওয়া’ যেভাবে ইন্ডাস্ট্রিতে নতুন প্রাণ এনেছিল, ‘রইদ’ও তেমন কিছু এনে দিতে পারে।’ সংখ্যার চেয়ে মানের প্রতি এই একাগ্রতা আইশা খানকে ইন্ডাস্ট্রিতে এক দীর্ঘমেয়াদী ও নির্ভরযোগ্য শিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে বলে মনে করছেন চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা।

মন্তব্য করুন