শুক্রবার   ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   ফাল্গুন ৮ ১৪৩২   ০৩ রমজান ১৪৪৭

তরুণ কণ্ঠ|Torunkantho
১৪৬

লিজ ছাড়া ট্রেনে খাবার গাড়ি, অন্তরালে মাদক ব্যবসা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৬ জানুয়ারি ২০২৩  

লালমনিরহাট: তিন বছর ধরে লিজ ছাড়া চলা কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ট্রেনের খাবারের গাড়ির অন্তরালে রমরমা মাদক ব্যবসা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এরই মধ্যে এ ঘটনায় রেলের মহাপরিচালকসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দফতরে ডাকযোগে লিখিত অভিযোগ করেছেন মোজাম্মেল হক নামে এক রেল কর্মচারী।
অভিযোগে জানা গেছে, বাংলাদেশ রেলের চারটি বিভাগের মধ্যে লালমনিরহাট অন্যতম। লালমনিরহাট রেল বিভাগের আওতায় প্রতিদিন চলাচল করছে আন্তনগর লালমনি এক্সপ্রেস, রংপুর এক্সপ্রেস, কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস, একতা এক্সপ্রেস, দ্রুতযান এক্সপ্রেস ও পঞ্চগড় এক্সপ্রেস। এসব আন্তনগর ট্রেনে যাত্রীদের জন্য রয়েছে খাবারের ব্যবস্থা। এসব ট্রেনে যাত্রীদের খাবার সরবরাহের জন্য খাবার গাড়ি (আলাদা সংরক্ষিত বগি) বার্ষিক লিজ দিয়েও রাজস্ব আদায় করছে সরকার।  
প্রতি বছর রেলওয়ে সব বিভাগের আন্তনগর ট্রেনের খাবারের গাড়ি দরপত্রের মাধ্যমে সর্বোচ্চ দর দাতার নামে বার্ষিক লিজ বরাদ্দ দেয়। কিন্তু ১৮২টি আসনের কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ট্রেনটির জন্মলগ্ন থেকে খাবারের গাড়ির কোনো দরপত্রই আহ্বান করা হয়নি। রেল বিভাগের নাম করে খাবারের গাড়ি রেলওয়ের অবসরপ্রাপ্ত তিনজন শীর্ষ কর্মকর্তার দখলে রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তাদের মধ্যে ডিডি-৩ এর পদের অবসরপ্রাপ্ত কালীকান্ত দাস, মিয়াজান ও সাইদুর রহমান। তারা অবসরে গিয়েও রেলে ব্যবসা করছেন। এতে সরকার রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে। অবসরপ্রাপ্ত উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তার দখলে থাকায় এ ট্রেনের খাবার গাড়ির কোনো তথ্যই নেই লালমনিরহাট রেল বিভাগে।

গত ১৪ ডিসেম্বর বাংলানিউজে ‘৩ বছরেও লিজ হয়নি কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসের খাবার গাড়ির’ শিরোনামে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। যা মুহূর্তে নেট দুনিয়ায় ভাইরাল হয়।

এ ছাড়া এ ট্রেনের খাবার গাড়িতে ফেনসিডিল, গাঁজা ও ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক পাচার হচ্ছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করেন ওই কর্মচারী। এ কারণে খাবার বিক্রিতে তেমন মুনাফা না এলেও মাদক ব্যবসার মাধ্যমে মুনাফা করছে চক্রটি। এমন দাবি করে দ্রুত তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নিতে রেলের মহাপরিচালক, দুর্নীতি দমন কমিশনসহ বিভিন্ন দফতরে লিখিত অভিযোগ করেন রেল কর্মচারী মোজাম্মেল হক।

অভিযোগকারী মোজাম্মেল হক মুঠো ফোনে বাংলানিউজকে বলেন, জন্ম লগ্ন থেকে এ ট্রেনের খাবার গাড়ি লিজ দেওয়া হয়নি। উচ্চপদস্থ তিন কর্মকর্তা অবসর নিয়ে রেলের নাম করে নিজেরা ব্যবসা করছেন এ ট্রেনে। বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। রেল কর্মচারী হিসেবে নয় দেশের একজন নাগরিক হিসেবে লিখিত অভিযোগ করেছি। গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে এ ট্রেনের খাবার গাড়ি থেকে ৭০ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

রেলের পশ্চিম অঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক অসীম কুমার তালুকদার বাংলানিউজকে বলেন, দরপত্র না হলেও কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ট্রেনের খাবার গাড়ি থেকে বেশি আয় করছে রেল। মাদক ব্যবসার বিষয়টি জানা নেই। অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই বিভাগের আরো খবর