মঙ্গলবার   ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   মাঘ ২৭ ১৪৩২   ২২ শা'বান ১৪৪৭

তরুণ কণ্ঠ|Torunkantho
২৩৮

দেড় মাস পর মহাসড়কে ছুটছে দূরপাল্লার বাস

তরুণ কণ্ঠ রিপোর্ট

প্রকাশিত: ২৪ মে ২০২১  

করোনাভাইরাসের কারণে দেড় মাসেরও বেশি সময় বন্ধ থাকার পর আজ থেকে মহাসড়কে দূরপাল্লার বাস চলাচল শুরু হয়েছে। সোমবার সকাল থেকে অর্ধেক আসনে যাত্রী নিয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে গন্তব্যে ছুটছে দূরপাল্লার বাসগুলো।

রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনাল, কল্যাণপুর, মহাখালী, আব্দুল্লাপুর, যাত্রাবাড়ী এলাকায় গিয়ে বাস চলাচল করতে দেখা গেছে। প্রায় দেড় মাস পর মানুষের আনাগোনায় মুখর হয়ে উঠেছে বাস টার্মিনালগুলো।

কল্যাণপুরে গিয়ে দেখা গেছে, উত্তরাঞ্চলে যেসব বাস যাচ্ছে সেগুলো স্বাস্থ্যবিধি মেনে ছেড়ে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে সরকার নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে ও অর্ধেক আসন ফাঁকা রাখা হচ্ছে। তবে প্রথমদিনে সকালে যাত্রীসংখ্যা খুব বেশি দেখা যায়নি। সময় বাড়ার সঙ্গে যাত্রী সংখ্যা বাড়বে বলে মনে করছেন বাস কর্তৃপক্ষ।

রংপুরে যাওয়ার জন্য হানিফ পরিবহনের বাসে উঠেছেন রাজন। তিনি বলেন, দূরপাল্লার বাস বন্ধ থাকায় ঈদে বাড়ি যাইনি। বাস চালু হওয়ায় ছুটি নিয়ে বাড়ি যাচ্ছি। তবে প্রথমদিন স্বাস্থ্যবিধি মানা হলেও কয়েকদিন পর এই কড়াকড়ি থাকবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ তার।

শুধু বাস নয়, আজ থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে লঞ্চ ও ট্রেন চলাচলও শুরু হয়েছে। কমলাপুর রেল স্টেশন থেকে যেসব ট্রেন ছেড়ে যাচ্ছে সেগুলো স্বাস্থ্যবিধির কড়াকড়ির মধ্যে স্টেশন ছেড়ে যাচ্ছে।

সকাল ৮টা পর্যন্ত রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে সিলেটের উদ্দেশে ‘পারাবত এক্সপ্রেস’ এবং চট্টগ্রামের উদ্দেশে ‘মহানগর প্রভাতী এক্সপ্রেসকে’ ছেড়ে যেতে দেখা গেছে। দুটি ট্রেনই ছিল বেশ ফাঁকা। সকালে ছেড়ে যাওয়া ট্রেন দুটিতে জীবাণুনাশক স্প্রে করতে দেখা গেছে। এছাড়া যাত্রীদের হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা এবং মাস্ক পরার বিষয়ে নির্দেশনা দিতে দেখা গেছে।

দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হলে ২০২০ সালের ২১ মার্চ থেকে সবধরনের যান চলাচল বন্ধ করে দেয় সরকার। দুই মাসের বেশি সময় বন্ধ থাকার পর গেলো বছরের ১ জুন থেকে স্বাস্থ্যবিধি মানার শর্ত সাপেক্ষে অর্ধেক যাত্রী নিয়ে গণপরিবহন চলাচলের অনুমতি দেয় সরকার। তখন ৬০ শতাংশ ভাড়া বাড়ানো হয়।

গত বছরের ৩০ নভেম্বরের পর থেকে এ বছরের ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি পর্যন্ত সংক্রমণ ধীরে ধীরে কমছিল। কিন্তু মার্চের শুরু থেকে তা উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছে যাওয়ায় এপ্রিলে শুরুর দিকে সব ধরনের জনসমাগম সীমিত করাসহ ১৮ দফা নির্দেশনা জারি করে সরকার।

সেখানে বলা হয়, গণপরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে এবং ধারণক্ষমতার ৫০ শতাংশের বেশি যাত্রী পরিবহন করা যাবে না।

করোনার সংক্রমণ উদ্বেগজনকহারে বাড়তে থাকায় গত ৫ এপ্রিল সকাল ছয়টা থেকে বিধিনিষেধ জারি করা হয়। তখন থেকেই দূরপাল্লার বাস, লঞ্চ ও ট্রেন বন্ধ আছে। ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত ঢিলেঢালা লকডাউন হলেও সংক্রমণ আরও বেড়ে যাওয়ায় ১৪ এপ্রিল থেকে ‘কঠোর লকডাউন’ ঘোষণা করে সরকার। পরে সিটি করপোরেশন এলাকায় গণপরিবহন চলাচলের অনুমতি দেওয়া হলেও দূরপাল্লার বাস, লঞ্চ এবং ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল। ঈদেও লঞ্চ-ট্রেন এবং দূরপাল্লার বাস বন্ধ রাখা হয়েছিল। বন্ধের দেড় মাসেরও বেশি সময় পর গতকাল বাস-ট্রেন চলাচলের অনুমতি দেয়া সরকার।

রবিবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে লকডাউনের সময় ৩০ মে পর্যন্ত বাড়ানো হলেও আন্ত:জেলা সব ধরনের গণপরিবহন চলাচলের অনুমতি দেয়া হয়। ফলে দূরপাল্লার বাস, লঞ্চ, ট্রেন চলতে আর কোনো বাধা নেই। তবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে নিতে হবে অর্ধেক যাত্রী। যাত্রীদের পরতে হবে মাস্ক।

এই বিভাগের আরো খবর