এই দিন

বৃহস্পতিবার   ২২ অক্টোবর ২০২০   কার্তিক ৭ ১৪২৭   ০৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

তরুণ কণ্ঠ|Torunkantho
২০৫

ক্রমেই ভেজাল ও নকল পণ্যের দৌরাত্ম্য বাড়ছে

প্রকাশিত: ১৪ অক্টোবর ২০২০  

বাজারের বেশিরভাগ পণ্য মান-নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়ায় আসছে না। খাদ্য ও খাদ্য-বহির্ভূত মাত্র ১৮৪টির পণ্যের মান-সনদ দিতে পারে বিএসটিআই। এতে ক্রমেই ভেজাল ও নকল পণ্যের দৌরাত্ম্য বাড়ছে। নকলের ভীড়ে আসল পণ্য বেছে নেয়াই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে ভোক্তাদের সামনে।

রাজধানীর অন্যতম পাইকারী বাজার কারওয়ান বাজারে প্রায় ১০ বছর ধরে ব্যবসা করছেন ইমরান হোসেন। আলাপচারিতার এক পর্যায়ে কিছু ভয়ঙ্কর তথ্য দিলেন তিনি। জানালেন, দেশীয় বিভিন্ন কোম্পানির ভেজাল খাদ্যপণ্য এখানে অনেকটা প্রকাশ্যেই বেচাকেনা হয়। আর বিএসটিআইয়ের অনুমোদনহীন ভেজাল শিশু খাদ্যের বিক্রিও চলছে প্রায় অবাধে।

ইমরান হোসেন জানান, কেউ একনম্বর বিক্রি করছে কেউ দুই নম্বর প্রোডাক্ট বিক্রি করছে। কিন্তু দুই নম্বর কিছু কিছু প্রোডাক্টের জন্য আমরা যারা একনম্বর বিক্রি করি, তা করতে কমফোর্ট মনে করি না। কারণ একটি পণ্যের দাম আছে তিনশ’ টাকা সেই পণ্যটির দুই নম্বরটি বিক্রি হয় ২শ’ টাকায় তাহলে কাস্টমার কি আমার থেকে নিবে।

কসমেটিকস পণ্যসহ নানা ভোজাল পণ্যে বাজার সয়লাব। এমনটা বলছেন ভোক্তারাও।

ভোক্তারা জানান, চিন্তা করতে হবে মেয়েরা যাতে ব্যবহার করতে পারে। যেমন স্কিনের ব্যাপারটা, বাংলাদেশের স্কিন আর বাইরের স্কিন এক নয়। কর্তৃপক্ষ যদি ঠিকমতো দায়িত্ব পালন করতো তাহলে খুবই ভাল হতো। তাহলে আমাদের এই ভেজাল দ্রব্য নিয়ে ভোগান্তি হতো না।

এই অবস্থায় নজরদারি বৃদ্ধিসহ কঠোর শাস্তি নিশ্চিতের দাবি ভোক্তা অধিকার সংগঠন ক্যাবের।

ক্যাব সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, নির্ধারিত কয়েকটি পণ্যের মান সম্পর্কে ভোক্তারা নিশ্চিত হতে পারলেও অন্যান্য পণ্যের ক্ষেত্রে তা হওয়া সম্ভব নয়। তাই বিএসটিআই কার্যক্রমকে আরও জোরদার করতে হবে।

ভেজাল ও নকল পণ্যের বিরুদ্ধে মাঝে মাঝেই অভিযান পরিচালনা করে বিএসটিআই। কিছু জেল-জরিমানাও হয়। কিন্তু নকলের দৌরাত্ব্য কমে না। এজন্য কিছু সীমাবদ্ধতার কথা জানালেন বিএসটিআইয়ের এই কর্মকর্তা।

বিএসটিআই পরিচালক (মান) নিলুফা হক বলেন, সচেতনতা বেড়েছে কিন্তু ভেজালও বেড়ে গেছে। প্রচুর ভেজাল পণ্য ধরা পড়ছে। তবে এতো বেশি আমাদের করাপশন, আসলে বিএসটিআইর একার পক্ষে কন্ট্রোল করা সম্ভব হচ্ছে না। তারপরও আমরা যথেষ্ট চেষ্টা করে যাচ্ছি।

ভেজালরোধে সাধারণ ভোক্তাদের আরও সচেতন হওয়ার পরামর্শ বিএসটিআইয়ের।

এই বিভাগের আরো খবর