আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২ ঘন্টা আগে, ১০:২৬ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

ইরানে বিয়ের অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের নির্মম হামলা, নিহত ৫, রক্তাক্ত বহু নারী ও শিশু।

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় সিরিক কাউন্টিতে একটি বিয়ের অনুষ্ঠান চলাকালে আবাসিক বাড়িকে লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। তেহরানের অভিযোগ অনুযায়ী, নিষ্ঠুর এই হামলায় অন্তত একটি শিশুসহ ৫ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও ৬৩ জন।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ভোরে কুহেস্তাক শহরের একটি বাড়িতে এই হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। সিরিক কাউন্টির গভর্নর রেজা শহিদিয়ান ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবিকে নিশ্চিত করেছেন যে, আহত ৬৩ জনের মধ্যে ৫০ জনই নারী ও শিশু। তাঁদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় পার্শ্ববর্তী মিনাব শহরের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এ ঘটনাকে মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসনের ধারাবাহিক নৃশংসতা বলে অভিহিত করেছেন এবং দ্রুত কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তবে এসব অভিযোগের মুখে মার্কিন সামরিক বাহিনী (সেন্টকম) ইরানের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে বিমান হামলার সত্যতা স্বীকার করে দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে আক্রমণের চেষ্টা চালিয়েছিল আইআরজিসি। জবাবে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, রাডার ও সমুদ্রপথের সামরিক স্থাপনা ধ্বংস করতেই এই হামলা চালানো হয়েছে।

সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সির প্রকাশ করা প্রত্যক্ষদর্শী এক শিশুর বিবরণ থেকে জানা যায়, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছানোর পরপরই যুদ্ধবিমান থেকে ফেলা বোমার বিকট বিস্ফোরণে ইট, পাথর ও সিমেন্টের টুকরো এসে তাদের শরীরে লাগে। এতে অনেকেই ঘটনাস্থলে রক্তাক্ত হয়ে পড়েন।

এদিকে এই হামলার বদলা নিতে ইরান সামরিক বাহিনী দ্রুত পাল্টা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তারা জর্ডান, বাহরাইন ও ইরাকে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান প্রধান সামরিক ঘাঁটি এবং স্থাপনা লক্ষ্য করে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এছাড়া কুয়েতের আকাশসীমায় কয়েকটি ইরানি ড্রোন প্রতিহত করার খবর পাওয়া গেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলার প্রতিবাদে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি অবরোধ করে রেখেছে তেহরান, যার ফলে দুই দেশের উত্তেজনা চরম যুদ্ধ রূপ নিয়েছে।

মন্তব্য করুন