প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ১০:০৪ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
ঢাকা, ১৮ জুন ২০২৬: সরকারি মালিকানাধীন বিশেষায়িত আর্থিক প্রতিষ্ঠান ‘আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক’-এর ডাটা এন্ট্রি অপারেটর (গ্রেড-১৬) পদের অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। ব্যাংকের ৩০০টি স্থায়ী শূন্য পদের বিপরীতে এবার রেকর্ডসংখ্যক ৪২ হাজার ৫৯৪ জন চাকরিপ্রার্থী আবেদন করেছেন। ফলে প্রতিটি পদের জন্য গড়ে ১৪২ জন প্রার্থী তীব্র প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হবেন।
গত ১৩ জুন আবেদনের সময়সীমা শেষ হওয়ার পর এই বিপুল সাড়া পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। আধুনিক ডিজিটাল ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ডাটা এন্ট্রি এখন তরুণদের কাছে একটি সম্ভাবনাময়, প্রযুক্তিযোগ ও মর্যাদাপূর্ণ পেশা হিসেবে সমাদৃত হচ্ছে।
এই পদের জন্য আবেদনকারীদের শিক্ষাগত ও কারিগরি যোগ্যতার মানদণ্ড নিচে দেওয়া হলো:
শিক্ষাগত যোগ্যতা: যেকোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক (Graduation) বা সমমানের ডিগ্রি।
টাইপিং গতি: কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরে প্রতি মিনিটে বাংলায় সর্বনিম্ন ২০ শব্দ এবং ইংরেজিতে ২৮ শব্দের গতি থাকতে হবে।
অন্যান্য শর্ত: 'Standard Aptitude Test'-এ উত্তীর্ণ হওয়া বাধ্যতামূলক।
বাছাই প্রক্রিয়া: ৩০০টি পদের জন্য জমাকৃত ৪২ হাজারের বেশি আবেদনপত্র প্রাথমিক যাচাই-বাছাই শেষে প্রার্থীদের প্রথমে একটি লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হবে। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের কম্পিউটার ব্যবহারের ওপর ব্যবহারিক পরীক্ষা দিতে হবে। এরপর ব্যবহারিক পরীক্ষায় সফলদের চূড়ান্ত মৌখিক পরীক্ষা (ভাইভা) গ্রহণের মাধ্যমে স্থায়ীভাবে নিয়োগের জন্য মনোনীত করা হবে।
চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীরা জাতীয় বেতন স্কেলের ১৬তম গ্রেড অনুযায়ী ৯,৩০০ – ২২,৪৯০ টাকা স্কেলে মূল বেতন পাবেন। এর পাশাপাশি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের নিয়ম ও সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী অন্যান্য ভাতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা হবে।
অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক ডিজিটাল ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ডাটা এন্ট্রি অপারেটর পদটিকে শুধু সাধারণ ‘টাইপিং’ পেশা মনে করার সুযোগ নেই। এটি অত্যন্ত দায়িত্বশীল ও সংবেদনশীল একটি পদ।
একজন ডাটা এন্ট্রি অপারেটরের মূল কাজ হলো কাগজের ফাইল দেখে গ্রাহকদের লাখ লাখ গোপনীয় তথ্য নিখুঁতভাবে কম্পিউটারে ইনপুট দেওয়া, পূর্বের ডাটা হালনাগাদ করা এবং ব্যাংকের কেন্দ্রীয় সার্ভারের তথ্য সুরক্ষিত রাখা। এছাড়া ঋণ আদান-প্রদানের বিবরণী এবং দৈনন্দিন আর্থিক লেনদেন অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে ডাটাবেজে যুক্ত করার কাজটিও তাঁরাই করেন। ব্যাংকিং খাতে একটি ছোট ভুল বা সংখ্যার গরমিল বড় ধরনের আর্থিক বিপর্যয়, জালিয়াতি কিংবা আইনি জটিলতা তৈরি করতে পারে। তাই কারিগরি দক্ষতার পাশাপাশি এই পদের কর্মীদের শতভাগ সৎ ও বিশ্বস্ত থাকা বাধ্যতামূলক।
স্বচ্ছতা ও মেধার ভিত্তিতেই এই নিয়োগ সম্পন্ন হবে বলে আশ্বস্ত করেছে ব্যাংক প্রশাসন। এ প্রসঙ্গে আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষা কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাদী মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ বলেন:
“গত ১৩ জুন আবেদনের সুযোগ শেষ হয়েছে। মোট আবেদন জমা পড়েছে ৪২ হাজার ৫৯৪টি। ব্যাংকের সেবাকে পুরোপুরি ডিজিটাল ও আধুনিক করতে আমরা মেধা, কারিগরি দক্ষতা ও সততার ভিত্তিতে সবচেয়ে দক্ষ ও যোগ্য প্রার্থীদেরই বাছাই করব।”
মন্তব্য করুন