বৃহস্পতিবার   ০২ ডিসেম্বর ২০২১   অগ্রাহায়ণ ১৭ ১৪২৮   ২৫ রবিউস সানি ১৪৪৩

তরুণ কণ্ঠ|Torunkantho
২৩

চিড়িয়া দেখতে বিদেশিরা আসবে তো বাংলাদেশে?

তরুণ কণ্ঠ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৭ নভেম্বর ২০২১  

এসব গর্ব-বড়াইর গুরুত্ব না দিয়ে আমরা কেন উড়াল দিচ্ছি উগান্ডাসহ নানান দেশে? বিদেশিরা কেন সেই হারে দেখতে-জানতে ছুটে আসছে না বিশ্বরানী বাংলাদেশে? এমন প্রশ্ন ও খুঁতখুঁতির মাঝে আশা জাগানিয়া সংবাদ হচ্ছে, বিদেশিরা চিড়িয়া ও চিড়িয়াখানা দেখতে বাংলাদেশে ছুটে আসবে। খবরটা সরবরাহ করেছেন মৎস্য ও প্রা’ণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম।

অব্যাহত উন্নয়নে বাংলাদেশ আজ বিশ্বের বিস্ময় উল্লেখ করে সুসংবাদটি দেন তিনি। বলেন, জাতীয় চিড়িয়াখানা ও রংপুর চিড়িয়াখানার আধুনিকায়নে মহাপরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এতে চিড়িয়াখানা দেখতে বিশ্বের অন্যান্য প্রান্ত থেকে মানুষ আসবে বাংলাদেশে। সেদিন ১৪ নভেম্বর রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানা ও রংপুর চিড়িয়াখানার আধুনিকায়নে মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন সংক্রান্ত দুই দিনব্যাপী কর্মশালার উদ্বোধন করেছেন মন্ত্রী। তার আশা চিড়িয়াখানা দেখতে বাংলাদেশের মানুষ আর দুবাই, সিঙ্গাপুর, হংকং যাবে না। বরং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষই আসবে বাংলাদেশে।

 করোনার প্রকোপের সময় সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফর স্থগিত রাখতে হয়েছে। তবে, করোনার সময়ে প্রকল্প নিতে কোনো হেরফের হয়নি। প্রকল্পগুলোতে ঠিকই প্রশিক্ষণের নামে বিদেশ ভ্রমণের জন্য টাকা বরাদ্দে কমতি হয়নি। এর আগে আলু চাষ দেখতে, পুকুর খনন শিখতে, ক্যামেরা বা মোবাইল কিনতে সরকারি টাকায় দল বেধে বিদেশ যাওয়ার খবরগুলো মানুষকে নন-স্টপ বিনোদন দিয়েছে। 

এর আগে, একজন মন্ত্রীর দাবি ছিল বিদেশিরা দলে-দলে বাংলাদেশে ওষুধ কিনতে আসছে। বাস্তবে কী হয়েছে, তা সবারই জানা। ওই মন্ত্রী চলে গেছেন পরপারে। সামনের দিনগুলোতে বিদেশিরা চিড়িয়া দেখতে বাংলাদেশে আসবে কি-না, সেটা অপেক্ষার বিষয়। তবে, মশা মারা বা পুকুর কাটা, খিচুড়ি রান্নার অভিজ্ঞতা নিতে বাংলাদেশিদের নানা দেশে ছুটে যাওয়ার লাগামে টান পড়ছে না। বিদেশি কারো কি ইচ্ছা হয় না বাংলাদেশে এসে কিছু দেখতে বা শিখতে? বা অভিজ্ঞতা নিতে? এ প্রশ্নের জবাব মেলে না।

বাংলাদেশে কী দেখার বা অভিজ্ঞতা নেয়ার মতো কিছু নেই? এক এক করে উল্লেখ করলে বলতে কোনো দ্বিধা নেই যে, এখানে জানার অনেক কিছুই আছে। মাত্র ১০ হাজার টাকায় একটি বটি বা একটি ড্রাম কেনার অভিজ্ঞতা বাংলাদেশ ছাড়া আর কোথাও নেই- তা হলফ করে বলা যায়। ৯ কোটি টাকা বরাদ্দের ৮ কোটি টাকাই লোপাটের ঘটনারা আপ-টু-ডেট জ্ঞান বিশ্বের আর কোনো দেশে পাওয়া যাবে না।

পরীক্ষা না করে করোনার সার্টিফিকেট দেওয়ার বিদ্যার্জনের তাগিদও বোধ হয় না কোনো দেশের? করোনা ভাইরাসের সঙ্গে ফাইটের অভিজ্ঞতার রসদও আছে বাংলাদেশে। এ মহামারিতে সংক্রমণের ভয়ে বিশ্বের দেশে দেশে জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচন স্থগিত হলেও বাংলাদেশ ভিন্নতার সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে যখন ব্যাপক জনসমাগম এড়িয়ে চলার প্রেসক্রিপশন দেয়া হয়েছে তখন কেবল ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচন নয়, তৃণমূলে পৌরসভা-ইউপি নির্বাচনের সক্ষমতা দেখাতে পেরেছি আমরা।

