প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ১০:৪৩ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের মধ্যে বহুল আলোচিত সমঝোতা স্মারক আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছে। দুই দেশের প্রতিনিধিরা সরাসরি উপস্থিত না হয়ে ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে এই চুক্তিতে সই করেন।
সমঝোতা স্মারকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ইরানের ওপর আরোপিত নির্দিষ্ট কিছু আর্থিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। ভবিষ্যৎ আলোচনায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কাজ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়েছে।
‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের মধ্যকার ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’ শিরোনামে প্রকাশিত এই চুক্তি দীর্ঘদিন জনসমক্ষে না আনার কারণে সমালোচনার মুখে পড়ে। পরবর্তীতে সেই প্রেক্ষাপটে এটি প্রকাশ করা হয়।
সমঝোতা অনুযায়ী, অবিলম্বে এবং স্থায়ীভাবে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে সামরিক অভিযান বন্ধ রাখার বিষয়ে সম্মত হয়েছে দুই পক্ষ। একে অপরের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগ বা হুমকি থেকে বিরত থাকা এবং পারস্পরিক সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান জানানোর অঙ্গীকার করা হয়েছে।
চুক্তির আওতায় সর্বোচ্চ ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ধাপে ধাপে নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করবে এবং ইরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
এ ছাড়া ইরান পারস্য উপসাগর থেকে ওমান সাগর পর্যন্ত বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করবে এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সমুদ্রপথে স্থাপিত মাইন অপসারণ করবে।
চুক্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র আঞ্চলিক অংশীদারদের সহযোগিতায় প্রায় ৩০০ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে ইরানের পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের একটি পরিকল্পনা প্রণয়ন করবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ চূড়ান্ত চুক্তির অংশ হিসেবে ইরানের ওপর আরোপিত সব ধরনের আন্তর্জাতিক ও একতরফা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
পারমাণবিক ইস্যুতে ইরান পুনরায় নিশ্চিত করেছে যে তারা কোনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা সংগ্রহ করবে না। মজুত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধানে নিষ্ক্রিয় করার বিষয়েও দুই পক্ষ সম্মত হয়েছে।
চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান পরিস্থিতি বজায় রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচির বর্তমান অবস্থা ধরে রাখবে এবং যুক্তরাষ্ট্র নতুন কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে না।
এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল রপ্তানি ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংকিং, বিমা ও পরিবহন খাতে ছাড় দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। একই সঙ্গে জব্দ থাকা ইরানি সম্পদ ব্যবহারের ক্ষেত্রেও ধাপে ধাপে উন্মুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
সমঝোতা বাস্তবায়ন ও তদারকির জন্য একটি যৌথ নির্বাহী কাঠামো গঠনের বিষয়েও সম্মত হয়েছে দুই দেশ। চূড়ান্ত চুক্তিটি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বাধ্যতামূলক প্রস্তাবের মাধ্যমে অনুমোদনের পরিকল্পনা রয়েছে।
আগামী শুক্রবার এই সমঝোতা স্মারকের আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
মন্তব্য করুন