তরুণ কণ্ঠ প্রতিবেদন

প্রকাশিত: ৯ মার্চ, ২০২৬, ১০:২১ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

বঙ্গবন্ধুর ভাষণ বাজানোর ঘটনায় তিনজন কারাগারে

‘স্লোগান ৭১’-এর সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ তাসনিম আফরোজ ইমি। ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর শাহবাগ থানার সামনে ৭ মার্চের ভাষণ বাজানোর ঘটনায় আটক তিনজনকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। রোববার (৮ মার্চ) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালত এ আদেশ দেন।

কারাগারে পাঠানো তিনজন হলেন ‘স্লোগান ৭১’-এর সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ তাসনিম আফরোজ ইমি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ হল ছাত্রলীগের সাবেক কর্মসংস্থান সম্পাদক মো. আসিফ আহমেদ সৈকত এবং শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই জিন্নাত আলী।

ঘটনার সূত্রপাত শনিবার বিকেলে চানখাঁরপুল মোড়ে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ বাজানোর সময় দুইজনকে আটক করার মধ্য দিয়ে। আটক দুজনের একজন ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আসিফ আহমেদ, অন্যজন মাইক অপারেটর। তাদের আটকের প্রতিবাদে ইমিসহ কয়েকজন রিকশায় করে মাইকে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ বাজানোর কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

রাত সাড়ে ৯টার দিকে কর্মসূচি শুরু হয়। পরে রাত ১০টার দিকে কয়েকজন এসে তাদের মাইক ও ব্যাটারি ভেঙে দেয়। এ সময় বাধা দিতে গেলে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এরপর ইমিসহ কয়েকজন জাতীয় জাদুঘরের সামনে অবস্থান নেন।

পরে সেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ ও জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরা উপস্থিত হন। ডাকসুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক মোসাদ্দেক ইবনে আলী মোহাম্মদ এবং সমাজসেবা সম্পাদক এ বি জুবায়ের একটি রিকশা টেনে শাহবাগ থানার ভেতরে নিয়ে যান।

এ সময় ইমির সঙ্গে থাকা মামুনকে ছাত্রলীগের কর্মী বলে টেনে-হিঁচড়ে থানার ফটকে নিয়ে মারধরের অভিযোগ ওঠে। পরে ইমি ও মামুনকে ধরে থানার ভেতরে নিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।

শাহবাগ থানার পুলিশ রোববার ইমিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার এসআই মো. আশাদুল ইসলাম তাদের আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, তারা মসজিদের দিকে মুখ করে লাউড স্পিকারে উসকানিমূলক স্লোগান দেন এবং সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্রের উদ্দেশ্যে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের কার্যক্রম সচল করার চেষ্টা করেন। এছাড়া পুলিশের কাজে বাধা দেওয়া এবং থানা হেফাজত থেকে আসিফ আহমেদকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগও আনা হয়েছে।

শাহবাগ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, তিনজনকে আদালতে হাজির করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং ঘটনার তদন্ত চলছে।

মন্তব্য করুন