বিনোদন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৫ ঘন্টা আগে, ০৯:১৬ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

কে-পপ দুনিয়ায় প্রেম করা নিষেধ: লিসা

কে-পপ দুনিয়ার আন্তর্জাতিক মহাতারকা হয়ে ওঠার পেছনের চড়া মূল্য দিতে হয়েছে ব্ল্যাকপিংকের থাই সদস্য লালিসা মনোবান বা লিসাকে। তারকা খ্যাতির আড়ালে জীবনের অসংখ্য সাধারণ অনুভূতি বিসর্জন দেওয়া, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা না থাকা এবং গোপনে প্রেম করার কঠিন বাস্তবতা এবার নিজেই অকপটে স্বীকার করেছেন তিনি।

সম্প্রতি প্রকাশিত লিসার নিজস্ব একক প্রামাণ্যচিত্র ‘অলওয়েজ লালিসা’-তে তাঁর জীবনের এই না-বলা অধ্যায়গুলো উঠে এসেছে, যা নিয়ে বৃহস্পতিবার কানাডার প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম 'টরন্টো স্টার' একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

প্রামাণ্যচিত্রে নিজের কষ্টের দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন লিসা। তিনি জানান, ২০১১ সালে মাত্র ১৪ বছর বয়সে থাইল্যান্ড থেকে দক্ষিণ কোরিয়ায় পাড়ি জমান এবং ‘ওয়াইজি এন্টারটেইনমেন্ট’-এ কে-পপ ট্রেইনি বা প্রশিক্ষণার্থী হিসেবে যোগ দেন। লিসার ভাষ্যমতে, "শুরুর দিনগুলোতে আমি এতটাই ভয় পেতাম যে মুখ খুলে নিজের কোনো ভাবনা বা মতামত প্রকাশ করার সাহসও আমার হতো না।" প্রামাণ্যচিত্রে প্রশিক্ষণকালে প্রতি মাসে মূল্যায়ন ভিডিও জমা দেওয়ার পর কর্মকর্তাদের কঠোর প্রতিক্রিয়ার কথা মনে করে তাঁকেও কাঁদতে দেখা যায়।

সবচেয়ে বড় বিধিনিষেধ ছিল ব্যক্তিগত জীবন ও প্রেমের ক্ষেত্রে। লিসা বলেন, "কে-পপ ইন্ডাস্ট্রির অলিখিত নিয়মই হলো—আমরা প্রকাশ্যে প্রেম করতে পারি না।" তরুণ বয়সে কয়েকবার প্রেমে পড়লেও ব্ল্যাকপিংকের আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তায় যেন কোনো প্রভাব না পড়ে, সেই ভয়ে প্রতিবারই নিজের অনুরাগকে আড়ালে রাখতে বাধ্য হয়েছেন তিনি।

তাঁর প্রথম একক স্টুডিও অ্যালবাম ‘অল্টার ইগো’-এর হিট গান ‘ড্রিম’ মূলত একটি অতীত গোপন প্রেমের গল্প থেকে অনুপ্রাণিত। লিসা জানান, গানটি প্রকাশের আগে তিনি তাঁর সাবেক প্রেমিকের কাছ থেকে অনুমতি নিয়েছিলেন। সেই প্রেমিক একটি শর্তেই রাজি হন—তার আসল পরিচয় যেন ভক্তদের সামনে কখনোই প্রকাশ করা না হয়।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি ফরাসি ধনকুবের ফ্রেদেরিক আর্নল্টের সঙ্গে লিসার সম্পর্ক ভাঙনের খবরের মাঝে থাই অভিনেতা ব্লু পংতিওয়াতের সঙ্গে তাঁর নতুন প্রেমের গুঞ্জন ছড়িয়েছে। তবে বৈশ্বিক খ্যাতির অন্তরালে লিসার এই মানসিক লড়াইয়ের স্বীকারোক্তি কে-পপ ভক্তদের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে।

মন্তব্য করুন