প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ০৬:১৪ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
বিশ্বখ্যাত মার্কিন পপ তারকা কেটি পেরি আবারও যৌন অসদাচরণের গুরুতর অভিযোগের মুখে পড়েছেন। এবার তাঁর বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন ‘টিনএজ ড্রিম’ মিউজিক ভিডিওর সহ-অভিনেতা জোশ ক্লোস। ২০১২ সালের একটি ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে তিনি একে ‘নীরব ট্রমা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ায় অভিনেত্রী রুবি রোজের করা পৃথক অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
শুক্রবার ‘পেজ সিক্স’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ৪৫ বছর বয়সী ক্লোস অভিযোগ করেন, ২০১০ সালে ‘টিনএজ ড্রিম’ ভিডিওতে একসঙ্গে কাজ করার দুই বছর পর পেরির এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুর জন্মদিনের পার্টিতে এ ঘটনা ঘটে। তিনি বলেন, ‘আমি যখন এক বন্ধুর সঙ্গে তাকে অভিবাদন জানাতে গেলাম, তিনি কোনো সতর্কতা ছাড়াই হঠাৎ আমার প্যান্ট টেনে নামিয়ে দিলেন। আমি হতভম্ব হয়ে চিৎকার করে উঠি, কিন্তু তিনি শুধু হাসছিলেন।’
ক্লোস জানান, ২০১৯ সালে প্রথমবার ইনস্টাগ্রামে এ ঘটনা প্রকাশ করলে তাঁকে উপহাস ও অবজ্ঞার শিকার হতে হয়। অনেকে বলেছিলেন, পেরির মতো তারকার কাছ থেকে এমন আচরণ পাওয়া ‘ভাগ্যের ব্যাপার’। এ প্রসঙ্গে ক্লোস বলেন, ‘যাকে আমার কৃতজ্ঞতা জানানো উচিত ছিল, তিনি তার ঘনিষ্ঠদের সামনে আমাকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে অপমানিত ও লাঞ্ছিত করেছেন। আমি কেন এর জন্য কৃতজ্ঞ থাকব? জনসমক্ষে সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হলো মানুষ যখন আপনাকে বিশ্বাস করতে চায় না।’
এদিকে ২০২০ সালে ‘দ্য গার্ডিয়ান’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পেরি সরাসরি এ অভিযোগের জবাব না দিয়ে বলেছিলেন, ‘আমরা এমন এক পৃথিবীতে বাস করি যেখানে যে কেউ যা খুশি বলতে পারে। আমি আমার সম্পর্কে বলা সব কথার প্রতিক্রিয়া দেখাই না, কারণ সত্য-মিথ্যা প্রমাণ করতে গেলে আমার পুরো জীবন সেসবের পেছনেই ব্যয় করতে হবে।’
এসব অভিযোগ এমন সময় সামনে এল যখন অস্ট্রেলীয় অভিনেত্রী রুবি রোজের করা যৌন হেনস্থার অভিযোগে পেরি ইতোমধ্যেই চাপে রয়েছেন। চলতি মাসের ১১ এপ্রিল রুবি রোজ অভিযোগ করেন, ২০১০ সালে মেলবোর্নের এক নাইটক্লাবে পেরি তাঁকে যৌন হেনস্থা করেছিলেন। ভিক্টোরিয়া পুলিশ নিশ্চিত করেছে, মেলবোর্নের ‘সেক্সুয়াল অফেন্সেস অ্যান্ড চাইল্ড অ্যাবিউজ ইনভেস্টিগেশন টিম’ এই পুরনো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। তবে পেরির মুখপাত্র এ অভিযোগকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ এবং ‘বিপজ্জনক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন মিথ্যাচার’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
মন্তব্য করুন