প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ০৪:১২ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে ইরানের ওপর সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক অংশীদার চীনের চাপ আরও জোরালো হচ্ছে। আজ বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ ফোনালাপে চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক করার আহ্বান জানিয়েছেন।
সংঘাত ও শান্তির সন্ধিক্ষণ
ফোনালাপে ওয়াং ই বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক অবস্থাকে অত্যন্ত সংবেদনশীল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি আরাগচিকে উদ্দেশ্য করে বলেন:
“বর্তমানে সার্বিক পরিস্থিতি বেশ জটিল একটি জায়গায় পৌঁছেছে। আমরা এখন সংঘাত এবং শান্তির মধ্যবর্তী একটি স্থানে আছি। এই স্থান থেকে শান্তিতে উত্তরণের পথ হতে পারে হরমুজ প্রণালিকে মুক্ত করে দেওয়া।”
চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্য স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, বেইজিং মনে করছে হরমুজ প্রণালির অবরোধ তুলে নেওয়াই এখন শান্তির পথে ফেরার প্রধান চাবিকাঠি।
সার্বভৌমত্ব বনাম নৌচলাচলের স্বাধীনতা
আলোচনায় ওয়াং ই একটি ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি একদিকে যেমন হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তাকে সম্মান জানানো এবং সুরক্ষিত রাখার কথা বলেছেন, অন্যদিকে এই আন্তর্জাতিক জলপথ দিয়ে নৌযান চলাচলের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপরও সমান গুরুত্ব দিয়েছেন। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে আরও জানানো হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার বর্তমান যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা এবং উভয় পক্ষ যাতে পুনরায় আলোচনার টেবিলে ফিরে আসে, সে বিষয়ে চীনের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে।
তেলের বাজার ও চীনের স্বার্থ
চীনের এই আহ্বানের পেছনে বড় ধরনের অর্থনৈতিক সমীকরণ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের তেল বিক্রির বাজার সংকুচিত হলেও চীন বর্তমানে ইরানি তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা। ইরানের মোট রফতানি করা তেলের প্রায় ৮০ শতাংশই ক্রয় করে বেইজিং। ফলে তেলের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে হরমুজ প্রণালি সচল রাখা চীনের জন্য কৌশলগতভাবে অপরিহার্য।
যদিও চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরাগচির প্রতিক্রিয়ার বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু জানায়নি, তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার হিসেবে চীনের এই সরাসরি আহ্বান তেহরানের ওপর বাড়তি মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করবে। আগামী ২২ এপ্রিল যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই এই কূটনৈতিক তৎপরতা কোনো ইতিবাচক ফলাফল বয়ে আনে কি না, তা এখন দেখার বিষয়।
মন্তব্য করুন