প্রকাশিত: ৩ ঘন্টা আগে, ০২:৪৭ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ধর্মীয় মেরুকরণ ও অনুপ্রবেশ ইস্যুকে ফের সামনে নিয়ে এলেন ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বুধবার (১৫ এপ্রিল) আলিপুরদুয়ার জেলার ফালাকাটায় এক বিশাল জনসভায় ভাষণ দেওয়ার সময় তিনি তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দেন।
বাবরি মসজিদ বিতর্ক ও অমিত শাহর বার্তা
গত ডিসেম্বরে তৃণমূলের বহিষ্কৃত নেতা ও ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় অযোধ্যার বাবরি মসজিদের আদলে একটি নতুন মসজিদ নির্মাণের ঘোষণা দেন এবং ফেব্রুয়ারিতে এর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। এই ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে অমিত শাহ বলেন:
“মমতা দিদি, আপনি এবং আপনার ভাইপো যতই চেষ্টা করুন না কেন, স্বামী বিবেকানন্দের এই পবিত্র মাটিতে কোনোভাবেই নতুন করে বাবরি মসজিদ নির্মাণ করতে দেওয়া হবে না।”
তিনি অভিযোগ করেন যে, দীর্ঘ আড়াই দশক ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাম মন্দির নির্মাণে বাধা দিলেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সেই প্রতিক্ষার অবসান ঘটিয়েছেন। অথচ এখন মমতা তাঁর দলের নেতাকে দিয়ে বাংলায় বাবরি মসজিদ তৈরির ছক কষছেন বলে তিনি দাবি করেন।
অনুপ্রবেশ ও কাঁটাতারের বেড়া
পশ্চিমবঙ্গে অনুপ্রবেশ সমস্যা নিয়ে শাহ ফের বিজেপির ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা উল্লেখ করেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, বিজেপি ক্ষমতায় এলে আসাম, ত্রিপুরা ও বিহারের মতো বাংলাতেও আন্তর্জাতিক সীমান্তে নিশ্ছিদ্র কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করা হবে। “দেশ থেকে প্রতিটি অনুপ্রবেশকারীকে বেছে বেছে বের করে দেওয়া হবে এবং একজনকে নতুন করে এই রাজ্যে ঢুকতে দেওয়া হবে না,”—বলেন শাহ।
অপারেশন সিঁদুর ও সন্ত্রাসবাদ দমন
নরেন্দ্র মোদী সরকারের কঠোর নিরাপত্তা নীতির প্রশংসা করতে গিয়ে শাহ ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর প্রসঙ্গ টানেন। তিনি দাবি করেন যে, সার্জিক্যাল স্ট্রাইক এবং সাম্প্রতিক এই অপারেশনের মাধ্যমে পাকিস্তানের জঙ্গি ঘাঁটিগুলো গুঁড়িয়ে দিয়ে ভারত তার শক্তি প্রমাণ করেছে। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে পহেলগামে হামলার পর ভারত এই ‘অপারেশন সিঁদুর’ পরিচালনা করেছিল।
উন্নয়ন ও তৃণমূলের সমালোচনা
অমিত শাহ তাঁর বক্তব্যে অভিযোগ করেন যে, তৃণমূল সরকারের আমলে পশ্চিমবঙ্গ ৮ লক্ষ কোটি টাকার ঋণে ডুবে থাকলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মাদ্রাসার জন্য ৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করেছেন। বিজেপি ক্ষমতায় এলে সরকারি কর্মচারীদের জন্য সপ্তম পে-কমিশন চালু করা, বেকারদের ৩ হাজার টাকা ভাতা এবং কেজির পর থেকে পিজি পর্যন্ত দরিদ্রদের বিনামূল্যে শিক্ষার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
নির্বাচনী প্রচারের এই পর্যায়ে অমিত শাহর এমন বিস্ফোরক মন্তব্য পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে বাবরি মসজিদ এবং অপারেশন সিঁদুর নিয়ে তাঁর বক্তব্য আগামী দিনগুলোতে শাসক-বিরোধী তরজাকে আরও বাড়িয়ে তুলবে বলে মনে করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন