জবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৫ ঘন্টা আগে, ১১:১৭ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

প্রশাসনের পদত্যাগের দাবিতে জবি ছাত্রদলের বিক্ষোভ

সাংবাদিকদের ওপর শিবিরের নেতৃত্বে হামলার বিচার না করা এবং শিক্ষার্থীদের দাবি পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় জবি প্রশাসনের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল ও ছাত্রশক্তি।

‎রোববার (৮ মার্চ) বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্ত চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে বিজ্ঞান ভবন ঘুরে প্রশাসনিক ভবনের সামনে এসে সমবেত হয় শিক্ষার্থীরা।

বিক্ষোভ সমাবেশে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল বলেন, ৫ আগস্টের পর জামায়াত ও শিবিরের নেতাকর্মীরা গোপন রাজনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে অবকাশ ভবনের সংগঠনগুলো নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে গেছে। ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট প্রশাসনের সিলগালা করা তালা ভেঙে সমিতি দখল করে শিবিরের মদদপুষ্ট সাংবাদিকরা। 

‎তিনি আরও বলেন, জামায়াত-শিবিরের প্রেসক্রিপশনে বর্তমান উপাচার্য সাংবাদিক সমিতির জন্য নতুন গঠনতন্ত্র প্রণয়ন করেছেন, যেখানে শিক্ষক সমিতির সভাপতিকে উপদেষ্টা পরিষদ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। পূর্ববর্তী কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তড়িঘড়ি করে নির্বাচন দেওয়া হয়, যাতে শিবির ও জামায়াতপন্থী সাংবাদিকদের নেতৃত্বে আনা যায়। “আমরা ভিসি স্যারকে বলেছিলাম, সবাইকে নিয়ে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন দেওয়ার জন্য। কিন্তু তিনি তা করেননি। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ৫ মার্চ জামায়াত-শিবিরের নেতৃত্বে সাংবাদিকদের ওপর ন্যক্কারজনক হামলা হয়।

‎আবাসন ভাতার প্রসঙ্গ টেনে হিমেল বলেন, “জবিয়ানদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল আবাসন ভাতা। সেই দাবিতে তারা টানা তিন দিন যমুনার সামনে আন্দোলন করেন। আন্দোলনের ফল হিসেবে বিশেষ বৃত্তির ঘোষণা এলেও এক বছর পেরিয়ে গেলেও বর্তমান প্রশাসন তা বাস্তবায়ন করতে পারেনি।”

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব শামসুল আরেফিন বলেন, সাংবাদিকদের উপর জামাত শিবিরের যে ন্যক্কারজনক হামলা হয়েছে তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। এই হামলার পিছনে জামাতপন্থী ভিসির দায় আছে।

শাখা ছাত্র শক্তির আহ্বায়ক ফয়সাল মুরাদ বলেন, প্রশাসন আমাদের দাবি আদায়ে ব্যর্থ হয়েছে। আমরা যখন অনশন করেছিলাম প্রশাসন আমাদের কথা দিয়েছিলো জানুয়ারিতে সম্পূরক বৃত্তি না দিতে পারলে তারা পদত্যাগ করবে। শিক্ষার্থীদের দাবি পূরণে ব্যর্থতা এবং প্রশাসনিক অদক্ষতার কারণে আমরা জবি উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি করছি।

শাখা ছাত্রশক্তির মুখপাত্র ফেরদৌস শেখ বলেন, আমরা প্রশাসনের পদত্যাগের দাবি আজ নতুন করে করি নাই। আমরা অনেক আগ থেকে পদত্যাগের দাবি করে এসেছি।

‎এ সময় ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক, জাফর আহমেদ, সুমন সরদার , মো. মোস্তাফিজুর রহমান রুমি, মো.শাহরিয়ার হোসেন, মাহমুদুল হাসান, রবিউল আউয়াল, নাহিয়ান বিন অনিক, শাখাওয়াত হোসেন পরাগ, মিয়া রাসেলসহ ছাত্রদলের শতাধিক নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশক্তির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা।

উল্লেখ্য, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির নির্বাচনকে ছাত্রশিবিরের নেতৃত্বে সাংবাদিকদের ওপর হামলা হয়। হামলায় বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি মাহামুদুর রহমান নাজিদ, বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রতিনিধি মো. মিলন হোসেন, জনকণ্ঠের প্রতিনিধি ওমর ফারুক, দৈনিক যায়যায়দিনের প্রতিনিধি মিজান উদ্দিন মাসুদ, প্রথম আলোর প্রতিনিধি শাহাদাত হোসেন, দৈনিক বর্তমানের প্রতিনিধি মো. আরিফুল ইসলাম, দৈনিক তরুণকণ্ঠের প্রতিনিধি আবিদ হাসান বাঁধন, ব্রেকিং নিউজ ডটকমের প্রতিনিধি মো. ইয়াসিন সাইফ, বাংলাদেশ গার্ডিয়ানের হাবিবুর রহমান, রুপালি বাংলাদেশের নাফিজ উদ্দিন, রেডিয়ো টুডের আবুল হাসনাতসহ আরও কয়েকজন।

মন্তব্য করুন