বৃহস্পতিবার   ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   মাঘ ৩০ ১৪৩২   ২৪ শা'বান ১৪৪৭

তরুণ কণ্ঠ|Torunkantho
৩০৮

লালমাইয়ে প্রবাসী ছাত্রলীগ নেতার বাড়িতে সন্ত্রাসী হামলা

লালমাই প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৬ ডিসেম্বর ২০২৫  

কুমিল্লার লালমাইয়ে ৭ নং পেরুল দক্ষিণ ইউনিয়নের  যুক্তরাজ্য প্রবাসী মোহাম্মদ আব্দুল কাদের হৃদয় লালমাই উপজেলা ছাত্রলীগ নেতার বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। 

গতকাল শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর ২০২৫) তার বাড়িতে এ ন্যাক্কারজনক হামলার ঘটনা ঘটে।
 ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, হঠাৎ করেই ১৫ থেকে ২০ জন সশস্ত্র সন্ত্রাসী দলবদ্ধভাবে বাড়িতে হামলা চালায়। তারা দেশীয় অস্ত্রসহ বিভিন্ন ধারালো অস্ত্র নিয়ে বাড়িতে ঢুকে ভাঙচুর চালায় এবং পরিবারের সদস্যদের ওপর এলোপাতাড়ি হামলা করে। আকস্মিক এই হামলায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

এ ঘটনায় মোহাম্মদ আব্দুল কাদের হৃদয়ের বাবা মোহাম্মদ সেলিম মিয়া (৬০) গুরুতর আহত হন। হামলাকারীরা তার ওপর একাধিকবার আঘাত করে, বিশেষ করে মাথা ও শরীরের বিভিন্ন অংশে মারাত্মকভাবে আঘাত করা হয় বলে পরিবারটির দাবি। একই ঘটনায় তার প্রতিবেশী চাচা আমির হোসেন হামলার শিকার হয়ে আহত হন। তাদের আর্তচিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় গুরুতর আহত মোহাম্মদ সেলিম মিয়াকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ ভর্তি করা হয়, যেখানে তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, প্রবাসী ছাত্রলীগ নেতা মোহাম্মদ আব্দুল কাদের হৃদয়ের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার জেরেই পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এর আগেও গত ২০ অক্টোবর একই কায়দায় ২০ থেকে ৩০ জন সশস্ত্র সন্ত্রাসী তার বাড়িতে হামলা চালিয়েছিল। ওই সময়ও তারা ভাঙচুর চালানোর পাশাপাশি ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয় বলে পরিবারটির অভিযোগ।
পূর্বের সেই হামলার ঘটনায়ও মোহাম্মদ সেলিম মিয়া মাথায় আঘাত পেয়ে গুরুতরভাবে আহত হন। ধারাবাহিক এসব হামলা ও হুমকির কারণে পরিবারটি এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। স্থানীয়দের মতে, রাজনৈতিক বিরোধ ও প্রভাব বিস্তারের উদ্দেশ্যেই বারবার এ ধরনের সহিংসতা চালানো হচ্ছে, যা এলাকায় আতঙ্ক ও উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলছে।

 

পারিবারিক সূত্রে আরও জানা যায়, এর আগেও ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর একইভাবে সন্ত্রাসীরা তার বাড়িতে হামলা চালায়।  তিনি প্রবাসে অবস্থান করলেও, তার রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে আবারও তার পরিবারের উপর হামলা চালানো হয়েছে। হামলা চলাকালে আওয়ামী লীগ বিরোধী নানা স্লোগান দিতে শোনা যায়। এতে প্রায় ২০ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

পরিবারের অভিযোগের পরও এ ঘটনায় পুলিশ কোনো আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। বরং ভুক্তভোগী পরিবারকে নিরাপত্তা দেওয়ার পরিবর্তে উল্টো পুলিশের পক্ষ থেকেই হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন অজুহাতে এবং নানান কায়দায় পরিবারটির কাছে টাকা দাবি করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, পরিবারের সদস্যদের ধরে নিয়ে গুম করার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে পরিবারটির দাবি।

এই ধারাবাহিক হুমকি ও চাপের মুখে পড়ে পরিবারটির সদস্যরা এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। প্রতিদিন আতঙ্ক আর উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন তারা। যে কোনো সময় অঘটন ঘটতে পারে এই আশঙ্কায় স্বাভাবিক জীবনযাপন কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধ সবাই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। ন্যায়বিচার পাওয়ার আশায় বিভিন্ন দপ্তরে দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোনো সুরাহা না পেয়ে পরিবারটি গভীর হতাশা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন পার করছে।
এ ঘটনায় পুরো এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে সংঘটিত এ ধরনের ঘটনা স্থানীয় মানুষের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। সাধারণ মানুষ মনে করছেন, আজ একজন ভুক্তভোগী হলেও আগামীতে যে কেউ এর শিকার হতে পারেন। ফলে এলাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও যান চলাচলেও অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করছেন, ক্ষমতার অপব্যবহার ও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে, যা সমাজে আইনের শাসনের প্রতি মানুষের আস্থা দুর্বল করে দিচ্ছে। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি আরও বেড়েছে। অনেকেই সন্ধ্যার পর ঘর থেকে বের হতে ভয় পাচ্ছেন, সামাজিক কার্যক্রমেও অংশগ্রহণ কমে গেছে।
এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটন করতে হবে এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী পরিবারসহ সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করা হলে পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। 
 

এই বিভাগের আরো খবর