তরুণ কণ্ঠ অনলাইন

প্রকাশিত: ১২ ঘন্টা আগে, ০৩:৪৪ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

হরমুজে ট্রাম্পের যুদ্ধজাহাজ আহ্বান, মিত্র দেশগুলোর স্পষ্ট সমর্থন নেই

তরুণ কণ্ঠ অনলাইন

ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা এবং সামরিক চাপের অবসান এখনো দূরে। হরমুজ প্রণালিতে চলাচল বন্ধ রাখার ফলে তেল সরবরাহে বিরাট ব্যাঘাত দেখা দিয়েছে, যা পশ্চিমা দেশগুলোকে কঠিন পরিস্থিতিতে ফেলেছে। সম্প্রতি পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র তাদের মিত্রদের হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের আহ্বান জানিয়েছে। স্থানীয় সময় শনিবার সামাজিক মাধ্যমে ডোনাল্ড ট্রাম্প লিখেন, ‘যেসব দেশ হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে তেল পায়, তাদের ওই পথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র সাহায্য ও সমন্বয় করবে যাতে সবকিছু দ্রুত ও মসৃণভাবে এগোয়।’

ট্রাম্প যেসব দেশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, তাদের মধ্যে আছে চীন, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাজ্য। তবে কোনো দেশই এখনো তাৎক্ষণিকভাবে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের সিদ্ধান্তের ঘোষণা দেয়নি।

জাপানের ক্ষমতাসীন দলের নীতি নির্ধারণ বিষয়ক প্রধান তাকায়ুকি কোবায়াশি জানিয়েছেন, জাহাজ মোতায়েনের সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকে-কে তিনি বলেছেন, এই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আইনি বাধ্যবাধকতা বেশ জটিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রণীত সংবিধান অনুযায়ী, জাপান কেবল তখনই সামরিক বাহিনী পাঠাতে পারে যখন দেশের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়ে। সেক্ষেত্রে ২০১৫ সালের নিরাপত্তা আইন প্রযোজ্য হয়, যা আগে ব্যবহার হয়নি।

চীনা দূতাবাসের এক মুখপাত্র সিএনএনকে বলেছেন, বেইজিং অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানাচ্ছে। তবে ট্রাম্পের অনুরোধে তারা যুদ্ধজাহাজ পাঠাবে কি না সে বিষয়ে মন্তব্য করেননি। তিনি বলেন, জ্বালানি সরবরাহের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা সব পক্ষের দায়িত্ব, এবং চীন এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ জোরদার করবে।

দক্ষিণ কোরিয়া থেকে এখনো কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ফ্রান্স চাইছে, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হলে তারা একটি জোট গঠনের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনবে। যুক্তরাজ্য তাদের মিত্রদের সঙ্গে সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিকল্পগুলো আলোচনা করছে।

তবে পরিস্থিতি খুব শিগগিরই স্থিতিশীল হওয়ার কোনো চিহ্ন দেখা যাচ্ছে না। সম্প্রতি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি হরমুজ প্রণালিকে আরও কিছুদিন বন্ধ রাখার পক্ষে কথা বলেছেন। খার্গ দ্বীপে মার্কিন হামলার পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের জ্বালানি স্থাপনায় যে কোনো হামলার জবাব উপযুক্ত হবে।

শুধু সরবরাহ পথ নয়, অন্যান্য স্থাপনা ঘিরেও উত্তেজনা কমেনি। রোববার বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা ইসরায়েলের লক্ষ্যবস্তু এবং কয়েকটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এ হামলা ইরানের শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে পরিচালিত হয়েছে।

ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করতে চেষ্টা করছে। সৌদি আরব জানিয়েছে, রিয়াদ ও পূর্বাঞ্চলে ১০টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। তবে আইআরজিসি দাবি করেছে, এই ড্রোন হামলার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই।

মন্তব্য করুন