প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ০২:১৪ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
স্ত্রী আফরা ইভনাথ খান ইকরার মৃত্যুকে ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন অভিনেতা জাহের আলভী। সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি দাবি করেছেন, এই ঘটনায় তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ফাঁসানোর চেষ্টা চলছে।
শুক্রবার (৬ মার্চ) রাত ১১টা ৩৫ মিনিটে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া পোস্টটিকে তিনি নিজের ‘শেষ পোস্ট’ বলে উল্লেখ করেন। সেখানে ঘটনার বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি স্ত্রীর অতীত সম্পর্কেও কিছু তথ্য তুলে ধরেন।
পোস্টে জাহের আলভী বলেন, তার বাসার ড্রয়িং ও ডাইনিংরুমে একটি সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে, যার নিয়ন্ত্রণ ছিল শুধুমাত্র ইকরার মোবাইল ফোনে। তার দাবি, গত ২৫, ২৬ ও ২৭ তারিখ রাতে ইকরার কয়েকজন বন্ধু বাসায় এসেছিলেন এবং মধ্যরাত পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করেন। ওই সময় তারা সিগারেট, গাঁজা ও মদ্যপান করেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
আলভীর ভাষ্য অনুযায়ী, মৃত্যুর আগের দিন ইকরা তার সহকারীকে দিয়ে ঘুমের ওষুধও আনিয়েছিলেন। তিনি দাবি করেন, সেটি সিসিটিভি ক্যামেরার আওতার মধ্যেই তার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল। সেই কারণে ফুটেজগুলো যেন কোনোভাবেই মুছে ফেলা বা নষ্ট করা না হয়, এ বিষয়েও তিনি অনুরোধ জানান।
স্ত্রীর মোবাইল ফোন ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এই অভিনেতা। তার দাবি, ইকরার ফোনটি বর্তমানে পুলিশের মাধ্যমে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
পোস্টে তিনি আরও বলেন, অতীতে ইকরার অন্য একটি বিয়ে হয়েছিল এবং পরে তিনি তার কাছে ফিরে আসেন। তবে এসব ঘটনার পরও তাদের মধ্যে ভালোবাসার সম্পর্ক ছিল বলেও উল্লেখ করেন আলভী।
নিজের বিরুদ্ধে ওঠা পরকীয়ার অভিযোগের জবাব দিতে গিয়ে আলভী প্রশ্ন তোলেন, ইকরার সঙ্গে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪১তম ব্যাচের ‘নাবিদ’ নামের এক সহপাঠীর সম্পর্ক কী ছিল। তিনি আরও দাবি করেন, ২০১০ সালে পালিয়ে বিয়ে করার পর ইকরার পরিবার তাকে না জানিয়েই ইকরাকে অন্য জায়গায় বিয়ে দেয়। যদিও পরে ইকরা তার কাছে ফিরে আসেন এবং তিনি তাকে ক্ষমা করে মেনে নেন বলে পোস্টে উল্লেখ করেন।
স্ট্যাটাসের শেষ দিকে জাহের আলভী আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ওপর মহলের চাপ, ইকরার পরিবারের প্রতিশোধপরায়ণতা এবং সহকর্মীদের বেঈমানির কারণে হয়তো তিনি নিরাপদ নন। একমাত্র সন্তানের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে তিনি সাধারণ মানুষ ও সাংবাদিকদের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রমাণগুলো খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান। পোস্টের শেষ অংশে তিনি সবার কাছে ক্ষমাও প্রার্থনা করেন।
মন্তব্য করুন