শনিবার   ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   ফাল্গুন ৮ ১৪৩২   ০৪ রমজান ১৪৪৭

তরুণ কণ্ঠ|Torunkantho
১১৪

বাংলাদেশ নয়, মিয়ানমারের ওপর ‘চাপটা বাড়ানো দরকার’

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২০ ডিসেম্বর ২০২২  

একদিকে মিয়ানমারে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে উদাসীন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, অন্যদিকে দিন দিন কমছে ত্রাণ সহায়তা। অর্থায়ন বাড়াতে এবার দুমাস আগে থেকেই জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যান তৈরির তোড়জোড় চালাচ্ছে জাতিসংঘ। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, ফাঁদে পড়ে থাকা বাংলাদেশের ওপর সুরক্ষার দায়িত্ব না চাপিয়ে মিয়ানমারের ওপরই চাপ বাড়াতে হবে বিশ্ব সম্প্রদায়কে।

সম্প্রতি রোহিঙ্গা ইস্যুতে সময় সংবাদের সঙ্গে কথা বলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক শিক্ষক অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ। 

তিনি বলেন, মানবাধিকার রক্ষার দায়িত্ব বাংলাদেশের ওপর না চাপিয়ে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানো উচিত। অথচ এ বিষয়টি নিয়ে তাদের (বহির্বিশ্ব) কোনো গুরুত্বই নেই। বরং বোঝা যাচ্ছে যে, তারা অনেকটা জেনোসাইডের সাপোর্ট করছে। 

এদিকে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা ঢলের ৫ বছর পেরিয়ে গেলেও প্রত্যাবাসনে এখনও হয়নি কোনো অগ্রগতি। বরং দীর্ঘমেয়াদি জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যান (জেআরসি) তৈরি থেকে শুরু করে রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার রক্ষায় ঢাকার ওপর চাপ বাড়িয়েছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। অথচ এত বছরেও মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী দেশটির প্রতি কোনো ধরনের কার্যকর চাপ প্রয়োগ করতে পারেনি তারা।

জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) বলছে, ৬টি জেআরসির মধ্যে ২০২২ সালের ৮৮ কোটি ১০ লাখ ডলারের চাহিদার মধ্যে ১১ মাসে মাত্র ৪৪ শতাংশ সহযোগিতা এসেছে। বিগত বছরগুলোতে ২০১৭ সালে চাহিদার ৭৩, ২০১৮ সালে ৭২, ২০১৯ সালে ৭৫, ২০২০ সালে ৬৫ এবং ২০২১ সালে ৭২ শতাংশ অর্থ এসেছে।

বাংলাদেশে নিযুক্ত জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক গোয়েন লুইস বলেন, তহবিল কমায় এক বছর মেয়াদি সপ্তম জেআরসিতে প্রধান মৌলিক সেবার ওপর গুরুত্ব দেয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, মিয়ানমারে নিরাপদ ও স্থায়ী রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সরকার (বাংলাদেশ) আলোচনা চালিয়ে যেতে চায়। তাই সরকারের নীতির সঙ্গে বার্ষিক পরিকল্পনা সংগতিপূর্ণ হওয়ায় আগামী বছরের জানুয়ারির মধ্যে তা সম্পন্ন করার চেষ্টা করছি আমরা। কারণ আমরা বহির্বিশ্বের কাছে নতুন বছরের দ্রুত চাহিদা পাঠাতে চাই।

সম্প্রতি এক অনুষ্ঠান থেকে বের হয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ইস্যুতে সাংবাদিকদের চীনের উদ্ধৃতি দিয়ে জানান, বর্তমানে কিছুটা নমনীয় মিয়ানমার।

তিনি আরও বলেন, আগে যে ধরনের কথা তারা (মিয়ানমার) বলত, এখন তারা অনেক আন্তরিক এই কথাটা চাইনিজরা বলেছেন। এ পর্যন্ত আমরা জানি চাইনিজরা বলেছেন।
বর্তমানে প্রায় সাড়ে ১১ লাখ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বোঝা বহন করছে বাংলাদেশ।

এই বিভাগের আরো খবর