নির্বাচনে করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হওয়ার শঙ্কা নেই-এমন নিশ্চয়তা দিতে পেরেছে বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন। এ থেকেও কি বিদেশিদের জন্য অভিজ্ঞতার কিছু নেই ? করোনা মহামারিকালে জুম অ্যাপ নিয়ে কী গরম ব্যবসা করা যায়? তা জানতে-বুঝতে চাইলে বাংলাদেশে আসার বিকল্প নেই। জুম মিটিংয়ে কিভাবে লাখ-লাখ টাকা স্টেশনারি কেনার খরচ দেখানো যায় বা জুম মিটিংয়ে লাখ টাকার চা-সিঙ্গারা খাওয়ার অভিজ্ঞতা নিতে বাংলাদেশে ছুটে আসেনি কেউ। অস্বীকারের কোনো জো নেই, বাংলাদেশে প্রকল্প নির্ভর দেশ৷


বিদেশী ঋণের প্রকল্পে চলে দেশ৷ যারা ঋণ দেয় ও প্রকল্প প্রণয়নে ভূমিকা রাখে, তারা এটা জানে যে একাধিক বিদেশ ভ্রমণের সুযোগ না থাকলে, সরকারি কর্মকর্তারা প্রকল্প পাস করবেন না৷ ফলে তারাও যে কোনো প্রকল্প প্রণয়নের সময় মূলত দুটি দিক খেয়াল রাখেন৷ একটি নতুন গাড়ি কেনা এবং অন্যটি বিদেশ ভ্রমণ৷বিদেশ ভ্রমণ বা গাড়ি কেনা দেশের কী উপকারে আসা তা ভাবার বিষয়ের মধ্যেই পড়ে না। বিদেশ ভ্রমণের সঙ্গে ভাতা সম্পৃক্ত থাকে, আত্মীয় বা বন্ধুর বাসায় থেকে অনেক ক্ষেত্রে পাঁচ তারকা হোটেলের ভাড়ার সমপরিমাণ ডলার তুলে নেওয়া যায়৷ আর দেখা হয় নতুন নতুন দেশ৷ একারণে অনেক সরকারি কর্মকর্তারা বিদেশ ভ্রমণে স্ত্রী-সন্তানদেরও সঙ্গী করেন।

করোনার প্রকোপের সময় সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফর স্থগিত রাখতে হয়েছে। তবে, করোনার সময়ে প্রকল্প নিতে কোনো হেরফের হয়নি। প্রকল্পগুলোতে ঠিকই প্রশিক্ষণের নামে বিদেশ ভ্রমণের জন্য টাকা বরাদ্দে কমতি হয়নি। এর আগে আলু চাষ দেখতে, পুকুর খনন শিখতে, ক্যামেরা বা মোবাইল কিনতে সরকারি টাকায় দল বেধে বিদেশ যাওয়ার খবরগুলো মানুষকে নন-স্টপ বিনোদন দিয়েছে।

এগুলোর সঙ্গে আরো রয়েছে পরামর্শক ফি, গাড়ি কেনা ও ভবন নির্মাণে যাচ্ছে-তাই কাণ্ড, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বালিশ কেনা, ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৩৭ লাখ টাকায় পর্দা কেনা, গোপালগঞ্জের শেখ সায়েরা খাতুন মেডিক্যাল কলেজের জন্য সাড়ে ৫ হাজার টাকার বই ৮৫ হাজার ৫০০ টাকায় কেনা, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মুহতারাম ডিজির পবিত্র কুরআন শরীফ না ছেপে টাকা হজম করে দেয়া, স্বাস্থ্য অধিদফতরে তিন কোটি টাকার যন্ত্র ২৫ কোটি টাকায় কেনা বা স্বাস্থ্য অধিদফতরের এক আবজলের লোপাটের মতো কতো কাণ্ড!

এমন অভিজ্ঞতার জন্য বাংলাদেশের কোনো বিকল্প আছে? বা থাকার সম্ভাবনা আছে? বিদেশিদের ইচ্ছা করে না এসবের অভিজ্ঞতা নিতে? কেন ছুটে আসে না তারা? এ অবস্থায় তারা অন্তত চিড়িয়া দেখতে বাংলাদেশে আসবে- এমন আশাবাদ যেনতেন ঘটনা নয়। এতো চিড়িয়া পৃথিবীর আর কোনো দেশে আছে কি-না, সেই প্রশ্ন আপাতত তোলাই থাক। তবে, বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য নতুন এক সম্ভাবনার তথ্য যে মিললো সেটাও কম নয়।

এই বিভাগের আরো খবর