বৃহস্পতিবার   ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   মাঘ ২৩ ১৪৩২   ১৭ শা'বান ১৪৪৭

তরুণ কণ্ঠ|Torunkantho
২৭

চোরদের মুখে হাত ঢুকিয়ে পেট থেকে টাকা বের করে আনা হবে: আমির

তরুণ কণ্ঠ প্রতিবেদন

প্রকাশিত: ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬  

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ক্ষমতায় এলে চোরদের মুখে হাত ঢুকিয়ে পেট থেকে সব টাকা বের করে আনা হবে। তিনি বলেন, ৫৪ বছরে যারা ক্ষমতায় ছিলেন তারা নিজেদের পকেট পুরেছেন। ব্যাংক, বীমা লুট করেছে। বড় বড় মেগা প্রকল্পের মেগা দুর্নীতি করেছে। দুর্নীতির টাকা দেশে রাখতে পারেনি। সেই টাকা বিদেশে পাচার করেছে। ক্ষমতায় এলে এই সব চোরদের মুখে হাত ঢুকিয়ে পেট থেকে সব টাকা বের করে আনা হবে।

 

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় নওগাঁ শহরের এটিম মাঠে জেলা জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মাইনোরিটি ও সাঁওতালদের নিরাপত্তার অঙ্গীকার ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যারা মাইনোরিটি অধিকার নিয়ে বেশি হাল্লাচিল্লা করতেন তারা আপনাদের পাশের সাঁওতাল পল্লীতে কী করেছে, আপনারা কি দেখেন নাই? তারা কি আমাদের ভাই-বোন না? তারা কি এ দেশের নাগরিক না? আমরা তাদেরকে কথা দিচ্ছি, আমরা সবাইকে বুকে ধারণ করে সামনে আগাবো। আমরা সবার নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করব।

 

তিনি আরও বলেন, কোনো পরিস্থিতি হলেই যারা মুসলমান নন তারা ভয়ের সংস্কৃতিতে থাকবে কেন? সেই ভয়ের সংস্কৃতিকে আমরা গুড়িয়ে একাকার করে দিতে চাই। সেই পরিবেশ আমরা রাখব না। এদেশ আমাদের সবার। সবাইকে নিয়েই আমরা চলব। নারীদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নারীদের ঘরে ও কর্মস্থলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে তিনি বলেন, মায়েদের জন্য ঘরে, চলাচলে, কর্মস্থলে সব জায়গায় মর্যাদা আর নিরাপত্তা এই দুটি জিনিস নিশ্চিত করা হবে। কোনো জালিম সাহস করবে না নারী জাতির কারও দিকে চোখ তুলে তাকানোর। সেই পরিবেশ তৈরি করা হবে। এই অবস্থা দেখে অনেকে বেসামাল। এখনি যদি মাথা গরম করেন চৈত্র মাসে কী করবেন। মাথা ঠান্ডা রাখেন। মানুষ কী ভাবছে কান পেতে শোনেন। দেশ বাঁচলে আপনিও বাঁচবেন। এই ভোটটা আগামীতে হবে ইনশাআল্লাহ ইনসাফের প্রতীক।

 

তিনি আরও বলেন, নারীদের হুমকি-ধামকি, গায়ে হাত এগুলো যদি বন্ধ না রাখেন, তাদের মনে করিয়ে দিতে চাই, জুলাইয়ের ১৫ তারিখে মেয়েদের গায়ে হাত দেওয়ার জন্য যেভাবে যুবক ভাইয়েরা গর্জে উঠেছিল তারা আবার বিস্ফোরিত হবে, গর্জে উঠবে। মায়ের অপমান সহ্য করবে না। জমিদারি রাজনীতি ভাঙার অঙ্গীকার তিনি বলেন, শুধু রাজার ছেলে রাজা নয়, বংশ পরম্পরায় নেতা নয়। বরং আজকে যিনি কঠোর পরিশ্রম করে রিকশা চালায়, নুন আনতে পান্তা ফুরায় তারও ছেলের যে মেধা আছে সেই মেধাকে বিকশিত করে আগামীর প্রধানমন্ত্রী যেন বের হয়ে আসে। এভাবেই জমিদারি প্রথার রাজনীতি ভেঙে চুরমার হয়ে যাবে।

 

চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, ব্যাংক ডাকাতি বন্ধ সরকার গঠন করলে চাঁদাবাজ ও দুর্নীতবাজদের জামায়াত প্রশ্রয় দেবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের অঙ্গীকার চাঁদাবাজি আমরা করি না। চাঁদাবাজি আমরা কাউকে করতে দেব না। দুর্নীতি আমরা পছন্দ করি না। বগলের নিচে দুর্নীতিবাজদের আশ্রয় দেব না। ব্যাংক ডাকাতি আমরা করি না। কোনো ব্যাংক ডাকাতের সঙ্গে আমাদের আপসরফা হবে না। মামলাবাজি আমাদের কাসলত নয়। মামলাবাণিজ্য যারা করেছে তাদেরকেও আইনের আওতায় আনা হবে।

 

নওগাঁর উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি উত্তরবঙ্গকে কৃষির রাজধানী উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, সারাদেশের মধ্যে নওগাঁ জেলায় দশ ভাগের এক ভাগ উৎপাদন হয়ে থাকে। কিন্তু এই জেলা তার ন্যায্য পাওনা পায়নি। নওগাঁ শহরের ভেতর দিয়ে চলা প্রধান সড়কটি চারলেন হওয়া দরকার। জামায়াত ক্ষমতায় এলে এই সড়কটি চারলেন করা হবে। এই জেলায় ব্যাপক পরিমাণে ধান ও ফল উৎপাদন হয়ে থাকে। কিন্তু কৃষকেরা তাদের ফসলের ন্যায্য মূল্য পায় না। উৎপাদিত ফল সংরক্ষণের জন্য সংরক্ষণাগার তৈরি করা হবে। ফল প্রসেসিং ইন্ডাস্ট্রি করা হবে। প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানগুলো সংরক্ষণ করে পর্যটন শিল্পকে আরও বিকশিত করা হবে।

 

নওগাঁ জেলা জামায়াতের আমির ও নওগাঁ-৪ আসনের জামায়াতের প্রার্থী আব্দুর রাকিবের সভাপতিত্বে জনসভায় আরও বক্তব্য দেন, নওগাঁ জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও নওগাঁ-৫ আসনের জামায়াতের প্রার্থী আ স ম সায়েম, নওগাঁ-১ আসনের জামায়াতের প্রার্থী মাহবুবুল আলম, নওগাঁ-২ আসনের জামায়াতের প্রার্থী এনামুল হক, নওগাঁ-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী মাহফুজুর রহমান, নওগাঁ-৬ আসনের জামায়াতের প্রার্থী খবিরুল ইসলাম, ডাকসুর জিএস এসএম ফরহাদ, ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির প্রমুখ। জামায়াত আমিরের এই জনসভা নওগাঁয় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। দলটির নেতাকর্মীরা দাবি করছেন, এই অঞ্চলে জামায়াতের প্রতি জনগণের সমর্থন বাড়ছে।

এই বিভাগের আরো খবর