রোববার   ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   ফাল্গুন ৯ ১৪৩২   ০৫ রমজান ১৪৪৭

তরুণ কণ্ঠ|Torunkantho
১৫৮

নেদারল্যান্ডসে ‘নিখোঁজ’ পুলিশ সদস্য রাসেলের পরিবারে আহাজারি

নিজস্ব প্রতিবেদক  

প্রকাশিত: ৩০ মে ২০২২  

নেদারল্যান্ডসে প্রশিক্ষণে গিয়ে না ফেরা পুলিশ সদস্য রাসেল চন্দ্র দে’র পরিবারে এখন চলছে আহাজারি। বাবা-মা, স্ত্রী ও বোন কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না; কেন দেশে ফিরলেন না তিনি?

কেন না নেদারল্যান্ডস থেকে নানা পণ্য কিনেছিলেন তিনি, যা দেশে ফিরে স্বজনদের উপহার দেয়ার কথা ছিল। নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে পরিবারের কারো সঙ্গে তার যোগাযোগ না হলেও শুধুমাত্র কথা হয় দুবাই প্রবাসী বড় ভাইয়ের সঙ্গে।

এদিকে সোমবার (৩০ মে) কক্সবাজার পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পল্লানকাটা এলাকায় ওই পুলিশ সদস্যের বাড়িতে ঢুকতেই দেখা মেলে এক বৃদ্ধার আহাজারি। কথা বলে জানা যায়, রেবা রাণী দে; রাসেলের মা। তিন মাসের অসুস্থ শিশু সন্তান নিয়ে বসে আছেন রাসেলের স্ত্রী পম্পি রাণী; তার চোখও অশ্রুতে ছল ছল। বোন কমলা রাণী দেরও একই অবস্থা।
তারা জানিয়েছেন, অসুস্থ শিশু সন্তানের চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও রাসেলের নেদারল্যান্ডসে প্রশিক্ষণে যাওয়ার বিষয়টি স্বজনরা জানতেন।

বিদেশ গিয়ে প্রশিক্ষণের ফাঁকে ঘোরাফেরার ছবি পাঠিয়েছেন স্ত্রীর মোবাইল ফোনে। সেখান থেকে পরিবারের সদস্যদের জন্য কিনেছিলেন নানা উপহার সামগ্রীও। অথচ ২৩ মে পুলিশের তিন সদস্য বাড়িতে গিয়ে স্বজনদের জানালেন রাসেল দেশে ফেরেননি। সেই থেকে শত চেষ্টার পরও রাসেলের সঙ্গে ঘটেনি কোনো ধরনের যোগাযোগ।

পরে দুবাই প্রবাসী বড় ভাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে রাসেল জানান, তিনি স্বেচ্ছায় নেদারল্যান্ডসে থেকে গেছেন। এরপর থেকে রাসেলের সঙ্গে পরিবারের কারো সঙ্গে কোনো যোগাযোগ নেই।
প্রতিবেশীরা বলছেন, রাসেলের স্বভাব-চরিত্র ভালো। তারাও বুঝতে পারছেন না রাসেল কেন বিদেশে থেকে গেছেন। 
বাবা লক্ষ্মণ চন্দ্র দে’ও ছেলের এ ধরণের কাণ্ডে হতবাক। ছেলের জন্য ঈশ্বরের কাছে মঙ্গল কামনা করেছেন তিনি।

গত ৯ মে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের আট সদস্যের একটি নেদারল্যান্ডসে প্রশিক্ষণ গ্রহণের জন্য যান। সেখান থেকে দলটির ৬ সদস্য দেশে ফিরলেও রাসেল চন্দ্র দে ও শাহ আলম নামের দুজন ফেরেনি। এ ব্যাপারে পুলিশ সদর দফতরে ‘মিসিং রিপোর্ট’ হয়েছে।

এই বিভাগের আরো খবর