তরুণ কণ্ঠ প্রতিবেদন

প্রকাশিত: ৩৪ মিনিট আগে, ১১:৫৭ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

৭৬ কোটি ডলার বিনিয়োগে গড়ে উঠছে দেশের প্রথম বিদেশি পরিচালিত কনটেইনার টার্মিনাল

চট্টগ্রামের পতেঙ্গার লালদিয়ার চরে বৈশ্বিক বিনিয়োগে দেশের প্রথম কোনো কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। ডেনমার্কের বিশ্বখ্যাত শিপিং ও লজিস্টিকস প্রতিষ্ঠান মায়ের্সক গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান 'এপিএম টার্মিনালস' এই মেগা প্রকল্পে ৭৬ কোটি মার্কিন ডলার (প্রায় ৯ হাজার ৩৪৮ কোটি টাকা) সরাসরি বিনিয়োগ করছে।

প্রকল্পের স্থান হিসেবে কর্ণফুলী নদীর ডান তীরে, চট্টগ্রাম বন্দর থেকে প্রায় ৯ কিলোমিটার ভাটিতে লালদিয়ার চরের ৪৯.১৫ একর জমি বেছে নেওয়া হয়েছে। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) আওতায় ডিবিএফওটি (ডিজাইন, নির্মাণ, অর্থায়ন, পরিচালনা ও হস্তান্তর) ভিত্তিতে গ্রিনফিল্ড ক্যাটাগরিতে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। ২০২৯ সালের শেষ নাগাদ নির্মাণকাজ শেষ করার পর ২০৩০ সালে টার্মিনালটি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর চুক্তি অনুযায়ী এটি ৩০ বছর পরিচালনা করবে এপিএম টার্মিনালস, যা পরবর্তীতে আরও ১৫ বছর বাড়ানোর সুযোগ থাকছে।

বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরের চারটি কনটেইনার টার্মিনালে বছরে প্রায় ৩৫ লাখ টিইইউএস (TEUs) কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের সক্ষমতা রয়েছে। লালদিয়া টার্মিনাল চালু হলে নতুন করে আরও প্রায় ৯ লাখ টিইইউএস সক্ষমতা যুক্ত হয়ে মোট সক্ষমতা প্রায় ৪৪ লাখ টিইইউএস-এ উন্নীত হবে।

এই প্রকল্পের সবচেয়ে বড় প্রযুক্তিগত সাফল্য হলো বড় জাহাজ ভেড়ানোর সুযোগ। বর্তমানে মূল বন্দরগুলোতে সর্বোচ্চ সাড়ে ৯ মিটার ড্রাফট ও ২,৮০০ টিইইউএস ধারণক্ষমতার জাহাজ ভিড়তে পারে। তবে লালদিয়ায় সাড়ে ১০ মিটার ড্রাফটের প্রায় ৬,০০০ টিইইউএস ধারণক্ষমতার বিশালাকার জাহাজ ভিড়তে পারবে। ৬১৩ মিটার দীর্ঘ জেটিতে একসঙ্গে তিনটি মাঝারি কিংবা দুটি বড় জাহাজ নোঙর করতে পারবে।

সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, এই টার্মিনাল নির্মাণে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকে নিজস্ব তহবিল থেকে কোনো অর্থ বিনিয়োগ করতে হচ্ছে না। বিপরীতে চুক্তি অনুযায়ী, টার্মিনাল চালুর আগেই ২৫০ কোটি টাকার এককালীন ফি পাবে বন্দর। এছাড়া চালুর পর থেকে প্রথম ৮ লাখ কনটেইনারের প্রতিটির জন্য ২১ ডলার এবং পরবর্তী ১ লাখের প্রতিটির জন্য ২৩ ডলার করে রয়্যালটি হিসেবে পাবে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়ত হামিম এটিকে বন্দরের পঞ্চম টার্মিনাল উল্লেখ করে বলেন, "এটি চালুর মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নতুন এক ঐতিহাসিক মাইলফলক সূচিত হবে।"

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ভিত্তিপ্রস্তর অনুষ্ঠানে জানান, "লালদিয়া টার্মিনাল নির্মাণ বর্তমান সরকারের এক ট্রিলিয়ন ডলারের বিশাল অর্থনৈতিক লক্ষ্য অর্জনে মূল অনুঘটক হিসেবে কাজ করবে এবং পুরো অঞ্চলের অন্যতম প্রধান লজিস্টিকস হাব হিসেবে চট্টগ্রামকে প্রতিষ্ঠিত করবে।"

মন্তব্য করুন