প্রকাশিত: ১০ মার্চ, ২০২৬, ০৫:১২ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
১৪৪৭ হিজরির পবিত্র রমজান মাসের ইতিকাফ শুরু হচ্ছে। আজ সন্ধ্যার আগেই মসজিদে প্রবেশ করে টানা ১০ দিন মসজিদে অবস্থান করবেন মুসল্লিরা। এ সময় তারা নামাজ, তিলাওয়াত, জিকির, দোয়াসহ বিভিন্ন আমলে নিমগ্ন থাকবেন। ঈদের আগের দিন সূর্যাস্তের পর নতুন চাঁদ দেখে তারা ইতিকাফ সম্পন্ন করবেন এবং মসজিদ থেকে বের হবেন।
এদিকে পবিত্র রমজান মাসের ইতিকাফ ঘিরে রাজধানীসহ সারা দেশের মসজিদগুলোতে বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ইতিকাফকারী মুসল্লিদের থাকার জন্য মসজিদের ভেতরে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। মুসল্লিরা নিজ ঘর থেকে বিছানা, বালিশ, মশারিসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছেন। তা ছাড়া ইফতার, সাহরিসহ অন্যান্য খাবার সামগ্রীর ব্যবস্থা রাখছেন অনেকে।
ইসলামী শরিয়াহ অনুসারে, পবিত্র রমজান মাসের শেষ ১০ দিন ইতিকাফ করা সুন্নতে মুআক্কাদা কিফায়া। অর্থাৎ মহল্লার অন্তত একজন তা আদায় করলে সবাই দায়মুক্ত হবে। অন্যথায় সবাই গুনাহগার হবে।
ইতিকাফ আরবি শব্দ-
এর অর্থ অবস্থান করা। নিজেকে আল্লাহমুখী করাই এর মূল উদ্দেশ্য। সাধারণ জীবনে মানুষ নিজের সংসার, ব্যবসা-বাণিজ্য, দায়িত্ব, কর্তব্য ও নানা চিন্তায় নিমগ্ন থাকে। ইতিকাফ তাকে সাময়িকভাবে সব ব্যস্ততা থেকে মুক্ত করে আল্লাহ তাআলার সান্নিধ্যে নিয়ে আসে। এ সময় ইতিকাফকারী ব্যক্তি তিলাওয়াত, জিকির, দোয়া, নফল নামাজসহ বিভিন্ন আমলে নিজেকে নিমগ্ন রাখেন। ফলে অন্তর পরিশুদ্ধ হয়, তাকওয়া বৃদ্ধি পায় এবং মহান রবের সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় ও মজবুত হয়।
রাসুলুল্লাহ (সা.) ইতিকাফের প্রতি অত্যন্ত যত্নশীল ছিলেন। ইতিকাফ ছিল নবীজির নিয়মিত আমল। সাহাবায়ে কেরামও গুরুত্বের সঙ্গে ইতিকাফ পালন করেছেন। আয়েশা সিদ্দিকা (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রত্যেক রমজানে শেষ ১০ দিন ইতিকাফ করতেন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ২০৪৪)
অন্য হাদিসে ইতিকাফকারীর জন্য হজের সওয়াবের কথা বর্ণিত হয়েছে। হাদিসে এসেছে, হোসাইন ইবনে আলি (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি (সা.) বলেন, ‘রমজানের শেষ দশকে যে ব্যক্তি ইতিকাফ করবে, সে দুটি হজ অথবা ওমরার সওয়াব পাবে।’ (শুআবুল ইমান, হাদিস : ৩৯৬৬)
আরেকটি হাদিসে এসেছে, আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে সওয়াবের আশায় ইতিকাফ করবে, তার পেছনের সব (ছগিরা) গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।’ (জামে সগির, হাদিস : ১২২৩০)
মন্তব্য করুন