আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ৫ ঘন্টা আগে, ০৯:১২ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

ট্রাম্পের কাছে ইরান সংঘাত ‘ছোটখাটো বিষয়’: নিশানায় নাতানজের সামরিক স্থাপনা

ইরানের অত্যন্ত সুরক্ষিত এবং মাটির বহু গভীরে নির্মিত পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনা ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনে’ খুব শিগগিরই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালাতে পারে বলে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই আশঙ্কার কথা প্রকাশ করেন।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আরব নিউজ ও বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কড়া সুরক্ষায় নির্মিত ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’ স্থানটি মূলত ইরানের প্রধান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র নাতানজের কাছাকাছি অবস্থিত। বিশাল এই পর্বতের মাটির অনেক গভীরে দুটি সুরক্ষিত সুড়ঙ্গ কমপ্লেক্স রয়েছে, যা আধুনিক বোমার আঘাত থেকে পারমাণবিক উপাদান ও প্রযুক্তি রক্ষায় ব্যবহৃত হয়।

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক উত্তাপ প্রসঙ্গে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই লড়াইকে যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বেশ হালকা করে উপস্থাপন করেছেন। সম্প্রতি ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বিষয়টিকে ‘পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ’ না বলে একে সীমিত সামরিক সংঘাত হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। ভ্যান্সের সেই মন্তব্যকে সমর্থন জানিয়ে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, "অনেকেই এটিকে বড় যুদ্ধ বলতে চান না, আমিও একে সাধারণ সামরিক সংঘাত বলি। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের শক্তির বিচারে এটি অত্যন্ত ছোটখাটো বিষয় (স্মল পটেটোস)। অতীতে আমরা ভেনেজুয়েলায় এমন অভিযান করেছি, এবারও তাই করছি।"

রাজনৈতিক গবেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন মূলত ইরানের ওপর চরম অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা বজায় রাখার পাশাপাশি যেকোনো সময় বড় ধরনের সামরিক অভিযানের জোড়া কৌশল (টু-ট্র্যাক স্ট্র্যাটেজি) অনুসরণ করছে। কার্নেগি এনডাওমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিসের জ্যেষ্ঠ বিশেষজ্ঞ অ্যারন ডেভিড মিলারের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, হোয়াইট হাউস একদিকে পূর্ণ মাত্রার বিধ্বংসী যুদ্ধ এড়াতে চাইছে, আবার অন্যদিকে হরমুজ প্রণালি বা পারমাণবিক প্রশ্নে ইরানকে রাজনৈতিকভাবে ছাড় দিচ্ছে—এমন চিত্রও তৈরি হতে দিতে চাইছে না। ফলে এ ধরনের ভূগর্ভস্থ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় সুনির্দিষ্ট বিমান বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার হুমকি দিয়ে তেহরানকে মানসিক চাপে রাখাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান মূল লক্ষ্য।

মন্তব্য করুন