প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ০৬:২২ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
ভারতের পারমাণবিক শক্তি কর্মসূচিতে এ সপ্তাহে এক যুগান্তকারী অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। তামিলনাড়ুর কালপাক্কামে সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত প্রোটোটাইপ ফাস্ট ব্রিডার রিয়্যাক্টর প্রথমবারের মতো 'ক্রিটিক্যালিটি' অর্জন করেছে, অর্থাৎ রিয়্যাক্টরটিতে সফলভাবে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ পারমাণবিক শৃঙ্খল বিক্রিয়া শুরু হয়েছে।
এই সাফল্যকে ভারতের বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচির এক 'নির্ণায়ক পদক্ষেপ' হিসেবে বর্ণনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ তিনি জানান, এই অগ্রগতি ভারতের দীর্ঘমেয়াদী তিন স্তরের পারমাণবিক কৌশলের দ্বিতীয় ধাপকে এগিয়ে নিয়ে গেল এবং দেশটিকে তার বিশাল থোরিয়াম ভাণ্ডার ব্যবহারের আরও কাছাকাছি পৌঁছে দিল।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থাও এই অর্জনের প্রশংসা করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, নবায়নযোগ্য জ্বালানির পাশাপাশি কার্বনমুক্ত ও নির্ভরযোগ্য শক্তির উৎস হিসেবে পারমাণবিক শক্তির গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে।
থোরিয়ামের মজুদে ভারত বিশ্বে শীর্ষে রয়েছে। ওয়ার্ল্ড নিউক্লিয়ার অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির কাছে রয়েছে ৮ লাখ ৪৬ হাজার টন থোরিয়াম, যা বিশ্বের মোট মজুদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। তালিকায় পরের অবস্থানে আছে ব্রাজিল (৬ লাখ ৩২ হাজার টন), অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র (প্রতিটি ৫ লাখ ৯৫ হাজার টন)।
বর্তমানে ভারতে সাতটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু রয়েছে, যেগুলো মিলিয়ে মোট প্রায় ৮.৮ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। এর মধ্যে তামিলনাড়ুর কুদানকুলাম ২ হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতা নিয়ে বৃহত্তম। গত দুই দশকে দেশটির পারমাণবিক শক্তি উৎপাদন তিনগুণেরও বেশি বেড়েছে , ২০০৫-০৬ অর্থবছরে যা ছিল ৪.৪৯ এমটিওই, তা ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২.৪৯ এমটিওই-তে।
মন্তব্য করুন