তরুণ কণ্ঠ অনলাইন

প্রকাশিত: ৯ ঘন্টা আগে, ০৭:০২ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা প্রসঙ্গে যা বললেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

সংগ্রহীত ছবি

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, তার দেশ রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা বজায় রাখছে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেছেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানে হামলা চালানোর সুযোগ দিয়েছে।

শনিবার (১৪ মার্চ) মার্কিন গণমাধ্যম MSNBC-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন তিনি। আরাঘচি জানান, আপাতত হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করার পরিকল্পনা ইরানের নেই। তবে এই সম্ভাবনা ঘিরেই ইতোমধ্যে বৈশ্বিক তেলের বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।

সম্প্রতি খার্গ দ্বীপ-এর সামরিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রভাবও কমিয়ে দেখান তিনি। উল্লেখ্য, ইরানের প্রায় ৯০ শতাংশ তেল রপ্তানি এই দ্বীপের মাধ্যমেই হয়ে থাকে।

আরাঘচি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের তেল ও জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলা চালায়, তাহলে তেহরান পারস্য উপসাগরজুড়ে তেল স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালাতে পারে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের সশস্ত্র বাহিনী ইতোমধ্যে জানিয়েছে, আমাদের তেল ও জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলা হলে তারা পাল্টা জবাব দেবে। তখন এই অঞ্চলে যেসব জ্বালানি স্থাপনা কোনো মার্কিন কোম্পানির মালিকানাধীন বা যেখানে মার্কিন কোম্পানির অংশীদারত্ব রয়েছে, সেগুলো লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।’

রাশিয়া ও চীনকে ইরানের ‘কৌশলগত অংশীদার’ উল্লেখ করে আরাঘচি বলেন, এই দুই দেশের সঙ্গে তেহরানের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং সামরিক সহযোগিতা রয়েছে। তবে সামরিক সহযোগিতার বিস্তারিত তিনি প্রকাশ করেননি।

এদিকে পারস্য উপসাগরীয় প্রতিবেশী দেশগুলোতে ইরানের সাম্প্রতিক হামলার অভিযোগও নাকচ করেন তিনি। কাতার, কুয়েত ও সৌদি আরব অভিযোগ করেছে, ইরানের হামলায় বেসামরিক এলাকাও লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।

আরাঘচি পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, ইরানের ওপর রকেট হামলা চালাতে যুক্তরাষ্ট্রকে সুযোগ দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। তার দাবি, দুবাই ও রাস আল-খাইমাহসহ ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা থেকে এসব হামলা চালানো হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘এটা অত্যন্ত বিপজ্জনক যে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা ব্যবহার করে আমাদের বিরুদ্ধে রকেট হামলা চালানো হচ্ছে।’

তবে ইরানের এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। শনিবার বিকালে দেশটির এক সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়, আরাঘচির বক্তব্য ‘বিভ্রান্তিকর নীতিরই প্রতিফলন’।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘সন্ত্রাসী আগ্রাসনের মুখে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে। তবুও দেশটি সংযম বজায় রেখে যুক্তি ও কূটনৈতিক সমাধানকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে এবং ইরান ও পুরো অঞ্চলের জন্য একটি উত্তরণের পথ খুঁজছে।’

এদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ যে দাবি করেছেন, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি আহত হয়েছেন, তাও নাকচ করেছেন আরাঘচি।

তিনি বলেন, ‘নতুন সর্বোচ্চ নেতার কোনো সমস্যা নেই। পুরো ব্যবস্থা ঠিকভাবে কাজ করছে। সবকিছু নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।’

মন্তব্য করুন