সোমবার   ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   ফাল্গুন ৪ ১৪৩২   ২৮ শা'বান ১৪৪৭

তরুণ কণ্ঠ|Torunkantho
১০

সামরিক উত্তেজনার মাঝেও সমঝোতার ইঙ্গিত ইরানের

তরুণ কণ্ঠ অনলাইন

প্রকাশিত: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬  

আলোচনা সফল না হলে সামরিক প্রস্তুতি, চুক্তিতে আগ্রহী ইরান

আলোচনা সফল না হলে সামরিক প্রস্তুতি, চুক্তিতে আগ্রহী ইরান

 

ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এমন একটি পারমাণবিক চুক্তি চায় তারা,যা দুই দেশের অর্থনীতির জন্যই লাভজনক হবে। আগামী মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) জেনেভায় তেহরান ও ওয়াশিংটনের দ্বিতীয় দফা বৈঠকের আগে রোববার এক ইরানি কূটনীতিক এ তথ্য জানান বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

 

তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে কয়েক দশক ধরে চলা বিরোধের প্রেক্ষাপটে সাম্প্রতিক সময়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। একই সময়ে মার্কিন সামরিক উপস্থিতিও মধ্যপ্রাচ্যে জোরদার হয়েছে।

 

রয়টার্সকে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় যুক্তরাষ্ট্র বিমানবাহী রণতরী ও অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে। সম্প্রতি সেখানে দ্বিতীয় একটি বিমানবাহী রণতরীও পাঠানো হয়েছে। আলোচনা ভেস্তে গেলে কয়েক সপ্তাহব্যাপী সামরিক অভিযানের প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তারা।

 

ইরান সতর্ক করেছে, মার্কিন বাহিনী আক্রমণ চালালে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালানো হবে। তবে একই সঙ্গে কূটনৈতিক সমাধানের ইঙ্গিতও দিয়েছে তেহরান।

ইরানের আধা-স্বায়ত্তশাসিত বার্তা সংস্থা ফার্সের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক কূটনীতি বিষয়ক উপপরিচালক হামিদ ঘানবারি বলেছেন,

‘চুক্তির স্থায়ীত্বের স্বার্থে এটি জরুরি যে যুক্তরাষ্ট্রও যেন দ্রুত ও উচ্চ লাভের ক্ষেত্রগুলো থেকে সুবিধা পায়। তেল ও গ্যাস ক্ষেত্র, যৌথ ক্ষেত্র, খনিতে বিনিয়োগ আর এমনকি আকাশযান কেনার মতো পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোও আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত।’

তিনি আরও বলেন,

‘২০১৫ সালে ছয় বিশ্ব শক্তির সঙ্গে তেহরানের যে পারমাণবিক চুক্তি হয়েছিল তা যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক স্বার্থকে সুরক্ষিত করেনি।’

 

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে ইরান ছয় বিশ্বশক্তির সঙ্গে একটি ঐতিহাসিক পারমাণবিক চুক্তিতে পৌঁছায়, যা পরবর্তীতে ভেঙে যায়।

অন্যদিকে বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাজিদ তখত-রাভানচি বলেন, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নিয়ে আলোচনা করতে চাইলে ইরান আপসের পথ বিবেচনা করতে প্রস্তুত।

তিনি বলেন,

‘তারা যে চুক্তি করতে আগ্রহী সেটা প্রমাণ করার দায় এখন ‘আমেরিকার কোর্টে’। তারা যদি আন্তরিক হয়, আমি নিশ্চিত আমরা একটি সমঝোতার পথে এগোব।’

 

আসন্ন জেনেভা বৈঠক ঘিরে তাই একদিকে সামরিক উত্তেজনা, অন্যদিকে অর্থনৈতিক সমঝোতার বার্তা—দুই ধারাই স্পষ্ট হয়ে উঠছে কূটনৈতিক অঙ্গনে।

এই বিভাগের আরো খবর