শনিবার   ৩১ জানুয়ারি ২০২৬   মাঘ ১৮ ১৪৩২   ১২ শা'বান ১৪৪৭

তরুণ কণ্ঠ|Torunkantho
১৭

ইইউ-ভারত এফটিএতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে দুশ্চিন্তা

তরুণ কণ্ঠ অনলাইন

প্রকাশিত: ৩১ জানুয়ারি ২০২৬  

প্রায় ২০ বছরের আলোচনার পর ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) গত সপ্তাহে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) চূড়ান্ত করেছে। চুক্তিটি কার্যকর হলে ইইউতে রপ্তানি করা ভারতের প্রায় ৯৬ শতাংশ পণ্যে শুল্ক উঠে যাবে। অন্যদিকে ভারতও ইইউর ৯০ শতাংশ পণ্যের ওপর শুল্ক তুলে নেবে। এতে দুই পক্ষের বাণিজ্য ব্যাপকভাবে বাড়বে।

 

ইইউ ও ভারত মিলে বিশ্বের প্রায় ২৫ শতাংশ জিডিপি দখলে রেখেছে। তাদের যৌথ বাজার প্রায় ২০০ কোটি মানুষের। দুই পক্ষের শীর্ষ নেতারা এই চুক্তিকে ‘মাদার অব অল ডিলস’ (সব চুক্তির সেরা) বলে অভিহিত করেছেন।

 

চুক্তি কার্যকর হলে ইইউর বাজারে তৈরি পোশাক, চামড়াজাত পণ্য, হিমায়িত মাছ-চিংড়ি, প্লাস্টিক, রাসায়নিক দ্রব্য, রত্ন-অলংকারসহ বিভিন্ন পণ্যে ভারত শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে। এতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে।

 

বাংলাদেশ এখনো এলডিসি (স্বল্পোন্নত দেশ) হিসেবে ইইউর জিএসপি সুবিধা পায়। চলতি বছরের নভেম্বরে এলডিসি থেকে উত্তরণের পর ২০২৯ সাল পর্যন্ত জিএসপি সুবিধা পাবে। কিন্তু এফটিএ কার্যকর হলে ভারত শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে, আর বাংলাদেশকে শুল্ক দিতে হবে।

 

ইইউ বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি বাজার। গত অর্থবছরে ইইউতে রপ্তানি হয়েছে ২১ বিলিয়ন ডলারের পণ্য, যার মধ্যে ১৯ দশমিক ৭১ বিলিয়ন ডলার তৈরি পোশাক। মোট তৈরি পোশাক রপ্তানির অর্ধেকই ইইউতে যায়। বিকেএমইএর সাবেক সভাপতি ফজলুল হক বলেন, ভারত ও ভিয়েতনাম ইইউর সঙ্গে এফটিএ করে ফেলেছে। আমাদের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে হবে। না হলে ২০২৯ সালের পর তৈরি পোশাক রপ্তানিতে মারাত্মক প্রভাব পড়বে।

 

র‍্যাপিডের চেয়ারম্যান এম এ রাজ্জাক বলেন, এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের পর তিন বছর জিএসপি সুবিধা থাকবে। তবে জিএসপি প্লাস পেলেও তৈরি পোশাকে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়া যাবে না। ইইউর সঙ্গে এফটিএ করতে হবে। শ্রম আইন সংশোধন করে অধ্যাদেশ জারি হয়েছে। নির্বাচনের পর তা আইনে রূপ দিতে হবে।

 

এই চুক্তি কার্যকর হলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বড় ধাক্কা লাগতে পারে। অর্থনীতিবিদ ও রপ্তানিকারকেরা দ্রুত ইইউর সঙ্গে এফটিএ আলোচনা শুরুর তাগিদ দিচ্ছেন।

এই বিভাগের আরো খবর