মঙ্গলবার   ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   ফাল্গুন ৫ ১৪৩২   ২৯ শা'বান ১৪৪৭

তরুণ কণ্ঠ|Torunkantho
২৭

অক্ষম প্রক্টোরিয়াল বডিতে চলছে গোবিপ্রবির কার্যক্রম

রান্নু,​গোবিপ্রবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬  

​গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (গোবিপ্রবি) ড. আরিফুজ্জামান রাজিবের নেতৃত্বাধীন প্রক্টোরিয়াল বডির বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা, মব নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং প্রশাসনিক অদক্ষতার পাহাড়সম অভিযোগ উঠেছে। জুলাই-আগস্ট পরবর্তী সময়ে প্রক্টর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তার রাজনৈতিক পরিচয় এবং কার্যকলাপে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে।  ​রাজনৈতিক পরিচয় ও নিয়োগ নিয়ে ​অভিযোগ উঠেছে। 

 

ড. আরিফুজ্জামান রাজিব বঙ্গবন্ধু পরিষদের অন্যতম প্রতিষ্ঠাকাতা সদস্য হওয়া সত্ত্বেও পটপরিবর্তন পরবর্তী পরিস্থিতিতে প্রক্টরের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদ বাগিয়ে নিয়েছেন। শুধু তাই নয় ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়েও শিক্ষক সমিতির শীর্ষ পদে ছিলেন যিনি। আওয়ামীপন্থী প্যানেল থেকে নির্বাচিত হয়ে সে দায়িত্ব পালন করেন। গণহত্যার দায়ে অভিযুক্ত কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগের পক্ষের প্যানেলের শিক্ষক নেতাকে প্রক্টর করায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষার্থীরা।

 

​ক্যাম্পাসে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া বিভিন্ন বিশৃঙ্খলা ও 'মব জাস্টিস' নিয়ন্ত্রণে প্রক্টরিয়াল বডির ভূমিকা ছিল চরম হতাশাজনক। অভিযোগ রয়েছে, ​হামলার শিকার শিক্ষার্থীদের পাশে না দাঁড়িয়ে উল্টো নীরব ভূমিকা পালন করেছে প্রক্টরিয়াল বডি। অথচ নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দিয়েছেন মিথ্যা মামলা। ​অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে 'বিচারহীনতার সংস্কৃতি' তৈরি করা হয়েছে।

 

​নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্তার ঘটনায় প্রক্টরিয়াল বডির নারী সদস্যরা রহস্যজনকভাবে নিষ্ক্রিয় ছিলেন, যা ক্যাম্পাসে ছাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা বাড়িয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ইউনিয়ন সভাপতি সুবর্ণা রায় বহিরাগত ব্যক্তি দ্বারা হেনস্তার শিকার হওয়ার ঘটনায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনোপ্রকার যোগাযোগ ও সহযোগিতা না করার কথা জানা যায়। এ বিষয়ে সুবর্ণা রায় বলেন, আমাকে হেনস্তা করা হলে প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করলেও তারা কোনো সহযোগিতা করেনি। বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মিশু ম্যাম খোঁজ নিলেও প্রক্টরিয়াল বডির কোনো নারী সদস্য আমাকে কোনো খোঁজ নেয়নি।

 

​সাংস্কৃতিক ও একাডেমিক ক্ষেত্রে


​শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রক্টরের ব্যক্তিগত ও একতরফা সিদ্ধান্তে ক্যাম্পাসের একসময়ের প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক অঙ্গন আজ মৃতপ্রায়। এর পাশাপাশি প্রশাসনিক ক্ষমতা ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের সার্টিফিকেট আটকে রাখা এবং কর্মকর্তাদের বিনা কারণে দপ্তর পরিবর্তনের মাধ্যমে কর্মপরিবেশ নষ্ট করার অভিযোগও আছে ড. রাজিবের বিরুদ্ধে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান,ইচ্ছেমতো দপ্তর পরিবর্তনের পেছনে প্রভাবক হিসেবে কাজ করেন প্রক্টর। অথচ এটি তার দায়িত্ব নয়। 

 

