রোববার   ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   মাঘ ১৯ ১৪৩২   ১৩ শা'বান ১৪৪৭

তরুণ কণ্ঠ|Torunkantho
১৬

বিকাশ-রকেট-নগদে ১০০০ টাকার বেশি পাঠানো যাবে না

তরুণ কণ্ঠ অনলাইন

প্রকাশিত: ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬  

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা (এমএফএস) সীমিত করা হচ্ছে। এর ফলে বিকাশ, রকেট, নগদসহ মোবাইল ব্যাংকিং সেবার গ্রাহকেরা দিনে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা লেনদেন করতে পারবেন। প্রতিটি লেনদেনের সীমা হবে সর্বোচ্চ এক হাজার টাকা।

 

এ ছাড়া ব্যাংকিং চ্যানেলে ইন্টারনেট ব্যাংকিং ব্যবহার করে একে অপরকে টাকা স্থানান্তর সেবা বন্ধ করা হচ্ছে। মূলত ব্যক্তি গ্রাহক থেকে আরেকজন ব্যক্তি গ্রাহককে টাকা পাঠানো বন্ধ করা হচ্ছে। আগামী ৮ থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি এই সেবা সীমিত থাকবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়িত্বশীল সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

 

নির্বাচনে ভোটারদের প্রভাবিত করতে যাতে টাকার অপব্যবহার না হয়, এ জন্য এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) এই পরিকল্পনা করছে, যা কার্যকর করতে প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে টাকার পরিমাণ কমবেশি হতে পারে।

 

ইতিমধ্যে নগদ টাকা উত্তোলনের বিষয়ে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। ফলে আসন্ন নির্বাচনে টাকার অপব্যবহার কম হবে বলে আশা করছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা। অবশ্য প্রার্থীদের ঘোষণা অনুযায়ী টাকা খরচে কোনো বাধা নেই। এ ছাড়া সমর্থকেরাও নির্বাচনী খরচের জোগান দিয়ে থাকেন।

 

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, নির্বাচন কমিশনের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে অর্থ লেনদেন সীমিত করা হবে। এ জন্য কাজ চলছে। চলতি সপ্তাহে এ নিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি হবে।

 

কত লেনদেন করা যাবে বর্তমানে বিকাশ, রকেট, নগদসহ সব মোবাইল ব্যাংকিং সেবার গ্রাহকেরা দৈনিক একে অপরের কাছে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত লেনদেন করতে পারেন। এই গ্রাহকেরা প্রতি মাসে তিন লাখ টাকা লেনদেন করতে পারেন। এক দিনে সর্বোচ্চ ৫০টি লেনদেন ও পুরো মাসে ১০০টি লেনদেন করতে পারেন।

 

নির্বাচন কমিশনের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে বিএফআইইউ প্রস্তাবনা দিয়েছে, প্রত্যেক গ্রাহক অন্য গ্রাহককে দিনে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পাঠাতে পারবেন। লেনদেন করতে পারবেন ১০ বার। ৮ থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই সীমা কার্যকর হবে।

 

এদিকে ব্যাংকের গ্রাহকেরা অ্যাপস ও ইন্টারনেট ব্যাংকিং সেবা ব্যবহার করে নিজেদের ব্যাংক ও অন্য ব্যাংকের গ্রাহকদের সঙ্গে লেনদেন করতে পারেন। এই সেবায় এখন জনপ্রিয় অ্যাপস ব্র্যাক ব্যাংকের আস্থা, সিটি ব্যাংকের সিটিটাচ, ইসলামী ব্যাংকের সেলফিন, ডাচ্‌–বাংলা ব্যাংকের নেক্সাস পে ও পূবালী ব্যাংকের পাই। এই সেবার মাধ্যমে ব্যক্তি গ্রাহকেরা প্রতিদিন ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেন করতে পারেন। প্রতিটি লেনদেনের সীমা তিন লাখ টাকা। সর্বোচ্চ ১০টি লেনদেন করা যায়।

 

নির্বাচন কমিশনের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে বিএফআইইউ প্রস্তাব দিয়েছে, ইন্টারনেট ব্যাংকিং ব্যবহার করে আলোচ্য সময়ে (নির্বাচনের সময়ে) ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি টাকা স্থানান্তর বন্ধ রাখতে। বাংলাদেশ ব্যাংক প্রস্তাবটি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করছে বলে জানা গেছে।

 

নগদ টাকা উত্তোলনে তদারকি জোরদার করা হয়েছে। ১১ জানুয়ারি থেকে কোনো একটি হিসাবে কোনো এক নির্দিষ্ট দিনে এক বা একাধিক লেনদেনের মাধ্যমে ১০ লাখ টাকা বা তদূর্ধ্ব অর্থের জমা বা উত্তোলনের ক্ষেত্রে বিএফআইইউর কাছে নগদ লেনদেনের প্রতিবেদন (সিটিআর) অবশ্যই জমা দিতে হবে।

 

পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত নগদ লেনদেনের এই প্রতিবেদন সাপ্তাহিক ভিত্তিতে জমা করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যথাসময়ে সিটিআর দাখিলে ব্যর্থতা অথবা ভুল, অসম্পূর্ণ বা মিথ্যা তথ্য সরবরাহে অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইনের বিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

সংস্থাটির কর্মকর্তারা জানান, সিটিআরে কোনো অস্বাভাবিক লেনদেন হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক প্রথমে পদক্ষেপ নেবে। তাতে ব্যত্যয় হলে সেই ব্যাংক শাস্তির আওতায় আসবে।এই উদ্যোগ নির্বাচনকে অর্থের প্রভাবমুক্ত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

 

এই বিভাগের আরো খবর