প্রকাশিত: ২ ঘন্টা আগে, ০৩:৫১ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
দেশের অধস্তন আদালতগুলোতে মামলার পাহাড় জমেছে। ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা প্রায় ৪০ লাখ ৪১ হাজার ৯২৪টি। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে এই বিপুল মামলার জট নিরসনে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন বৈপ্লবিক পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। ময়মনসিংহ-৬ আসনের সংসদ সদস্য (জামায়াতে ইসলামী) মো. কামরুল হাসানের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব তথ্য জানান।
মামলা জট কমানোর লক্ষ্যে সরকার ১৯০৮ সালের দেওয়ানি কার্যবিধিতে যুগোপযোগী পরিবর্তন এনেছে। সম্প্রতি সংসদে পাস হওয়া ‘দ্য কোড অব সিভিল প্রসিডিউর (সংশোধন) বিল, ২০২৬’-এর মাধ্যমে বিচার ব্যবস্থায় বেশ কিছু আমূল পরিবর্তন আসছে। এখন থেকে কেবল ডাকযোগে নয়, বরং এসএমএস এবং ভয়েস কলের মাধ্যমেও আদালতের সমন জারি করা যাবে। এছাড়া অ্যাফিডেভিটের মাধ্যমে আরজি বা লিখিত জবাব দাখিল এবং সরাসরি জেরার বিধান যুক্ত করা হয়েছে। ডিক্রি জারির জন্য এখন আর আলাদা মামলার প্রয়োজন হবে না; মূল মামলাতেই সরাসরি দরখাস্ত দিয়ে এটি সমাধান করা সম্ভব হবে।
তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার আইন ২০২০-এর অধীনে বর্তমানে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, চিকিৎসক এবং স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ডকারী ম্যাজিস্ট্রেটের সাক্ষ্য অনলাইনে গ্রহণের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এতে করে বিচারপ্রক্রিয়ার গতি বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া উচ্চ ও অধস্তন আদালতের কজলিস্ট বা কার্যতালিকা শতভাগ অনলাইনে নিয়ে আসা হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষ ঘরে বসেই পরবর্তী তারিখ জানতে পারেন। এটি বিচার ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বাড়ানোর পাশাপাশি জনগণের হয়রানিও কমিয়ে দিয়েছে।
বিপুল পরিমাণ মামলার চাপ সামলাতে সরকার বিচারক ও আদালতের সংখ্যা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। এরই মধ্যে দেশে ৮৭১টি নতুন আদালত এবং ২৩২টি বিচারকের পদ তৈরি করা হয়েছে। আরও ৩০৪টি বিচারকের পদ সৃষ্টির প্রক্রিয়া বর্তমানে শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং ১৫০ জন সিভিল জজ নিয়োগের কাজ চলমান। বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে আরও ৭০৮ জন কর্মকর্তা নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে এবং ৫৫৩ জন কর্মচারীর নিয়োগ কার্যক্রম এগিয়ে চলছে।
নারী ও শিশু নির্যাতনসহ চাঞ্চল্যকর মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সলিসিটরের নেতৃত্বে একটি বিশেষ কমিটি কাজ করছে। যারা আর্থিকভাবে অসচ্ছল, তাদের জন্য জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের মাধ্যমে বিনামূল্যে আইনি সহায়তা জোরদার করা হয়েছে এবং একটি ডেডিকেটেড হটলাইন নম্বর (১৬৬৯৯) চালু রাখা হয়েছে। এছাড়া একটি আধুনিক পদক্ষেপ হিসেবে ১০টি জেলার ১০২টি ইউনিয়নে পরীক্ষামূলকভাবে অনলাইনে বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। সরকার মনে করছে, এটি বাস্তবায়ন করা গেলে বিবাহ সংক্রান্ত জালিয়াতি এবং এর থেকে সৃষ্ট মামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে।
আইনমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এই বহুমুখী পদক্ষেপগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়িত হলে দেশের বিচারপ্রার্থী মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব হবে এবং বিচার প্রক্রিয়া আরও সাশ্রয়ী ও স্বচ্ছ হয়ে উঠবে।
মন্তব্য করুন