প্রকাশিত: ২ ঘন্টা আগে, ০২:২৪ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
রমজান মাসের শেষ দশ দিন ইতিকাফ করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ একটি আমল। পুরুষদের পাশাপাশি নারীরাও ইতিকাফ পালন করতে পারেন। ইসলামের ইতিহাসে এর সুস্পষ্ট দৃষ্টান্তও রয়েছে।
হজরত আয়শা (রা.) বর্ণনা করেন, ‘নবীজি (সা.) ইন্তেকাল পর্যন্ত রমজানের শেষ ১০ দিন ইতিকাফ করেছেন। তার ইন্তেকালের পর তাঁর স্ত্রীরা ইতিকাফ করেছেন।’ (বুখারি, হাদিস: ২,০২৬; মুসলিম, হাদিস: ১,১৭২)
তবে বিশেষ কিছু পরিস্থিতিতে নারীদের ইতিকাফ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন আলেমরা। যেমন, স্বামী যদি অসুস্থ বা অক্ষম হয়ে পড়েন এবং তার নিবিড় সেবাযত্ন প্রয়োজন হয়, কিংবা ছোট সন্তান থাকলে এবং তাদের দেখাশোনার কেউ না থাকে, তাহলে ওই অবস্থায় নারীর ইতিকাফে বসা উচিত নয়। (আহকামে রমজান ও জাকাত, ৬৪)
রমজানের শেষ দশকে নারীদের ইতিকাফ করা মোস্তাহাব। রাসুলুল্লাহর (সা.) স্ত্রীগণ ইতিকাফ পালনের আগে তার অনুমতি চাইতেন। এ থেকে বোঝা যায়, ইতিকাফের ক্ষেত্রে অভিভাবকের অনুমতি নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া নারীদের ইতিকাফের পরিবেশ এমন হতে হবে, যাতে পুরুষদের সংস্পর্শ থেকে যথেষ্ট দূরত্ব বজায় থাকে। (আলবানি, কিয়ামু রমজান, ২৯)
বিবাহিতা নারীদের ক্ষেত্রে ইতিকাফে বসার আগে স্বামীর অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। তবে যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া স্বামীর উচিত নয় স্ত্রীর ইতিকাফে বাধা দেওয়া বা তাদের এই ইবাদতের সওয়াব থেকে বঞ্চিত করা। (বাদায়েউস সানায়ে, ২/২৭৪; ফাতাওয়ায়ে শামি, ৩/৪২৯)
একবার অনুমতি দেওয়ার পর স্বামী স্ত্রীর ইতিকাফে বাধা দিতে পারবেন না। যদি বাধা দেন, তাহলে সেই বাধা মানা স্ত্রীর জন্য আবশ্যক নয়। (ফাতাওয়ায়ে শামি, ৩/৪২৯; ফাতাওয়ায়ে আলমগিরি, ১/২১১)
নারীরা সাধারণত ঘরের নামাজের জন্য নির্ধারিত স্থানে ইতিকাফ করবেন। যদি এমন নির্দিষ্ট স্থান না থাকে, তাহলে ঘরের ভেতর একটি জায়গা নির্ধারণ করে নিতে পারেন।
তবে মসজিদেও নারীদের ইতিকাফ করা বৈধ। যেমন রাসুলুল্লাহর (সা.) স্ত্রীগণ মসজিদে নববিতে তার সঙ্গে ইতিকাফ করেছেন। (হেদায়া, ১/২৩০; ফাতাওয়ায়ে আলমগিরি ১/২১১; বাদায়েউস সানায়ে, ২/২৮২)
ইতিকাফে বসার পর মানবিক প্রয়োজন ছাড়া নির্ধারিত স্থান ত্যাগ করা যাবে না। প্রয়োজনের ক্ষেত্রে যেমন, পেশাব-পায়খানা, অজু করা বা খাবার সংগ্রহ করার জন্য বাইরে যাওয়া যেতে পারে, যদি অন্য কেউ খাবার পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা না থাকে। তবে খাবার গ্রহণও সেই নির্ধারিত স্থানেই করতে হবে। (হেদায়া, ১/২৩০)
ইতিকাফের স্থান থেকেই ঘরের অন্যদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া যাবে। তবে নিজে বাইরে গিয়ে গৃহস্থালি কাজ করা যাবে না। রান্নার জন্য অন্য কেউ না থাকলে এবং ইতিকাফের স্থানেই রান্না করা সম্ভব হলে সেখানে বসেই রান্না করা যেতে পারে। (ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া, ১৫/৩৩৪)
প্রয়োজনে সেখানে কাউকে ডেকে কথা বলাও বৈধ। (বাদায়েউস সানায়ে, ২/২৮২; ফাতাওয়ায়ে শামি, ৩/৪৩৫)
ইতিকাফ অবস্থায় কিছু বিষয় বিশেষভাবে নিষিদ্ধ। যেমন,
১. দিন বা রাতে স্বামীর সঙ্গে দাম্পত্য সম্পর্ক করা যাবে না। তবে তিনি পাশে থাকতে পারেন। (বাদায়েউস সানায়ে, ২/২৮৫; ফাতাওয়ায়ে শামি, ৩/৪৪২)
২. শিরক বা কুফরি কাজে লিপ্ত হওয়া, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, পাগল হয়ে যাওয়া বা মাতাল হয়ে পড়লে ইতিকাফ ভেঙে যাবে।
৩. ঋতুস্রাব শুরু হলে, সন্তান জন্ম নিলে বা গর্ভপাত হলে ইতিকাফ আর বহাল থাকবে না। (আহসানুল কাতাওয়া, ৪/৫০২)
মন্তব্য করুন