সোমবার   ১২ জানুয়ারি ২০২৬   পৌষ ২৮ ১৪৩২   ২৩ রজব ১৪৪৭

তরুণ কণ্ঠ|Torunkantho
৫৪৩

২য় দিনের মত মৌমিতা খাতুনের আমরণ অনশন চলছে, খোঁজ নেয়নি কেউ

গাংনী(মেহেরপুর)সংবাদদাতাঃ

প্রকাশিত: ১ সেপ্টেম্বর ২০২০  

পাওনা ১৫ লাখ টাকার দাবিতে গাংনী পৌর মেয়র আশরাফুল আলমের বিরুদ্ধে শহীদ মিনারে  মাসহ মৌমিতা খাতুন পলি ২য় দিনের মত আমরণ অনশনে রয়েছে।আজ মঙ্গলবার (৩১ আগষ্ট) পাওনা টাকার দাবিতে গাংনী পৌর এলাকার শিশিরপাড়া গ্রামের শাহাবুদ্দীন আহমেদ ওরফে বাহাদুরের মেয়ে মৌমিতা খাতুন পলি ও তার মা শহীদ মিনারে আমরন অনশন করছে।


শর্তপূরন না হওয়া পর্যন্ত পলি আমরণ অনশনে থাকবেন বলে জানিয়েছ্।ে২ দিন অতিবাহিত হলেও উপজেলা প্রশাসনের কেউ খোজ নেয়নি।তবে গাংনী  থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা  ওবাইদুর  রহমান  তাদের নিরাপত্তা দিতে মহিলা পুলিশসহ ৩ জন পুলিশ সদস্য মোতায়েন করেছেন।


পলি খাতুন জানান,হত্যা ,গুম, ও চাঁদাবাজির চলমান মামলার আসামী মেয়র একজন ঠকবাজ, প্রতারক,। ৩ বছর আগে পৌর সভায় ‘সহকারী কর আদায়কারী ’ পদে চাকরী দেয়ার নামে দফায় দফায়  মেয়র  আমার নিকট থেকে নগদ ৬ লাখ ৯০ হাজার টাকা নিয়েছে। এছাড়াও  মেয়রের নির্দেশে গত ২০১৮ সালের ২৪ জানুয়ারী ইসলামী ব্যাংক মেহেরপুর শাখায় মেয়র আশরাফুল ইসলামের স্ত্রী জেলা পরিষদ সদস্য সাহানা ইসলাম শান্তনার ৬৪৫৪ নম্বর (হিসাবে) একাউন্টে ৫ লাখ ৭০ হাজার,২৫ জানুয়ারী ৫০ হাজার, ৫ ফেব্রুয়ারী ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা জমা দিয়ে  মোট ১৫ লক্ষ টাকার বাকী টাকা নগদ প্রদান করা হয়। 

এবিষয়টি  নিয়ে গেল ২১ আগষ্ট রাত্রিতে গাংনী থানা চত্তরে পৌর মেয়র আশরাফুল ইসলামের উপস্থিতিতে তার বিরুদ্ধে ১৫ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগের সালিস বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।বৈঠকে গাংনী উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ খালেক, গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ ওবাইদুর রহমান, গাংনী থানার সেকেন্ড অফিসার আহসান হাবিব,এস আই আব্দুল হান্নান,সাবেক এমপি মোঃ মকবুল হোসেনের একান্ত সহকারী সাহিদুজ্জামান শিপু,পৌর কাউন্সিলর মিজানুর রহমান,সাহিদুল ইসলাম,এনামুল হক,শ্রমিক নেতা মনিরুজ্জামান মনি,অভিযোগকারী মৌমিতা খাতুন পলি,তার মা বাবা সহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। 

বৈঠকে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পলির স্বামীকে নিয়ে বসে তাদের মধ্যে টাকা লেনদেনের বিষয়টি মিটিয়ে ফেলতে সকলে উদ্যেগি হবেন বলে আশ^স্ত করা হয়।

তবে মেয়র আশরাফুল ইসলাম-পলির স্বামী মোমিনকে টাকা ফেরত দিয়েছেন দাবি করে বলেন চাকুরীর জন্য নয় জমি সংক্রান্ত বিষয়ে টাকা নেয়া হয়েছিলো। যখন নিয়োগ পরীক্ষা হয় তখন আমি মেয়রের দায়িত্বে ছিলাম না।

গাংনী উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ খালেক বলেন,থানায় সালিস বৈঠকে মেয়র আশরাফুল ইসলাম জানায় পলির স্বামী মোমিন তার ডায়েরীতে স্বাক্ষর করে টাকা ফেরত নিয়েছেন বলে দাবি করে। 

অপরদিকে মোমিন টাকা ফেরত নেয়নি বলে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে দাবি করে। পরে সভায় সর্ব সম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত হয় যদি স্বাক্ষর ঠিক থাকে তাহলে মৌমিতা খাতুন পলি টাকা আর পাবেনা। আর যদি স্বাক্ষর না মেলে তাহলে মৌমিতা খাতুন পলিকে ১৫ লাখ টাকা ফেরত দিতে হবে মেয়রকে। মৌমিতা খাতুন পলির স্বামীর উপস্থিতিতে আবারো বৈঠক বসবে জানিয়ে সভা শেষ করা হয়। 

গত ২৮ আগষ্ট মৌমিতা খাতুন পলির স্বামী মোমিন থানায় আসলেও মেয়র হাজির না হওয়ার কারনে বৈঠক করা যায়নি।তবে কাউন্সিলর সাহিদুল ইসলাম বলেন, মেয়র চাকুরীর জন্য টাকা নিয়েছেন। যা পৌর পরিষদের অনেকেই জানেন।
 
এখন সে সম্পূর্ণ অস্বীকার করছে।এনিয়ে আমরা মেয়রের বিরুদ্ধে গত ২০ আগষ্ট তারিখে অনশন করলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও গাংনী থানা অফিসার ইনচার্জ ওবাইদুর রহমানের আশ্বাসে অনশন তুলে বাড়ি গেলেও পরবর্তীতে ওসি মহোদয় সালিস মিমাংশা করতে অপারগতা প্রকাশ করায় পলি আবারও অনশনে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
পলি আরও জানান, আমি সন্তান সম্ভবা একজন অসহায় নারী।এই সমস্যার সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত অনশন বন্ধ করবো না।গত সোমবার থেকে আমরণ অনশনে অবস্থান করছি।  কিন্তু জাতির বিবেক কতিপয় সাংবাদিক মেয়রের কাছে জিম্মি  হওয়ায় কোন সাংবাদিক সত্য ঘটনা প্রকাশ করছে না। আমি এরকম সাংবাদিকদের ধিক্কার জানাই।


সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মেয়র বলেন,পলি খাতুনের দাবী সম্পূর্ণ মিথ্যা।আমার বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ ষড়যন্ত্র। আমার জমি ক্রয়ের জন্য পলির স্বামী মোমিনুর রহমানের নিকট থেকে ৮ লাখ ১০ হাজার টাকা নিয়েছি। চাকরী দেয়ার নামে তার নিকট থেকে কোন টাকা পয়সা গ্রহন করি নাই। 
তবে এব্যাপারে   গাংনী থানা অফিসার ইনচার্জ  ওবাইদুর রহমান জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের নিরাপত্তা দিতে পুলিশ  নিয়োগ দেয়া হয়েছে।বিষয়টি পুলিশ সুপার মহোদয়কে অবগত করা হয়েছে। 


গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার সেলিম শাহনেওয়াজ বলেন,বিষয়টি উর্দ্ধর্ত্বন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে।

এই বিভাগের আরো খবর