সোমবার   ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   ফাল্গুন ১০ ১৪৩২   ০৬ রমজান ১৪৪৭

তরুণ কণ্ঠ|Torunkantho
১১০

ভারতে পাচার হওয়া তরুণী ৭ বছর পর মায়ের কাছে ফিরল

নিজস্ব প্রতিবেদক  

প্রকাশিত: ১৭ মে ২০২২  

ভারতে পাচার হওয়া তরুণী ৭ বছর পর মায়ের কাছে ফিরল
ঝালকাঠি থেকে ভারতে পাচার হওয়া এক তরুণীকে (১৯) সাত বছর পর মায়ের জিম্মায় ফিরিয়ে দিয়েছেন আদালত। গত ৫ মে ভারত থেকে বাংলাদেশে ফেরার পর সোমবার (১৬ মে) সকালে তাকে ঝালকাঠির নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনাল আদালতে হাজির করে পুলিশ। পরে ওই তরুণীকে মায়ের জিম্মায় ফিরিয়ে দেন আদালতের বিচারক এম এ হামিদ।

মামলার নথিপত্র সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালের ৫ জুন সকালে ওই কিশোরীকে খুলনায় একটি বাসায় কাজ দেওয়ার কথা বলে একটি মানব পাচারকারী চক্র তকে ঝালকাঠি থেকে নিয়ে যায়। তখন তার বয়স ছিল ১২ বছর। পরে তাকে ভারতের বেঙ্গালুরুতে একটি যৌনপল্লিতে বিক্রি করে দেওয়া হয়।

 
পরে ভারতের পুলিশের সহায়তায় বেসরকারি সংস্থা জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার ওই তরুণীকে উদ্ধার করে বেঙ্গালুরুর স্বাকশাতারা শেল্টার হোমে রাখে। এ ঘটনায় বেঙ্গালুরুর কৃষনাগিরি জেলার হুডকো থানায় একটি মামলা করে ভারতীয় পুলিশ। ভারতের বিচার সম্পন্ন হওয়ার পরে জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ারের মাধ্যমে তাকে গত ৫ মার্চ স্থলবন্দর বেনাপোলে বাংলাদেশের একটি সংগঠনের কাছে হস্তান্তর করে।

বাদীপক্ষের আইনজীবী বনি আমিন বলেন, ওই তরুণী অপহরণের ঘটনায় তার মা ২০১৫ সালের ৩০ নভেম্বর ঝালকাঠির মানব পাচার অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আদালতে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন। আদালতের তৎকালীন বিচারক মো. শফিকুল করিম ঝালকাঠি থানাকে অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করার নির্দেশ দেন। পরে ২০১৭ সালের ২ অক্টোবর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। 
ওই মামলার আসামিরা হলেন- খুলনার খালিশপুর থানার মুমিন হাওলাদারের স্ত্রী হাসিনা বেগম, একই এলাকার কবির হোসেনের স্ত্রী ঝুমুর আক্তার ও ঝালকাঠির ইন্দ্রজিৎ শিকদারের স্ত্রী মিনতি শিকদার। আসামিরা গ্রেফতার হলেও তারা বর্তমানে জামিনে রয়েছে। মামলার ভিকটিম দীর্ঘদিনেও উদ্ধার না হওয়ার কারণে মামলায়ও দীর্ঘসূত্রিতা ঘটে। তবে বর্তমানে ১৯ বছরের ওই তরুণী উদ্ধার হওয়ায় আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এই বিভাগের আরো খবর