প্রকাশিত: ৫ ঘন্টা আগে, ১০:২৭ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যদের শপথ গ্রহণ এবং ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, জুলাই জাতীয় সনদের প্রতিটি শব্দ ও অক্ষর বিএনপি ধারণ করে এবং তা বাস্তবায়নে দলটি অঙ্গীকারবদ্ধ।
মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলে তিনি এ কথা বলেন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম ‘গণতন্ত্র, আইনের শাসন, মানবাধিকার সুরক্ষা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বর্তমান সরকারের প্রতি আইনজীবী সমাজের প্রত্যাশা’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ একটি রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল, যেখানে দেশের অধিকাংশ রাজনৈতিক দল স্বাক্ষর করেছে। তার মতে, এখন যারা এই সনদের সমালোচনা করছেন, তাদের অনেকেই নির্বাচনের পর সুবিধা বুঝে সংরক্ষণসহ এতে স্বাক্ষর করেছেন।
তিনি বলেন, “জুলাই জাতীয় সনদে নুক্তা লাগানোর কোনো সুযোগ নেই। যা আছে তা হয় গ্রহণ করতে হবে, নয়তো পরিষ্কারভাবে বলতে হবে কেন গ্রহণ করা হচ্ছে না।”
সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার আদেশ), গণভোট অধ্যাদেশের কিছু ধারা এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যদের শপথের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দুটি রিট আবেদন করা হয়েছে। এসব রিটের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত রুল জারি করেছেন। এ বিষয়ে আইনি সীমারেখার মধ্যে থেকে নিজের মতামত তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যদের শপথ নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, গণভোটের রায়কে সম্মান জানাতে হলে আগে বিষয়টি জাতীয় সংসদে যেতে হবে। সেখানে আলোচনা করে আইন প্রণয়ন করে তা সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, কোন ফরম্যাটে শপথ হবে এবং কে শপথ পড়াবেন—এসব বিষয় সংবিধানের তৃতীয় তফসিলে নির্ধারিত থাকা প্রয়োজন। বর্তমানে যে পদ্ধতিতে শপথ গ্রহণ করা হয়েছে, তা যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে হয়েছে কি না, সে বিষয়টি দেখার দায়িত্ব সুপ্রিম কোর্টের।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “অনেকে বলছেন জুলাই জাতীয় সনদ মানা না হলে তারা রাজপথে যাবেন। আমরা বলতে চাই, আমরা এই সনদ অস্বীকার করি না। আমরা জাতির কাছে অঙ্গীকারবদ্ধ। আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারে যে প্রতিশ্রুতিগুলো রয়েছে, জনগণের ম্যান্ডেট পেলে আমরা সেগুলোও বাস্তবায়ন করব।”
অনুষ্ঠানে আইনজীবী সমাজের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে গণতন্ত্র, আইনের শাসন এবং মানবাধিকার রক্ষায় বিচার বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
মন্তব্য করুন