বুধবার   ১৪ জানুয়ারি ২০২৬   মাঘ ১ ১৪৩২   ২৫ রজব ১৪৪৭

তরুণ কণ্ঠ|Torunkantho
২১

আজ পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী সাকরাইন, নেই পুরোনো আমেজ

আবিদ হাসান বাঁধন, জবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৪ জানুয়ারি ২০২৬  

ঘুড়ি উৎসব বা পৌষসংক্রান্তি যা পুরান ঢাকায় সাকরাইন নামে পরিচিত। সারাদিন ঘুড়ি উড়ানো, বাড়ি-ঘরের ছাদে জমকালো আলোকসজ্জা, আগুন নিয়ে খেলা, সন্ধ্যায় বর্ণিল আতশবাজি ও ফানুসে ছেয়ে যায় পুরান ঢাকার আকাশ। বাংলাদেশের প্রাচীন উৎসবগুলোর মধ্যে একটি ‘পুরান ঢাকার সাকরাইন উৎসব’। যা প্রতি বছর ১৪ ই জানুয়ারি পুরান ঢাকার বাসিন্দরা উৎযাপন করে।

 

সাকরাইন উপলক্ষে পুরান ঢাকায় ছেলেরা সপ্তাহখানেক আগেই প্রস্তুতি শুরু করে। রং-বেরঙের ঘুড়ি সংগ্রহের পাশাপাশি বাসার ছাদগুলো সাজান তারা। সব মিলিয়ে এ যেন এক মহোৎসব। সাকরাইন উপলক্ষে দিনের প্রথম পর্বে চলে ঘুড়ি কাটাকাটির প্রতিযোগিতা; গোত্তা খাওয়া ঘুড়ি এবং 'ভোকাট্টা' রবের সঙ্গে সাউন্ড সিস্টেমের তালে তালে গানবাজনার মাধ্যমে আনন্দ-উল্লাস চলতে থাকে শীতের মিষ্টি বিকেল জুড়ে। সন্ধ্যা নামতেই শুরু হয়ে যায় চোখ ধাঁধানো আতশবাজির প্রদর্শনী। লেজার শো আর 'ডিস্কো লাইট' এর পাশাপাশি কেউ কেউ কেরোসিন মুখে মশালে ফুঁ দিয়ে অগ্নিকুণ্ড তৈরি করে। সন্ধ্যার আকাশে ঘুড়ির জায়গা নেয় রঙিন ফানুস। আলোর ঝলকানিতে ঢেকে যায় পুরান ঢাকার সম্পূর্ণ আকাশ।

 

সাকরাইন উপলক্ষে পুরান ঢাকার শাঁখারিবাজার, তাঁতিবাজার, কলতাবাজার, শিংটোলা, কাগজীটোলা, সূত্রাপুর, লক্ষ্মীবাজার, বাংলাবাজার, ফরাশগঞ্জ, বানিয়ানগর, আইজি গেট, আরসিন গেট, গেন্ডারিয়া প্রভৃতি এলাকা যেন নতুন প্রাণ পায়।

 

প্রতি বছরের নেয় এ বছরও ১৪ জানুয়ারি সকাল থেকেই উৎসবের আমেজ নিয়ে শুরু হয় ঘুড়ি উৎসব। শিশু থেকে বৃদ্ধ, সবাই সকাল থেকেই ভবনগুলোর ছাদে ঘুড়ি উড়ানো শুরু করে। যদিও সন্ধ্যার পর থেকে এই উৎসবের আমেজ আরো বাড়ে। তবে বিগত বছর গুলোর তুলনায় এবার সাকরাইন এর আয়োজন বেশ কম।

 

এবারের সাকরাইন উৎসব ঘিরে ব্যাপক সমালোচনা ও নীতিবাচক উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে পুরাণ ঢাকার বাসিন্দদের কাছে। যার মূল কারণ হলো বিগত বছর সাকরাইন পালন করতে গিয়ে অনেক বাধার সম্মূক্ষিণ হয়েছে তারা সাথে বেশ কিছু জায়গায় হাতাহাতি এবং ভাংচুর এর ঘটনাও ঘটেছে। তাছাড়া বিগত কিছুদিন যাবৎ বিভিন্ন মসজিদ ও মাদ্রাসা থেকে সাকরাইন নিষিদ্ধের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও দেখা গেছে পুরান ঢাকায়। তাই অনেকের ধারণা এবারও সাকরাইন উপলক্ষে জামেলার সৃষ্টি হতে পারে পুরান ঢাকায়।

 

ইতিহাস থেকে জানা যায়, ১৭৪০ সালের এই দিনে নায়েব-ই-নাজিম নওয়াজিশ মুহম্মদ খান ঘুড়ি ওড়ানোর প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছিলেন।সেই থেকে এই দিনটি উৎসব ও আমেজে পরিণত হয়। এরপর প্রতি বছর ১৪ জানুয়ারি পুরান ঢাকায় উদযাপন করা হয় এই উৎসব। 

এই বিভাগের আরো খবর