প্রকাশিত: ৩ ঘন্টা আগে, ১২:৩৬ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক শিক্ষার্থীকে মধ্যরাতে আটক করে কয়েক দফায় মারধরের অভিযোগ উঠেছে জাতীয় ছাত্রশক্তির কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। মারধরের পর তাকে শাহবাগ থানায় সোপর্দ করা হয় এবং পরে পুলিশ প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠায়। রবিবার (৮ মার্চ) দিবাগত রাতে বুয়েট ক্যাম্পাসে এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার শিকার শিক্ষার্থীর নাম পাভেল। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের ২০২০–২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তার বিরুদ্ধে ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছাত্রলীগের পক্ষে বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রম করার অভিযোগ রয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, পাভেলকে অন্তত পাঁচ দফায় মারধর করা হয়। প্রথমে বুয়েটের নজরুল হলের ক্যাফেটেরিয়ায় সেহেরি খাওয়ার সময় তাকে মারধর করা হয়। এ সময় ছাত্রশক্তির হাসিব আল ইসলাম, সাইফুল্লাহ, মহিউদ্দিন, আফ্রিদি ও সর্দার নাদিম শুভর নেতৃত্বে ১৫ থেকে ২০ জন তাকে মারধরে অংশ নেন। পরে তাকে বুয়েটের গেটে নিয়ে আবার মারধর করা হয়। এরপর মোটরসাইকেলে তুলে ঢাবির ভিসি চত্বরে এনে আরও এক দফা মারধর করা হয়। এরপর রাজু ভাস্কর্য এলাকায় এবং সর্বশেষ শাহবাগ থানার সামনে তাকে মারধর করা হয়।
মারধরের সময় তার মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ ও মোটরসাইকেলের চাবি ছিনিয়ে নেওয়া হয়। আহত শিক্ষার্থীকে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা দাবি করেন, পাভেল ক্যাম্পাসের জুনিয়র শিক্ষার্থীদের নিয়ে বুয়েট ক্যান্টিনে খাবার খাওয়াচ্ছিলেন এবং তাদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করছিলেন। ওই সময় জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরা তাকে আটক করে মারধরের অভিযোগে থানায় সোপর্দ করেন।
ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বক্তব্য জানা যায়নি। তবে ছাত্রশক্তির ঢাবি শাখার সম্পাদক সাইফুল্লাহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, “ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ ধরেছি। শাহবাগ থানায় নিয়ে যাচ্ছি। লীগ প্রশ্নে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।”
শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কামাল জানিয়েছেন, ছাত্ররা শিক্ষার্থীকে থানায় নিয়ে আসে। পুলিশ প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠিয়েছে। চিকিৎসা শেষে তাকে আবার থানায় আনা হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমেদ বলেন, পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে, আইন অনুসারে ব্যবস্থা গ্রহণ হবে।
মন্তব্য করুন