প্রকাশিত: ৮ ঘন্টা আগে, ১০:৩৬ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থানের কথা জানিয়ে এক ব্যতিক্রমী ও সাহসী বক্তব্য দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, অসততার ক্ষেত্রে ব্যক্তি বা দলীয় পরিচয় কোনো বিবেচ্য বিষয় হওয়া উচিত নয় এবং কেউ দোষী প্রমাণিত হলে তাকে কঠোর শাস্তির আওতায় আনতে হবে।
গত বুধবার (২২ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে জরুরি জন-গুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে আলোচনা (বিধি-৬৮) চলাকালে তিনি এই মন্তব্য করেন। বক্তব্যের এক পর্যায়ে ডা. শফিকুর রহমান নিজের উদাহরণ টেনে বলেন, ‘কেউ অসৎ হলে তাকে ছাড় দেওয়া উচিত নয়। আমি নিজেও যদি অসৎ হই, তাহলে আমাকে ছাড় দেবেন না। বরং জাতির স্বার্থে আরও বেশি করে ধরুন, এক্সপোজ করুন। যারা অসৎ তারা কোনো দলের হতে পারে না। এরা দলের সুযোগ নেয়।’
বিরোধীদলীয় নেতা তাঁর বক্তব্যে সুবিধাবাদী গোষ্ঠীর কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, দেশের যেকোনো সংকটময় পরিস্থিতিতে এক শ্রেণির অসাধু ব্যক্তি কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করার চেষ্টা করে। এই ধরনের লোকদের কোনো সুনির্দিষ্ট আদর্শ নেই মন্তব্য করে তিনি বলেন, এরা মূলত সুবিধাবাদী এবং দল বিপদে পড়লে সবার আগে সটকে পড়ে। তাই জাতীয় স্বার্থে এ ধরনের সুযোগসন্ধানীদের কোনোভাবেই প্রশ্রয় না দেওয়ার জন্য তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
একইসঙ্গে সংসদ সদস্যদের বক্তব্যের গ্রহণযোগ্যতা ও দায়িত্বশীলতা নিয়েও কথা বলেন তিনি। ডা. শফিকুর রহমান মনে করিয়ে দেন যে, সংসদ কক্ষের ভেতরে দেওয়া প্রতিটি বক্তব্য এখন প্রযুক্তির কল্যাণে মুহূর্তেই সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। তাই জনপ্রতিনিধিদের বক্তব্যের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সংসদে যে বক্তব্য দেওয়া হয় তা শুধু কক্ষের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। তাই প্রতিটি বক্তব্য হতে হবে তথ্যনির্ভর, সত্য ও ধারাবাহিক। আজ এক কথা, কাল আরেক কথা বললে জনগণ আমাদের ওপর আস্থা হারাবে।’
সংসদে বিরোধীদলীয় নেতার এমন আত্মসমালোচনামূলক ও জিরো টলারেন্স নীতি সংবলিত বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ ইতিবাচক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নেতার এই বার্তা দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
মন্তব্য করুন