প্রকাশিত: ৩ ঘন্টা আগে, ০২:২৪ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
মধ্যপ্রাচ্যে দ্রুত বিস্তৃত হতে থাকা সংঘাত নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, চলমান হামলা ও পাল্টা হামলার ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।
শুক্রবার (৬ মার্চ) এক বক্তব্যে তিনি অঞ্চলজুড়ে চলমান হামলাগুলোকে ‘বেআইনি’ আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জানান। জাতিসংঘ সদর দফতর থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ তথ্য জানিয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় ব্যাপক বিমান হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি বাহিনী। এর জবাবে ইরানও ইসরাইল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশে পাল্টা হামলা শুরু করে। ওয়াশিংটনের দাবি, তেহরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি থেকে উদ্ভূত হুমকি ঠেকাতেই এই সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
এদিকে হামলার পর ইরানের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হচ্ছে। একই সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের কাছে ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’-এর দাবি তুলেছেন।
এই প্রেক্ষাপটে গুতেরেস বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্য ও এর বাইরে চলমান সব বেআইনি হামলা ওই অঞ্চলের সাধারণ মানুষের জন্য চরম দুর্ভোগ ও ক্ষতির কারণ হচ্ছে। এটি বিশ্ব অর্থনীতি, বিশেষ করে অসহায় মানুষের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করেছে।’
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, ‘পরিস্থিতি সবার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। এখন লড়াই থামানোর এবং গুরুত্বের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা শুরু করার সময়।’
সংঘাতের মানবিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা বিষয়ক প্রধান টম ফ্লেচার। শুক্রবার তিনি বলেন, ‘আমরা দেখছি যে, এই যুদ্ধে ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে প্রতিদিন প্রায় ১০০ কোটি ডলার অর্থাৎ রেকর্ড পরিমাণ অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে। অথচ রাজনীতিবিদরা অসহায় মানুষের জন্য বরাদ্দ করা সহায়তা তহবিল কাটছাঁট করার বড়াই করছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা প্রযুক্তি ও বিচারহীনভাবে মানুষ হত্যার এক ভয়াবহ সমন্বয় দেখছি।’
ফ্লেচার সতর্ক করে বলেন, ‘মানুষের ধ্বংসাত্মক প্রবৃত্তি ও বেপরোয়া যুদ্ধ ঠেকাতে যে সব আইন ও ব্যবস্থা রয়েছে, সেগুলোর ওপর এখন লাগাতার আঘাত করা হচ্ছে।’
এই সংঘাতের অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তার মতে, যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক বাজার ব্যবস্থা ও সরবরাহ চেইন ব্যাহত হচ্ছে এবং খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ছে। এতে সবচেয়ে অসহায় মানুষগুলোই আগে এবং সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
মন্তব্য করুন