শুক্রবার   ০২ জানুয়ারি ২০২৬   পৌষ ১৯ ১৪৩২   ১৩ রজব ১৪৪৭

তরুণ কণ্ঠ|Torunkantho
১৭

পাঁচ মেগাওয়াটের বেশি ক্যাপটিভ প্ল্যান্টে আর গ্যাস নয়

তরুণকণ্ঠ অনলাইন

প্রকাশিত: ২ জানুয়ারি ২০২৬  

শিল্পকারখানায় নিজস্ব ব্যবহারের জন্য বিদ্যুৎ (ক্যাপটিভ পাওয়ার) উৎপাদনের ক্ষেত্রে গ্যাস সরবরাহ নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, পাঁচ মেগাওয়াটের বেশি ক্ষমতার ক্যাপটিভ প্ল্যান্টে আর গ্যাস দেওয়া হবে না।

উপসচিব মুহাম্মদ নাজমুল হাসানের স্বাক্ষরে জারিকৃত নির্দেশনাটি পেট্রোবাংলা, দেশের সব গ্যাস বিতরণ কোম্পানি ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে পাঠানো হয়েছে।

 

এর আগে কার্যকর থাকা নিয়ম অনুযায়ী, শিল্প পর্যায়ে ১০ মেগাওয়াটের বেশি ক্যাপটিভ বিদ্যুৎ সংযোগ নিতে হলে বিদ্যুৎ বিভাগের অনুমতি নিতে হতো। আর ১০ মেগাওয়াট পর্যন্ত সংযোগের অনুমোদন দিতো গ্যাস বিতরণ কোম্পানিগুলো নিজেরাই। নতুন নির্দেশনায় এই সীমা কমিয়ে পাঁচ মেগাওয়াট নির্ধারণ করা হলো।

 

দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎ বিভাগ ক্যাপটিভ ব্যবস্থায় অতিরিক্ত গ্যাস সরবরাহের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে আসছিল। তাদের যুক্তি, মূল বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে গ্যাস ঘাটতির কারণে উৎপাদন ব্যাহত হলেও অনেক ক্ষেত্রে গ্যাস চলে যাচ্ছে শিল্পকারখানার ছোট প্ল্যান্টে। একই পরিমাণ গ্যাস ব্যবহার করেও বড় কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্রে ক্যাপটিভের তুলনায় প্রায় দেড় গুণ বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব, দাবি বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের ।

 

২০২১ সালের আগে ক্যাপটিভ সংযোগ দেওয়ার বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট নীতিমালা ছিল না। সেই বছর ৩১ আগস্ট প্রথমবার একটি পরিপত্র জারি করে সরকার। এতে বলা হয়, ১০ মেগাওয়াটের বেশি ক্যাপটিভ বিদ্যুৎ সংযোগ নিতে হলে বিদ্যুৎ বিভাগের পূর্বানুমতি বাধ্যতামূলক। এরপর বড় সংযোগের তেমন উদাহরণ পাওয়া যায়নি। শুধু টিকে গ্রুপের একটি স্টিল মিলের জন্য ১৬.৮ মেগাওয়াট সংযোগ অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল, তবে ভুয়া এনওসি দাখিলের অভিযোগে সেটিও কার্যকর হয়নি।

 

পেট্রোবাংলার তথ্য বলছে, ২০২২–২৩ অর্থবছরে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে যেখানে সরবরাহ করা হয়েছে ৯,৭২৪ মিলিয়ন ঘনমিটার গ্যাস, সেখানে ক্যাপটিভে গেছে ৫,৩১০ মিলিয়ন ঘনমিটার। ২০২৫ সালের ২৭ ডিসেম্বরের দৈনিক সরবরাহ বিবরণীতেও দেখা যায়, বিদ্যুৎকেন্দ্রের চাহিদা ২,৪৮৬ মিলিয়ন ঘনফুট থাকলেও গ্যাস দেওয়া হয়েছে মাত্র ৬১৩ মিলিয়ন ঘনফুট। ওই দিন গ্যাসের ঘাটতিতে অনেক বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ ছিল।

 

অন্যদিকে গ্যাস বিতরণকারী কোম্পানিগুলোর বার্ষিক প্রতিবেদনে ভিন্ন ছবি পাওয়া যায়। তিতাস গ্যাস জানায়, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে তারা বিদ্যুৎকেন্দ্রে দিয়েছে ২,৭৫১ মিলিয়ন ঘনমিটার গ্যাস, আর ক্যাপটিভে দিয়েছে ৩,৯৮৯ মিলিয়ন ঘনমিটার। কর্নফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির হিসেবেও দেখা যায়, একই সময়ে ক্যাপটিভে সরবরাহ বেশি।

 

বিইআরসির হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত দেশের ক্যাপটিভ বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর সম্মিলিত উৎপাদনক্ষমতা দাঁড়িয়েছে ৬,৭৭২ মেগাওয়াট, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৭০০ মেগাওয়াট বেশি। এর মধ্যে ৩,৬৮৫ মেগাওয়াট গ্যাসভিত্তিক এবং ৩,৮৭০ মেগাওয়াট ডিজেলভিত্তিক।

 

অন্যদিকে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রগুলো থেকে উৎপাদন নেমে এসেছে ১,৭২০ মিলিয়ন ঘনফুটে। আমদানিকৃত গ্যাসের খরচ দেশীয় গ্যাসের তুলনায় বহু গুণ বেশি। প্রতি ঘনমিটার দেশীয় গ্যাসের খরচ যেখানে ১ টাকা, সেখানে আমদানিকৃত গ্যাসের খরচ ৬৫ টাকা। অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে নিকট ভবিষ্যতে আমদানির পরিমাণ বাড়ানোর সুযোগও নেই।

এই বিভাগের আরো খবর