প্রকাশিত: ২ ঘন্টা আগে, ০৪:৪৮ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
মহাকাশ বিজ্ঞানের ইতিহাসে এক বিরল ও রোমাঞ্চকর ঘটনার সাক্ষী হতে যাচ্ছে বিশ্ব। ‘গড অব ক্যাওস’ বা বিশৃঙ্খলার দেবতা নামে পরিচিত দানবীয় গ্রহাণু ‘অ্যাপোফিস’ আগামী তিন বছরের মধ্যে পৃথিবীর খুব কাছ দিয়ে অতিক্রম করবে। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞানীরা বিষয়টিকে মহাজাগতিক বস্তু পর্যবেক্ষণের এক অনন্য সুযোগ হিসেবে দেখছেন।
কাছে আসবে কিন্তু আঘাত করবে না
নাসার তথ্য অনুযায়ী, প্রাচীন মিসরীয় দেবতার নামানুসারে রাখা এই গ্রহাণুটি ২০২৯ সালের ১৩ এপ্রিল পৃথিবীর বুক চিরে দ্রুতগতিতে চলে যাবে। এটি পৃথিবী পৃষ্ঠ থেকে মাত্র ২০ হাজার মাইল দূর দিয়ে অতিক্রম করবে। বিষয়টি কতটা চমকপ্রদ তা বোঝা যায় একটি তুলনার মাধ্যমে—মহাকাশে সর্বোচ্চ উচ্চতায় থাকা স্যাটেলাইটগুলো পৃথিবী থেকে প্রায় ২২ হাজার মাইল দূরে অবস্থান করে। অর্থাৎ, ২০২৯ সালে অ্যাপোফিস আমাদের কৃত্রিম উপগ্রহগুলোর চেয়েও বেশি কাছাকাছি চলে আসবে।
বিপজ্জনক তকমা সত্ত্বেও স্বস্তির খবর
যদিও অ্যাপোফিসকে মহাকাশ বিজ্ঞানের ভাষায় ‘সম্ভাব্য বিপজ্জনক গ্রহাণু’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে, তবে নাসা স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে আগামী অন্তত ১০০ বছর এটি পৃথিবীর জন্য কোনো হুমকি তৈরি করবে না। দীর্ঘদিনের নিবিড় পর্যবেক্ষণের পর বিজ্ঞানীরা আশ্বস্ত করেছেন যে, পৃথিবী, এর বাসিন্দা, এমনকি মহাকাশ স্টেশনে থাকা নভোচারীদের জন্যও এটি কোনো বিপদের কারণ হবে না।
খালি চোখে দেখার বিরল সুযোগ
বিজ্ঞানীরা এই ঘটনাকে ‘অসাধারণ এবং নজিরবিহীন’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। সাধারণত এত বিশাল আকৃতির কোনো গ্রহাণু পৃথিবীর এত কাছাকাছি আসার ঘটনা খুব একটা ঘটে না। নাসা জানিয়েছে, আকাশ মেঘমুক্ত থাকলে এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে পূর্ব গোলার্ধের দেশগুলোর (যার মধ্যে এশিয়া ও আফ্রিকা অন্তর্ভুক্ত) বাসিন্দারা কোনো টেলিস্কোপ ছাড়াই খালি চোখে এই গ্রহাণুটি দেখতে পারবেন।
মহাকাশ গবেষণার জন্য এটি একটি আশীর্বাদ স্বরূপ। এর মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা পৃথিবীর কাছাকাছি থাকা অন্যান্য গ্রহাণুর গঠন এবং গতিপ্রকৃতি সম্পর্কে আরও সূক্ষ্ম ও নিখুঁত তথ্য সংগ্রহ করতে পারবেন। বিশৃঙ্খলার দেবতার এই শান্ত সফর মহাকাশপ্রেমীদের জন্য নিঃসন্দেহে ২০২৯ সালের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হতে যাচ্ছে।
মন্তব্য করুন