সোমবার   ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   ফাল্গুন ১০ ১৪৩২   ০৬ রমজান ১৪৪৭

তরুণ কণ্ঠ|Torunkantho
১১৫

কুসিক নির্বাচন: রিফাতের মনোনয়নে চাঙা নেতাকর্মীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক  

প্রকাশিত: ১৫ মে ২০২২  

আওয়ামী লীগের আমলে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন (কুসিক) প্রতিষ্ঠার এক যুগেও নগর পিতার আসনটি দখলে নিতে পারেনি আওয়ামী লীগ। মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আরফানুল হক রিফাত আসন্ন সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়ায় চাঙা নেতাকর্মীরা।
বিগত দুটি সিটি নির্বাচনে পরাজয়ের গ্লানি মেনে নিতে হয়েছে ক্ষমতাসীনদের। নেতাকর্মীদের অভিযোগ, দলীয় কোন্দলের পাশাপাশি অতীতে দলীয় প্রার্থী সিলেকশন সঠিক হয়নি বলেই জয় পায়নি আওয়ামী লীগ। এতে নেতাকর্মীদের মাঝে ক্ষোভ-হতাশা দুটোই ছিল। এবার তৃণমূলের প্রার্থীর ওপর আস্থা রেখেছেন দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।


এদিকে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন (কুসিক) নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পাওয়া ১৩ জনের অধিকাংশ নেতাই সংবাদমাধ্যমে ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। এ সময় কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করবেন বলে জানান তারা।

শুক্রবার বিকেলে গণভবনে আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের এক সভায় মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আরফানুল হককে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়।
জানতে চাইলে মনোনয়নপ্রত্যাশী সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ও মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আঞ্জুম সুলতানা সীমা বলেন, ‘সবাই নৌকার জন্য কাজ করব। নেত্রীর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।’

নিজে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে নন বলে জানিয়েছেন মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মো. ওমর ফারুক। এই মনোনয়নপ্রত্যাশী বলেন, ‘নেত্রী যে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন, সেটা মেনে নিয়েছি।’
আর কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সফিকুল ইসলাম শিকদার বলেন, ‘যেহেতু নেত্রীর ও মনোনয়ন বোর্ডের সিদ্ধান্ত, অতএব অভিনন্দন।’

দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করবেন বলে জানিয়েছেন মহানগর আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক নূর উর রহমান মাহমুদ তানিমও। তিনি বলেন, ‘জাতির এই ক্রান্তিলগ্নে যখন ষড়যন্ত্রকারীরা ঐক্যবদ্ধ, তখন প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় প্রধানের প্রার্থীকে স্বাগত জানাই।’

মহানগর আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদ সম্পাদক কবিরুল ইসলাম শিকদার বলেন, ‘মনোনয়ন বোর্ড যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা নিয়ে আমার বলার কিছু নেই।’
অপর মনোনয়নপ্রত্যাশী মহানগর আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক আনিসুর রহমান মিঠু ফেসবুকে নৌকার প্রার্থীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তবে আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা উপকমিটির সদস্য মাসুদ পারভেজ খান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী দিয়েছেন, মানা ছাড়া আমাদের উপায় নেই।’

এদিকে আরফানুল রিফাতের মনোনয়নের খবরে শুক্রবার সন্ধ্যার পর থেকে নগরীতে আনন্দ মিছিল, মিষ্টি বিতরণসহ উৎসবে মেতে ওঠেন নেতাকর্মীরা। তারা নৌকার প্রার্থীকে বিজয়ী করতে নানা অভিব্যক্তি প্রকাশ করেন।
মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবিদুর রহমান জাহাঙ্গীর বলেন, ‘১৯৮৪ পৌর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সমর্থিত প্রার্থী হাজি আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহারের পর কোনো নেতা পৌর নির্বাচনে ও সিটি করপোরেশন হওয়ার পর সিটি নির্বাচনে জয়ী হতে পারেননি। এবার নেত্রী যোগ্য প্রার্থীর হাতে নৌকা তুলে দিয়েছেন, জয় আমাদের নিশ্চিত।’

২৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন মজুমদার দুলাল মাস্টার বলেন, ‘রিফাতের দলের জন্য ত্যাগ রাজনীতিতে বিরল দৃষ্টান্ত। দলের একজন পরীক্ষিত নেতার হাতে নৌকা উঠেছে। আমরা আনন্দিত, আমরা উৎফুল্ল। জয় সময়ের ব্যাপার মাত্র।’

মহানগর যুবলীগের সদস্য নাজমুল ইসলাম শাওন বলেন, ‘অনেক দিন পর কুমিল্লা সিটি নির্বাচনে যোগ্য প্রার্থী পেয়েছে নগরবাসী। ১৫ জুন ভোটের মাধ্যমে স্বাধীনতাবিরোধীদের পরাস্ত করে নগরপিতার আসনে রিফাত ভাইকে বসাতে প্রতীক্ষার প্রহর গুনছেন।’

উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ১০ জুলাই কুমিল্লা সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০১২ সালের ৫ জানুয়ারি প্রথম ও ২০১৭ সালের ৩০ মার্চ দ্বিতীয় দফা নির্বাচন হয়। দুটি নির্বাচনেই প্রথমবার আওয়ামী লীগের সমর্থিত প্রবীণ নেতা আফজাল খান ও দ্বিতীয় দফায় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আঞ্জুম সুলতানা সীমা মেয়র পদে পরাজিত হন। আগামী ১৫ জুন এই সিটি করপোরেশনে আবারও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। রিটার্নিং কর্মকর্তার দফতর সূত্রে জানা গেছে, ১৭ মে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। 

এই বিভাগের আরো খবর