শুক্রবার   ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   ফাল্গুন ৮ ১৪৩২   ০৩ রমজান ১৪৪৭

তরুণ কণ্ঠ|Torunkantho
৯৫

টার্গেট স্বল্প শিক্ষিত মানুষ, কাজ না করেই মিলবে বেতন!

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৩ জানুয়ারি ২০২৩  

নতুন সদস্যদের প্রশিক্ষণ

নতুন সদস্যদের প্রশিক্ষণ

মানবসেবার নামে শত শত মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে নামসর্বস্ব একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। নাম ‘গ্লোবাল হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি’। এর কর্মীরা বলছেন, তারা বেকারদের চাকরি দেন। তবে কোনো কাজ করতে হয় না। কিন্তু এ জন্য গুনতে হবে ৩০ হাজার টাকা। তাদের টার্গেট মূলত স্বল্প শিক্ষিত মানুষ।

আত্মীয় ভাতা, ধর্মীয় ভাতা এসব শুনতে নতুন মনে হলেও গ্লোবাল হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি সদস্যদের এমন ৭ থেকে ৮ ধরনের সহযোগিতা দেয়ার কথা বলে থাকে। কাজ না করেই মাস শেষে মিলবে বেতনও। বছর শেষে সেই বেতন পেরোবে লাখের কোটা! শুধু চাকরিটা পেতে গুনতে হবে ৩০ হাজার টাকা।

এমন একটি চাকরি কে না পেতে চায়! তাই সম্প্রতি ছদ্দবেশে সময় নিউজ টিম হাজির হয়, বিশ্ব মানবাধিকার ও পরিবেশ উন্নয়ন সংস্থার অফিসে। লোকমুখে যা শোনা গেছে, সেসবই শোনানো হয়।
বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার ও পরিবেশ উন্নয়ন সংস্থার কনসালটেন্ট বারেক বলেন, ‘প্রথম দুই মাস ১০ হাজার টাকা করে বেতন দেয়া হবে। দুই মাস পর বেতন বেড়ে হবে ১৫ হাজার টাকা। তিন মাস পর হবে ৩০ হাজার টাকা। ছয় মাস পর বেতন হবে ৬০ হাজার টাকা। সবশেষ র‌্যাংকে যখন আসবে, তখন বেতন হবে এক লাখ টাকা। আর ৩০ হাজার টাকা ঘর ভাড়া, ২০ হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতা। সব মিলিয়ে এক লাখ ৫০ হাজার টাকা। সঙ্গে আরও ৫ হাজার টাকা। মোট পাওয়া যাবে এক লাখ ৫৫ হাজার টাকা। কাজ হিসেবে দায়িত্ব হবে দান পৌঁছে দেয়া। এটা সেবামূলক কাজ।      

রাজধানী তো বটেই এই ফাঁদে পা দিচ্ছেন ঢাকার বাইরের বহু জেলা শহরের মানুষও। টাঙ্গাইলের জান্নাতও তেমনি একজন ভুক্তভোগী। তিনি ১০ জন সদস্যও দিয়েছেন। তবে আশ্বাসমতো বেতন মিলছে না আর। আর যারা নতুন সদস্য হয়েছেন তাদের চাপ দেয়া হচ্ছে আরও বেশি সদস্য জোগার করে দিতে।

জান্নাত বলেন, ‘আমাকে বলা হয়েছিল, ১০ জন লোক দিতে পারলে আর কোনো কাজ নেই। তাদের শুধু পরামর্শ দিলেই হবে। আমি তো পরামর্শ দিচ্ছি। কিন্তু তারা যদি লোক দিতে না পারে, তবে আমি কী করব? আমার কাজ তো আমি করেছিই। তারপরও তারা বলছে, আমার দেয়া লোকজন যদি নতুন সদস্য দিতে না পারে, তবে আমিও নাকি বেতন পাব না।’ এসব অভিযোগের ব্যাখ্যা জানতে এবার আমরা ক্যামেরাসহ মধ্য বাড্ডার ওই অফিসে হাজির হই। দারোয়ান বললেন, অফিসের ভাড়া ২৮ হাজার টাকা। তবে কাজ কী, তা তিনি খুব ভালোভাবে জানেন না।

সংস্থাটি বলছে, তারা মানবাধিকার উন্নয়নে কাজ করে, যদিও মূল দরজায় তালা লাগানো তিনটি। সাংবাদিক দেখেই খেপে যান অফিসের এক নারী সদস্য। হুমকি দেন পাল্টা সংবাদ প্রচারের।
মানবসেবায় সংস্থাটির অবদান কী তা জানতে চাইলেও তেড়ে আসেন তিনি। এ সময় বেতন নিতে হাজির হন টাঙ্গাইলের জান্নাতও। কিন্তু মূল ফটক তখনো খোলা হয়নি। যে কর্মীরা আমাদের দু’ঘণ্টা আগেই চাকরির আশ্বাস দিয়েছিলেন, সেই তারাই ক্যামেরা দেখে বলছেন, তারা এখানে কাজ করেন না।

শেষ পর্যন্ত সব অভিযোগ অস্বীকার করে উল্টো বাড্ডা থানা পুলিশকে নালিশ করেন ওই নারী। সময় সংবাদের উপস্থিতি জানতে পেরে এরই মধ্যে অফিসের নিচে জড়ো হন ভুক্তভোগীরা।
দিনের শুরুতে মুন্নী নামের যে নারী আমাদের চাকরির অফার দিয়েছিলেন, দিন শেষে তিনি এবার দেখে নেয়ার হুমকি দিলেন মোবাইলে।
মধ্য বাড্ডার এই ভবনে দেড় বছর ধরে কাজ করছে এই সংস্থাটি। সাধারণত গরিব ও স্বল্প শিক্ষিত মানুষই এদের মূল টার্গেট। 

এই বিভাগের আরো খবর