প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ০১:৫৪ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের উপসাগরীয় অঞ্চলে উৎপাদিত ভারী ধরনের অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে ২০২০ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ উৎপাদন কমিয়ে দেওয়ায় ক্রেতারা এখন বিকল্প হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের তেলের দিকে ঝুঁকছেন।
সংবাদমাধ্যম দ্যা ইকনমিক টাইমস এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
তেল ব্যবসায়ীদের বরাতে শুক্রবার (৬ মার্চ) জানানো হয়, মেক্সিকো উপসাগরে উৎপাদিত যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান ভারী তেল মার্স সাওয়ার ক্রুড যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই)-এর তুলনায় ব্যারেলপ্রতি ১১ ডলার বেশি দামে লেনদেন হয়েছে। ২০২০ সালের এপ্রিলের পর এটিই সর্বোচ্চ প্রিমিয়াম। আগের দিন বৃহস্পতিবারের তুলনায় দাম বেড়েছে প্রায় ৪ ডলার। এক সপ্তাহ আগেও এই প্রিমিয়াম ছিল মাত্র ১ দশমিক ৫০ ডলার।
শুধু মার্স সাওয়ার নয়, হেভি লুইজিয়ানা সুইট এবং ওয়েস্ট টেক্সাস সাওয়ারসহ যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য ভারী গ্রেডের তেলের দামও একই সময়ে বেড়েছে।
বিশ্ববাজারেও তেলের দামে ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। গত সপ্তাহে হামলার ঘটনার পর থেকেই আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়তে শুরু করে। শুক্রবার (৬ মার্চ) ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯২ দশমিক ৬৯ ডলারে স্থির হয়, যা ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর সর্বোচ্চ।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ইরাকসহ কয়েকটি দেশ উৎপাদন কমাতে বাধ্য হয়েছে। এতে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে ভারী ধরনের অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ কমে গেছে।
জ্বালানি বিশ্লেষক ম্যাট স্মিথ বলেন, “এসব তেলের ওপর নির্ভরশীল শোধনাগারগুলো বিকল্প খুঁজতে বাধ্য হচ্ছে।” তিনি জানান, এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রের উপসাগরীয় অঞ্চলের ভারী তেলের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে, বিশেষ করে এশিয়ার ক্রেতাদের মধ্যে।
অর্থনীতিবিদ টিম স্নাইডার বলেন, “শীত শেষে গাড়ি চলাচলের মৌসুম শুরু হওয়ায় তেলের চাহিদাও বাড়ছে।” তবে তার মতে, মূলত যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সরবরাহে বিঘ্নই দামের উত্থানের প্রধান কারণ। তিনি সতর্ক করে বলেন, “হরমুজ প্রণালী স্বাভাবিকভাবে খুলে না দেওয়া পর্যন্ত স্বল্পমেয়াদে তেলের দাম বাড়তেই থাকবে।”
মন্তব্য করুন