বৃহস্পতিবার   ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   মাঘ ৩০ ১৪৩২   ২৪ শা'বান ১৪৪৭

তরুণ কণ্ঠ|Torunkantho
৬৬১

প্রবাসীর লাগাতার সহবাসে জীবন হারালো নুর নাহার!

তরুণ কণ্ঠ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৮ অক্টোবর ২০২০  

বিয়ের ৩৪ দিনের মাথায় মা’রা যাওয়া টাঙ্গাইলের অষ্টম শ্রেণির মেধাবী ছাত্রী নুর নাহারের (১৪) লা’শও দেখতে আসেনি তার পা’ষণ্ড স্বামী প্রবাসী রাজিব খান (৩৫)। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎ’সাধীন অবস্থায় শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাতে নুর নাহারের মৃ’ত্যু হয়।

পরদিন রবিবার (২৫ অক্টোবর) ময়নাত’দন্ত শে’ষে তাকে তার নানার বাড়ির ক’বরস্থানে দা’ফন করা হয়। শি’শু গৃহব’ধূর সঙ্গে তার স্বামীর শারীরিক সম্পর্কের কারণেই র’ক্তক্ষরণ হয়ে বিয়ের ৩৪ দিনের মাথায় টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজে’লার ফুলকি পশ্চিমপাড়া গ্রামে ঘ’টনাটি ঘ’টে।

এদিকে নি’হত নুর নাহারের স্বামীর বাড়ির পক্ষ থেকে গ্রাম্য সা’লিশে বিষয়টি মী’মাংসার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। আ’ইনি প্রক্রিয়ায় এর বি’চার না হলে বাল্যবিয়ের বলি অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী নুর নাহারের পরিবার ন্যায়বি’চার পাবে না বলে দা’বি এলাকার সচেতন মহলের। 

নি’হতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, নুর নাহারের বাবা রিকশাচালক ও মা গার্মেন্টসকর্মী। অ’ভাবের সংসারে তাদের মধ্যে ঝ’গড়া লেগেই থাকতো। এ কারণে দিনমজুর নানা উপজে’লার কাউলজানী ইউনিয়নের কলিয়া গ্রামের বাসিন্দা লাল খান পাশের উপজে’লার নলুয়া কলাবাগান গ্রাম থেকে চার বছর বয়সে নুর নাহারকে তার বাড়িতে নিয়ে আসেন।

এরপর তাকে স্কুলে ভর্তি করান। এ বছর নুর নাহার কলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ছিল। নানাও দরিদ্র হওয়ায় গত ২০ সেপ্টেম্বর নুর নাহারকে উপজে’লার ফুলকি পশ্চিমপাড়া গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে প্রবাসী রাজিব খানের সঙ্গে বিয়ে দেন।

বিয়ের সময় লাল খানের প্রায় ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়। এই টাকার জোগান দেন তার আত্মীয়-স্বজনরা। বিয়ের পর ‍নুর নাহার অ’প্রাপ্ত বয়সে বিয়ে হওয়ায় সহবাসের পর অভ্যন্তরীণ র’ক্তক্ষরণ শুরু হয় নুর নাহারের। তারপরও স্বামীর পাশবিকতা বিন্দুমাত্র কমেনি।

র’ক্তক্ষরণ বন্ধ না হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে নুর নাহার ও রাজিবের পরিবারে আলোচনা হয়। পরে রাজিবের পরিবারের পক্ষ থেকে গ্রাম্য করিবাজ দিয়ে চিকিৎ’সা ক’রানো হয়। পরে গত ২২ অক্টোবর নুর নাহারকে ভর্তি করা হয় টাঙ্গাইলের একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে।

ওই ক্লিনিকে নুর নাহারকে তার পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দিয়ে স্বামী রাজিব ও তার পরিবার কৌশলে সেখান থেকে কে’টে পড়ে। পরে অবস্থার অ’বনতি হলে নুর নাহারের পরিবার তাকে মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালে ভর্তি করে। তাকে চিকিৎসা ক’রানোর মতো টাকাও তখন ছিল না গরিব পরিবারটির হাতে।

স্থানীয় গ্রামবাসী প্রায় ৬০ হাজার টাকা তুলে দিলে উন্নত চিকিৎ’সার জন্য নুর নাহারকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসে তার পরিবার। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাতে তার মৃ’ত্যু হয়।

নুর নাহারের নানা লাল খান বলেন, জামাইর অ’ভাবের কারণে নুর নাহারকে ছোটবেলাতেই আমার বাড়িতে নিয়ে আসি। দিনমজুরি করেই তাকে লেখাপড়া করাচ্ছিলাম। ছেলে প্রবাসী ও ধনী হওয়ায় আমরা নুর নাহারকে বিয়ে দেই। বিয়ের কয়েকদিন পর থেকে তার র’ক্তক্ষরণ শুরু হয়।

এ জন্য নুর নাহারের শাশুড়ি তাকে গ্রাম্য কবিরাজের ওষুধ খাওয়াচ্ছিল। পরে র’ক্তক্ষরণ বেশি হলে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ডাক্তাররা বলেছেন, অ’প্রাপ্ত বয়সে বিয়ের কারণে নুর নাহারের গো’পনাঙ্গ দিয়ে র’ক্তক্ষরণ হচ্ছিল। শে’ষ পর্যন্ত আমরা তাকে আর বাঁ’চাতে পারলাম না।

মৃ’ত্যুর পর নুর নাহারের স্বামী রাজিব তার লা’শ পর্যন্ত দেখতে আসেনি। মূলত স্বামীর কারণেই আমার নাতনির মৃ’ত্যু হয়েছে। পা’ষণ্ড স্বামী রাজিব খান নুর নাহারের মামা লুৎফর খান বলেন, বিষয়টি থা’না পু’লিশকে জানানো হয়েছে। এ ঘ’টনায় মা’মলার প্রস্তুতি চলছে।

কলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জাকির হোসেন বলেন, আমরা নিয়মিতই শিক্ষার্থীদের খোঁ’জ-খবর নিয়ে থাকি। কিন্তু হ’ঠাৎ করেই গো’পনে নুর নাহারকে তার পরিবার বিয়ে দিয়ে দেয়। নুর নাহার মেধাবী ছাত্রী ছিল। অষ্টম শ্রেণিতে তার রোল নম্বর ছিল ২। বিষয়টি অ’ত্যান্ত দুঃখজনক। আমরা একজন মেধাবী ছাত্রীকে হা’রালাম।

উপজে’লা নির্বাহী কর্মক’র্তা (ইউএনও) শামছুন নাহার স্বপ্না বলেন, বাল্যবিয়ের শিকার হয়ে অষ্টম শ্রেণির একজন ছাত্রীর মৃ’ত্যু হয়েছে। বিষয়টি অ’ত্যন্ত দুঃ’খজনক। শুধু আ’ইন দিয়ে নয়, সামাজিকভাবে বাল্যবিয়ে নির্মূল করতে হবে।

বাসাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হারুনুর রশিদ বলেন, এ ঘ’টনায় কোনও লিখিত অ’ভিযোগ পাইনি। বিষয়টি ত’দন্তাধীন। ময়নাত’দন্ত রিপোর্ট পেলে আ’ইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই বিভাগের আরো খবর