এছাড়া নিয়মবহির্ভূতভাবে শিক্ষার্থীর সনদ আটকে রাখার ঘটনায় সংবাদ সম্মেলনও করেছিলেন ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থী আতিক ফয়সাল। সে সময় পরীক্ষার সনদ অনৈতিকভাবে আটকে রাখেন প্রক্টর আরিফুজ্জামান রাজিব। পরবর্তীতে তীব্র সমালোচনার মুখে উপাচার্যের হস্তক্ষেপে সনদ পান সেই শিক্ষার্থী। আতিক ফয়সাল বলেন, যৌক্তিক কারণ ছাড়াই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কর্তৃক ১৩ দিন সনদ উত্তোলনের ফরম আটকে রাখা ক্ষমতার চরম অপব্যবহার ও প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচারিতার নামান্তর। যার জন্য সনদ উত্তোলন সম্ভব হয় নি। এমন স্বেচ্ছাচারী ব্যাক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে অপসারণের দাবি জানাচ্ছি।

 

পরীক্ষায় নকল করার অভিযোগের তদন্ত প্রমাণিত (চলমান) না হলেও এক শিক্ষার্থীকে বহিষ্কারের সুপারিশও করেন তিনি। পরে উপাচার্যের হস্তক্ষেপে সেটা প্রত্যাহার হয়। এছাড়া আওয়ামীলীগ আমলে বিএনপির বিরুদ্ধে মানববন্ধনে বিএনপির নিষিদ্ধের দাবিতে এক শিক্ষক বক্তব্য দিলে উচ্ছ্বসিত হয়ে হাত তালি দিতে দেখা যায় তাকে 

 

অভিযোগ আছে সহকারী প্রক্টর রাহাত তুহিনের বিরুদ্ধেও। সহকারী প্রক্টর রাহাত তুহিনের বিরুদ্ধে গুরুতর একাডেমিক অনিয়মের অভিযোগ ছিল তার বিভাগের শিক্ষার্থীদের ভেতর থেকেই । এমনকি শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের হুমকি ধামকি দিয়ে বেড়াতেন এই শিক্ষক। আওয়ামীলীগের শেষ সময়ে শেখ হাসিনার ভাই ও পতিত সরকারের চিফ হুইপ লিটন চৌধুরীর প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় বেশকিছু নিয়োগ ছাড় হওয়ার গুঞ্জন ওঠে গোবিপ্রবিতে। সে সময় এ বিষয়ে অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে সংবাদ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ছিল সরব। আওয়ামী আমলের সেই সময়েই নিয়োগ পান রাহাত তুহিন। সহকারী প্রক্টর পদ ব্যবহার করে আরিফুজ্জামান রাজিবের দয়াপরবশে নিজেকে নিয়ে যান শিক্ষার্থী বিরোধিতার অনন্য উচ্চতায়। হুমকি ধামকি দিতেন সংবাদকর্মীদেরও। 

 

গোবিপ্রবি প্রেসক্লাবের প্রচার সম্পাদক বিপ্র এন এম বলেন, একদিন রাতে আমাদের সংগঠনের অফিসে এসে মব করেন রাহাত তুহিন।  সে সময় আমরা বাধা দেয়ার চেষ্টা করলে ও উনি মব করছেন বলা হলে তিনি আমাদের একজনকে বলেন,আমি চাইলে তুমি বের হতে পারবেন না। মব করলে করছি,যা পারো করো। একজন সহকারী প্রক্টর হয়ে এভাবে হুমকি ধামকি দেয়ায় অবাক হয়ে যাই।  উনি সহকারী প্রক্টর। উনার কোনো অভিযোগ থাকলে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী আমাদের ডাকবেন। উনি নিজে শৃঙ্খলার রক্ষক হয়ে ভাঙেন শৃঙ্খলা, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা থাকে কিভাবে? আমাদের নিউজে তার নাম কেন যায় নি এ জন্য এক সাংবাদিককে বাবা তুলেও কথা বলেন তিনি। শিক্ষকতার নূন্যতম নৈতিক অবস্থান তার নেই। 

 

এ বিষয়ে প্রক্টর আরিফুজ্জামান রাজিব, সহকারী প্রক্টর রাহাত তুহিনকে ফোন করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।
 

এই বিভাগের আরো খবর